top of page

দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করল ইরান- আমেরিকা, হরমুজও খুলতে রাজি হয়েছে তেহরান



৮ এপ্রিল, ২০২৬: ট্রাম্পের ইরানি সভ্যতা ধ্বংস করে দেবার হুমকিতে গোটা বিশ্ব আলোড়িত হয়েছিল গতকাল। আন্তর্জাতিক মহলের অনেকেরই অনুমান ছিল, ট্রাম্পের হুমকিতে মাথানত করবে না ইরান। কিন্তু নিজের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার ঘণ্টা দেড়েক আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়ে দিলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সমঝোতা হয়েছে। পাশাপাশি হরমুজও খুলতে রাজি হয়েছে তেহরান। মাঝের ১০ ঘণ্টা ২৬ মিনিটে কী এমন ঘটেছে যে, দুই দেশই আলোচনার টেবিলে বসতে রাজি হলো? স্পষ্ট উত্তর এখনও মেলেনি। এই পদক্ষেপের সূচনা করে পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্ব। অন্যদিকে শেষ মোক্ষম প্যাঁচটা দিয়েছে চিন। মঙ্গলবার ভারতীয় সময় গভীর রাতে একাধিক ফোনকলে ওঠা আলোচনাই মোক্ষম চাল হয়ে দাঁড়াল। আর সেই বুদ্ধিমত্তার চালেই কথায় কথায় মিলল সমাধানসূত্র। এমনটাই জানা যাচ্ছে। ট্রাম্প নিজে জানিয়েছেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সে দেশের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের মধ্যস্থতায় দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। ইরানও বিবৃতি দিয়ে যুদ্ধবিরতির কথা স্বীকার করেছে। এ-ও জানিয়েছে, হরমুজ খুলছে।

পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগর (আরর সাগরের অংশ) সংযোগরক্ষাকারী জলপথ খুলে যাওয়ার এই সম্ভাবনায় বুধবার স্বস্তি প্রকাশ করেছে ভারতীয় রফতানিকারক সংস্থাগুলির সংগঠন ‘ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজ়েশনস’ (এফআইইও)। তাদের আশা, হরমুজ খোলার ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল এবং অন্যান্য পণ্য পরিবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হবে। হরমুজ প্রণালী আবার চালু হওয়ার ফলে পেট্রোপণ্যের সরবরাহ-শৃঙ্খল পুরনো গতিতে ফিরবে বলে এফআইইও-র দাবি। তবে সেই সঙ্গেই ভারতীয় রফতানিকারকদের আশঙ্কা, কোনও কারণে ‘অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি’ ভেস্তে গেলে সরবরাহ শৃঙ্খলের বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটবে আবার।

দুই দেশ আপাতত দু’সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতির পথে হাঁটল। তবে এই পথে হাঁটতে আমেরিকার কাছে ১০ দফা শর্ত রেখেছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আপাতত দু’সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতি চলবে। ইরানের পাঠানো শর্ত নিয়ে আলোচনা চলছে। সেই আলোচনা ফলপ্রসূ হবে বলেই আশা প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প। শুধু তা-ই নয়, তিনি এ-ও দাবি করেছেন, যে শর্ত তাঁদের হাতে এসেছে, সেগুলির বেশির ভাগই দু’দেশ মানতে সম্মত হয়েছে।

পাকিস্তানের মাধ্যমে আমেরিকার কাছে রাখা ১০ দফা প্রস্তাবগুলি হল- হরমুজ প্রণালী তারা খুলে দিলেও ওই প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ থাকবে ইরান বাহিনীর হাতেই। ইরান এবং তার সহযোগী গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে হামলা বন্ধ করতে হবে। আরও বলা হয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে আমেরিকার যে সব সেনাঘাঁটি আছে, সেখান থেকে সব সেনাকে সরাতে হবে। এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা সামরিক সংঘাতে ইরানের যা ক্ষতি হয়েছে, সেই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে আমেরিকাকে। রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে তাদের বিরুদ্ধে যতগুলি প্রস্তাব পাশ করানো হয়েছে সেগুলি খারিজ করতে হবে। হামলা না করার প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। তাদের হাতে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে নাক গলাবেনা আমেরিকা। আন্তর্জাতিক পরমাণু সংস্থার বোর্ড অফ গভর্নর তাদের বিরুদ্ধে যে সব প্রস্তাব পাশ করিয়েছে, সেগুলি সব খারিজ করতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞাও তুলে নিতে হবে।

বস্তুত, গত ফেব্রুয়ারি মাসে (২৮ ফেব্রুয়ারি) আমেরিকা-ইজরায়েল হামলা চালানোর পরেই হরমুজ অবরুদ্ধ করে দেয় ইরান। তার পর প্রাথমিক ভাবে কোনও কোনও দেশের জাহাজেরই হরমুজ পেরোনোর অনুমতি ছিল না। পরে অবশ্য় সেই নিষেধাজ্ঞা খানিক শিথিল হয়। ভারত, পাকিস্তান, রাশিয়া এবং চিন-সহ পাঁচ দেশের জাহাজকে প্রণালী পেরোনোর ছাড়পত্র দেয় তেহরান।


 
 
 

Comments

Rated 0 out of 5 stars.
No ratings yet

Add a rating

Top Stories

প্রতিদিনের খবর এবং বিভিন্ন ফিচার ভিত্তিক লেখা, যেখানে খবরের সত্যতা তথা লেখনীর উৎকৃষ্টতা প্রাধান্য পায়। ফিচার ছাড়াও যে কোনও রকম লেখনী শুধুমাত্র উৎকৃষ্টতার নিরিখে গুরুত্ব পাবে এই সাইটে

Thanks for subscribing!

  • Whatsapp
  • Youtube
  • Instagram
  • Facebook
  • Twitter

The Conveyor

bottom of page