পঁচিশে বৈশাখ ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ, নবান্নে শমীক, ‘বন্দে মাতরম’- এর নতুন আইন
- The Conveyor
- May 6
- 2 min read

কলকাতা, ৬ মে, ২০২৬: আগামী ৯ মে, পঁচিশে বৈশাখ ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে হবে রাজ্যের নয়া মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। এ নিয়ে রাজ্যের মুখ্যসচিবের সঙ্গে আলোচনার জন্য নবান্নে গেলেন শমীক ভট্টাচার্য। নবান্নে আসেন বঙ্গ বিজেপির শমীক ভট্টাচার্য-সহ পদ্মশিবিরের একাধিক নেতা। সূত্রের খবর, শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ হাজির থাকবেন। সেই পরিস্থিতিতে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানের খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে নবান্নে মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিওয়ালার সঙ্গে বৈঠক করেছেন শমীক।
ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়েও কড়া বার্তা দিয়েছেন বঙ্গ বিজেপির সভাপতি। নবান্নে যাওয়ার পথে শমীক আবার ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘‘বিজেপির পতাকা নিয়ে কেউ যদি তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করে, তার দায় এই মুহূর্তে বিজেপি নেবে না। কারণ, এখনও আমরা ক্ষমতায় আসিনি।’’ তিনি বলেন, এই ‘ব্রিদিং টাইম’এ রাজ্যপাল এবং নির্বাচন কমিশনকে দায়িত্ব নিতে হবে— তৃণমূলকে তৃণমূলের হাত থেকে বাঁচানোর দায়িত্ব। শমীকের দাবি, রাজ্যে ভোট-পরবর্তী হিংসার নামে যা হচ্ছে, তা আদতে তৃণমূল বনাম তৃণমূলের লড়াই। আর যাঁরা ক্ষমতার রদবদল হচ্ছে দেখে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি হয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেককে দল থেকে বিদায় জানানো হবে। তিনি আরও বলেন, "অনেকে নিজেদের রক্ত-ঘাম দিয়ে বিজেপিকে তৈরি করেছেন। ’৮০-’৯০ সাল থেকে বিজেপির যখন কিচ্ছু ছিল না, ওই ব্যক্তিদের রক্ত-ঘামে বিজেপি তৈরি। এই পার্টির তৃণমূলীকরণ আমি হতে দেব না। যেখানে যেখানে হামলা হচ্ছে... প্রয়োজনে আমি রাস্তায় নামব।’’ শমীকের কথায়, ‘‘বিজেপির যত বড় নেতাই হোন, কেউ এ রকম করলে তাঁকে আমরা অ্যারেস্ট করাব। ছবি দিন, নাম দিন। আমি কথা দিচ্ছি ব্যবস্থা নেব। নইলে আমি সভাপতির পদ থেকে চলে যাব।’’
বিজেপি সূত্রে খবর, আগামী শনিবার মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ উপস্থিত থাকবেন। তবে মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হলেও সরকারি ভাবে নাম বলতে নারাজ বিজেপি নেতৃত্ব। অনুষ্ঠানে অনেক ভিভিআইপির উপস্থিতির কথা মাথায় রেখে আগামী শনিবার নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হচ্ছে কলকাতাকে। প্রায় ৪০০০ পুলিশকর্মী সে দিন থাকবেন নিরাপত্তার দায়িত্বে। ব্রিগেড এবং তার সংলগ্ন ময়দান এলাকায় নিরাপত্তায় জোর দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ। এ ছাড়াও, কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত সিপি, যুগ্ম সিপি এবং ডিসিরাও থাকবেন। পুরো এলাকা কয়েকটি ভাগে ভাগ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়েছে বলে খবর কলকাতা পুলিশ সূত্রে। এলাকার বিভিন্ন বহুতল থেকে নজরদারি চালানো হবে। বিভিন্ন জায়গায় আকাশ থেকে নজরদারি চালানো হবে। রাস্তায় থাকবে ‘কুইক রেসপন্স টিম’ও। পুলিশ ছাড়াও নিরাপত্তা বলয়ে থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনীও।
এদিকে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘বন্দে মাতরম’ এ বার জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর সমমর্যাদা পেতে চলেছে। বুধবারই এই সিদ্ধান্তে সিলমোহর দিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভা। কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে Prevention of Insults to National Honour Act, 1971- এ সংশোধন আনা হবে। সংশোধনের পর ‘বন্দে মাতরম্’-এর প্রতি অসম্মান বা গান চলাকালীন বিঘ্ন ঘটানো আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। যেমনটা বর্তমানে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’- এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়। এই গানের প্রতি অবমাননা করলে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানা কিংবা উভয়ই হতে পারে।









Comments