top of page

গ্রেফতার ইন্দ্রনীল সেন

4 days ago
2 min read


কলকাতা, ২৮ অক্টোবর ২০২৬: গ্রেফতার ইন্দ্রনীল সেন। বুধবার পুজোর পাস বিলি মামলায় সল্টলেকে সিজিও কমপ্লেক্সের ইডি দফতরে হাজিরা দেন চন্দননগরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক। বাইরে মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশবাহিনী। সিজিও কমপ্লেক্স থেকে বেরোতেই তাঁকে গাড়িতে তোলে কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের টিম। নিয়ে যাওয়া হয় লালবাজারে। প্রিভেশন অফ মানি লন্ডারিং অ্যাক্ট (PMLA)-এর অধীন ইডি তদন্ত চলাকালীন কলকাতা পুলিশের এই পদক্ষেপে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

রাজ্যের প্রাক্তন তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে দুর্গাপুজোর পাস বিক্রি করে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এর আগে একাধিক বার ইডি তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। ইডি সূত্রের খবর, তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ‘ম্যাসআর্ট’ (MassArt) নামের একটি সংস্থা, যা ইন্দ্রনীল সেনের স্ত্রী মধুছন্দা সেনের সঙ্গে যুক্ত। এই সংস্থাটি কলকাতার একাধিক নামী মণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রিভিউ শো-র আয়োজন করত। অভিযোগ উঠেছে, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে ১,৭৪৯ টাকা থেকে ৫,৪৯৯ টাকা পর্যন্ত দামে লক্ষাধিক টিকিট বিক্রি করা হয়েছিল। টিকিট বিক্রির বিশাল অংকের সেই টাকা নগদ হিসেবে তুলে নিয়ে বা বিবিধ খরচ দেখিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে। ইডি-র দাবি, ইন্দ্রনীল সেন মন্ত্রী পদে থাকার মেয়াদে তাঁর নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ‘অক্টেভ রেকর্ডস’ এবং ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩.৮ কোটি টাকারও বেশি নগদ জমা পড়েছিল। তদন্তকারী সংস্থাটি আরও জানায়, অক্টেভ রেকর্ডস-এর অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রীর অ্যাকাউন্টে হস্তান্তর করা হয়েছিল, যা ইন্দ্রনীল সেন ‘রয়্যালটি’ (Royalty) বলে দাবি করেছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে ইডি-র অনুমান, ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। তাঁর কসবার বাড়ি এবং সিঙ্গুরের বাগানবাড়িতেও তল্লাশি হয়।

ইন্দ্রনীলের বিরুদ্ধে পুজোর পাসে দুর্নীতি সংক্রান্ত মূল অভিযোগটি দায়ের করা হয়েছিল কলকাতা পুলিশের কাছে। বৌবাজার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন জয়দীপ মুখোপাধ্যায় নামে এক ব্যক্তি। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। পরে ইডি-ও তদন্ত শুরু করে। ইডি এবং পুলিশের তদন্তের মধ্যেই আগাম জামিনের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ইন্দ্রনীল। কিন্তু সেখানে তাঁর আবেদন খারিজ হয়ে যায়। পরে সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ইন্দ্রনীল সুপ্রিম কোর্টে যান। কিন্তু এখনও শীর্ষ আদালতের রায় আসেনি। মঙ্গলবার ইন্দ্রনীলের মামলার শুনানি ছিল। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের এজলাসে মামলাটি উঠলে তিনি ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে সরে দাঁড়ান। ২০২৩ সাল থেকে চালিয়ে যাওয়া আইনি লড়াইয়ের পরে এই গ্রেপ্তারিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারী জয়দীপ মুখোপাধ্যায়।

এ দিন নবান্ন থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, কলকাতা পুলিশ নিশ্চয়ই তথ্যপ্রমাণ পেয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন তবু থেকে যায়। যারা ঋতব্রত তৃণমূলে যোগ দিলেন, কোনো অজানা কারনে জেলযাত্রা হলনা কেন তাদের?




 
 
 

Comments

Rated 0 out of 5 stars.
No ratings yet

Add a rating

Top Stories

প্রতিদিনের খবর এবং বিভিন্ন ফিচার ভিত্তিক লেখা, যেখানে খবরের সত্যতা তথা লেখনীর উৎকৃষ্টতা প্রাধান্য পায়। ফিচার ছাড়াও যে কোনও রকম লেখনী শুধুমাত্র উৎকৃষ্টতার নিরিখে গুরুত্ব পাবে এই সাইটে

Thanks for subscribing!

  • Whatsapp
  • Youtube
  • Instagram
  • Facebook
  • Twitter

The Conveyor

bottom of page