ডিএ নিয়ে সুপ্রিম নির্দেশ

৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬: ডিএ সংক্রান্ত মামলায় বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিল মহার্ঘ ভাতা পাওয়া সরকারি কর্মীদের আইনি অধিকার। পাশাপাশি রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ মেটানো নিয়ে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিল সর্বোচ্চ আদালত। এই কমিটিই রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে ডিএ দেওয়ার বিষয়টি স্থির করবে। এ ছাড়াও অবিলম্বে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের যে বকেয়া ডিএ ছিল, তার ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে চার সদস্যের কমিটি হবে। কমিটিতে থাকবেন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রা। তিনিই কমিটির চেয়ারপার্সন হবেন।
বকেয়া কী ভাবে, কতগুলি কিস্তিতে দিতে হবে সে বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে ওই কমিটি। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিল, তা পুরনো বকেয়া পরিশোধ সংক্রান্ত মামলাতেই। তবে কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের বর্তমানে যে ৪০ শতাংশ ডিএ-র ফারাক, তার সঙ্গে বৃহস্পতিবারের নির্দেশের কোনও সম্পর্ক নেই। এর মধ্যে টাকার অঙ্ক এবং বকেয়া টাকা মেটানোর দিন নির্ধারিত করতে হবে ৬ মার্চের মধ্যে। কমিটির নির্ধারিত প্রথম কিস্তির টাকা দিতে হবে ৩১ মার্চের মধ্যে।
গত বছর ১৬ মে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি করোল এবং বিচারপতি মিশ্রের এই বেঞ্চই রাজ্যকে বকেয়া পুরনো ডিএ-র ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। ছ’সপ্তাহের মধ্যে ওই নির্দেশ মানতে বলেছিল সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু ওই সময়সীমার মধ্যে কর্মচারীদের ডিএ দিতে পারেনি রাজ্য। আদালতের কাছ থেকে আরও ছ’মাস সময় চাওয়া হয়। সেই আবেদনের ভিত্তিতে আবার শুনানি শুরু হয় সুপ্রিম কোর্টে। গত ৮ সেপ্টেম্বর সেই শুনানিপর্ব শেষ হয়। রায়দান স্থগিত ছিল। শীর্ষ আদালত জানাল, গত বছর ১৬ মে ২৫ শতাংশ ডিএ দেওয়ার যে অন্তর্বর্তী নির্দেশ তারা দিয়েছিল, সেই নির্দেশটি অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মলহোত্রের নেতৃত্বে একটি কমিটি তৈরি হবে। থাকবেন ঝাড়খণ্ড হাই কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি তরলোক সিংহ চৌহান এবং ছত্তীসগঢ় হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি গৌতম ভাদুড়ি। এ ছাড়াও ওই কমিটিতে রাখা হবে কেন্দ্রের ‘কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল’-এর এক জন উচ্চপদস্থ আধিকারিককে। আদালত বলেছে, কমিটির মূলত দায়িত্ব হবে তিনটি। ১) মোট কত টাকা কত খেপে দেওয়া হবে তা স্থির করা, ২) কত দিনের মধ্যে, কত কিস্তিতে দেওয়া হবে তা স্থির করা, ৩) নির্দিষ্ট সময় অন্তর নির্ধারিত টাকা ছাড়া হচ্ছে কি না তা যাচাই করা। রাজ্য সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করেই সব কিছু নির্ধারণ করবে ওই কমিটি। আর এই পুরোটাই বকেয়া ডিএ-র ৭৫ শতাংশের জন্য প্রযোজ্য। বকেয়া ডিএ-র ৭৫ শতাংশের মধ্যে কমিটির নির্ধারণ করা প্রথম কিস্তির টাকাও মার্চের মধ্যে পরিশোধ করতে হবে রাজ্য সরকারকে। প্রথম কিস্তির টাকা পরিশোধের পর রাজ্যকে একটি স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিতে হবে আদালতে। কমিটি কী কী নির্ধারণ করেছে, টাকা দেওয়ার সময়সূচি এবং প্রথম কিস্তির দেওয়া হয়েছে কি না— ওই রিপোর্টে সব তথ্য জানাতে হবে। আগামী ১৫ এপ্রিল এই মামলার পরবর্তী শুনানি। আদালত আরও জানিয়েছে, কমিটির খরচও বহন করতে হবে রাজ্য সরকারকে।
২০২০ সালের আগে থেকে কর্মরত রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা ছাড়া, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীরাও এই রায় অনুযায়ী নিজেদের বকেয়া পাবেন। তবে ২০০৯ সালের পর যাঁরা অবসর নিয়েছেন তাঁদের জন্যই এই রায় প্রযোজ্য। অন্য দিকে, ২০১৯ সালের পর যাঁরা কাজে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই রায় প্রযোজ্য নয়। সুপ্রিম কোর্ট তার রায়ে বলেছে, ডিএ পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের আইনি অধিকার। তাঁরা ডিএ পাওয়ার যোগ্য। অল ইন্ডিয়া কনজিউমার্স প্রাইস ইনডেক্স (এআইসিপিআই) অনুযায়ী হিসাব করতে হবে ডিএ-র। রাজ্য নিজের মতো করে হিসাব করতে পারবে না।
এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে বিধানসভায় বাজেট অধিবেশনের পরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেন, "আমরা সুপ্রিম কোর্টের রায় পুরো রিভিউ করে দেখব।" সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর এদিনের বাজেটে রাজ্য সরকারী কর্মীদের জন্য চার শতাংশ বাড়তি ডিএ দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরে কী করা প্রয়োজন, তা খতিয়ে দেখবে এই কমিটি। সেই কমিটির পর্যালোচনার পরে রাজ্য সরকার পরবর্তী পদক্ষেপ করবে।









Comments