কল্যাণীতে প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
- The Conveyor
- 3 days ago
- 2 min read

কলকাতা, ২৬ মে, ২০২৬: কাকলি ঘোষ দস্তিদার সহ উত্তর ২৪ পরগনার ছয় তৃণমূল বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর প্রশাসনিক বৈঠকে। মঙ্গলবার কল্যাণীতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর প্রশাসনিক বৈঠক ছিল। এপিজে আব্দুল কালাম প্রেক্ষাগৃহে উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া ও হুগলি জেলার প্রশাসনিক আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক ছিল। আমন্ত্রিত ছিলেন ওই তিন জেলার বিধায়ক-সাংসদেরা। উত্তর ২৪ পরগনায় তৃণমূলের মোট ৯ জন বিধায়কের মধ্যে ৬ জন উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার ছাড়াও স্বরূপনগরের বীণা মণ্ডল, দেগঙ্গার আনিসুর রহমান ও হাড়োয়ার আবদুল মতিন, বাদুড়িয়ার বুরহানুল মুকাদ্দিম, বসিরহাট দক্ষিণের সুরজিৎ মিত্র এবং মিনাখাঁর উষারানি মণ্ডল।
স্বাভাবিক ভাবেই এই নিয়ে জল্পনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে অনেকেই দীর্ঘ ‘রাজনৈতিক সংস্কৃতি’র বদল হিসেবেও দেখছেন এই ঘটনাকে। এর আগে মুখ্য়মন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধী জনপ্রতিনিধিদের দেখা যেত না। বিজেপির দাবি, তাদের বিধায়কদের ডাকাই হত না। শুভেন্দু সেই ‘সংস্কৃতি’র বদল ঘটাচ্ছেন। প্রশাসনিক সমন্বয়ে জোর দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। বিরোধীদের কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে বৈঠকে যোগ দেওয়ার সময়ে কাকলি সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘প্রশাসন সকলের। এটা কোনও দলীয় বৈঠক নয়। প্রশাসনিক বৈঠকে তো আমি আসিই।’ নতুন সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল। তিনি বলেছেন, ‘প্রশাসনিক বৈঠকে বিরোধীরা থাকবেন, এটা ভালো। এটা মুখ্যমন্ত্রীর নীতিগত সিদ্ধান্ত।’
বুধবার থেকে শুরু হতে চলেছে নতুন সরকারি প্রকল্প ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর প্রাথমিক প্রক্রিয়া। মঙ্গলবার কল্যাণীতে উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া ও হুগলি জেলার প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক শেষে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বিকালে নবান্ন থেকে তিনি ও সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল একটি ফর্ম পাবলিশ করবেন। যে ফর্ম অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পেতে পূরণ করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এই বিষয়ে কালই বিস্তারিত বলা হবে। এনরোলমেন্ট যত তাড়াতাড়ি করবেন, তত দ্রুত বেনিফিট আমরা দিতে পারব। ৩ হাজার টাকা না ট্রান্সফার হওয়া পর্যন্ত লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকতে থাকবে।”
একইসঙ্গে সরকারি বাসে মহিলাদের বিনামূল্যে যাতায়াত নিয়েও নতুন ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। আপাতত বিনামূল্যে বাস পরিষেবা চালু করলেও পরে মহিলাদের জন্য কার্ড করে দেওয়া হবে। আমরা প্রাথমিকভাবে এই বিষয়ে আলোচনা করেছি।” স্মার্ট কার্ডের ব্যবস্থা করা হবে দ্রুত। বিনামূল্যে বাসে চড়ার পরিষেবা শুধুমাত্র রাজ্যের মহিলারাই পাবেন। অন্য রাজ্য থেকে এলে সেই সুবিধা নিতে পারবেন না। যে ১১ পরিচয় পত্র প্রত্যেকের থাকে, তার মধ্যে একটি সরকারি বাসে যাতায়াতের সময় কাছে রাখতে হবে। কন্ডাক্টর বাধ্যতামূলকভাবে সেই পরিচয় পত্র দেখবেন। যতই ভিড় হোক না কেন, সেই পরিচয় পত্র দেখাতে হবে কন্ডাক্টরকে। তারপর কন্ডাক্টর নিজের টিকিট পাঞ্চিং মেশিন থেকে একটি কুপন ইস্যু করবে ওই মহিলা যাত্রীর জন্য। প্রতিমাসে যে পরিমান টিকিট ইস্যু হবে, রাজ্য সরকার সমপরিমাণ টাকা গড় হিসেব ধরে পরিবহন দফতর বা নিগমকে দিয়ে দেবে।
এছাড়াও ঘোষণা করা হল মা ক্যান্টিনে এবার থেকে সপ্তাহে দু’দিন পাতে পড়বে মাছ-ভাত। শুভেন্দু এদিন বলেন, “আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি আপাতত প্রায় ৪০০ ক্যান্টিন চলছে রাজ্য জুড়ে। ক্যান্টিনের সংখ্যা আপাতত একই থাকছে। সব মা ক্যান্টিনেই সপ্তাহে দু’দিন করে মাছ-ভাত পাওয়া যাবে।” আগামী সপ্তাহেই এই নিয়ে দিন চূড়ান্ত করা হবে বলেও জানানো হয় আজ। মেনু বদলালেও পকেটের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে না সাধারণ মানুষের, দাম থাকছে সেই চেনা ৫ টাকাই। পাশাপাশি কল্যাণীতে প্রশাসনিক বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'স্কুল, কলেজ ও মন্দিরের এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে কোনও মদের দোকানকে অনুমতি দেওয়া হবে না। এই সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর করা হবে।' প্রশাসনের একাংশের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থানের আশপাশের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই পদক্ষেপ।
স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, স্বাস্থ্য দফতরের আওতা থেকে আলাদা করে একটি পৃথক আয়ুষ দফতর গঠন করা হবে। আয়ুর্বেদ, যোগ, ইউনানি, সিদ্ধ ও হোমিওপ্যাথি সংক্রান্ত পরিষেবাগুলিকে আরও বিস্তৃত করতে এই পদক্ষেপ।









Comments