top of page

ইরানের খার্গ আইল্যান্ডে হামলা, ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন ট্রাম্প 



৭ এপ্রিল, ২০২৬: ইরানের প্রধান তৈলভান্ডার খার্গ আইল্যান্ডে হামলা শুরু হয়েছে বলে খবর। খার্গের ৫০টি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। দাবি করেছে ইরানের সংবাদমাধ্যম মেহর। ডেডলাইন দিয়েছিলেন ৪৮ ঘণ্টার। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই ইরানকে কার্যত পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি পোস্ট করেছেন, ‘আজ রাতেই একটি আস্ত সভ্যতার মৃত্যু হবে।’ 

                     হরমুজ প্রণালী খোলার জন্য ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন তিনি। জানিয়েছিলেন, মঙ্গলবার রাত ৮টার (আমেরিকার সময় অনুযায়ী। ভারতীয় সময়ে বুধবার সকাল সাড়ে ৬টা) মধ্যে যদি ইরান কথা না শোনে, তবে তেহরানকে নরকে পাঠানো হবে। তবে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর এখনও হরমুজ ‘অবরোধ’ করে রেখেছে ইরান। সেই সময়সীমা শেষ হতে আর কয়েক ঘণ্টা বাকি। ট্রাম্প তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া বার্তায় জানিয়েছেন, এই পরিণতি তাঁর কাম্য নয়, তিনি চান না কোনও সভ্যতা পুরোপুরি ধ্বংস করে দিতে। তবে পরিস্থিতি যে জায়গায় পৌঁছেছে, তাতে এমনটা হতেই পারে। তাঁর মতে, ইরানে ‘রেজিম চেঞ্জ’ অর্থাৎ, নেতৃত্বের ‘আমূল পরিবর্তন’ ঘটলে সেই দেশে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসতে পারে। তাঁর দাবি, এর ফলে কয়েক দশকের ‘দুর্নীতি ও মৃত্যুর’ অবসান ঘটবে। তিনি ইরানের সকল মানুষের মঙ্গল কামনা করেছেন। পাশাপাশি হাঙ্গেরি সফরে গিয়ে আমেরিকান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, ‘বল এখন ইরানের কোর্টে। আজ রাত ৮টার মধ্যে আমরা তাদের জবাবের অপেক্ষায় আছি।’ তিনি আরও জানান, আমেরিকা এমন এক বিশ্ব চায় যেখানে তেল ও গ্যাসের অবাধ সরবরাহ থাকবে। এখন দেখার, ইরান এই চরম আল্টিমেটামের জবাব কী ভাবে দেয়।

                    অন্য দিকে, ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই ইরানের প্রধান তৈলভান্ডার খার্গ আইল্যান্ডে হামলা শুরু হয়েছে বলে খবর। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, খার্গের ৫০টি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। অনুমান, আমেরিকা এবং ইজরায়েলই যৌথ ভাবে এই হামলা চালিয়েছে। যদিও এই হামলার মূল লক্ষ্য খার্গের তেলের ভাণ্ডার ছিল নাকি সামরিক ঘাঁটি, তা এখনও স্পষ্ট নয়। খার্গ দ্বীপটি ইরানের মোট তেল রফতানির প্রায় ৯০ শতাংশ পরিচালনা করে, ফলে এখানে আঘাত হানলে দেশের জ্বালানি বাণিজ্যে বড় প্রভাব পড়তে পারে। তবে এই হামলার পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানও। সে দেশের রেভলিউশনারি গার্ড কোর জানিয়েছে, সংযম শেষ। তাদের দাবি, তারা আমেরিকা এবং তাদের বন্ধু দেশগুলির জ্বালানি পরিকাঠামো ধুলিসাৎ করতে পারে। সোমবারই আমেরিকার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব খারিজ করে দিয়েছিল ইরান। স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, এই অঞ্চল থেকে বিদেশি সৈন্য প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত কোনও স্থায়ী শান্তি আলোচনা সম্ভব নয়। তার পরেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, ‘এক রাতের মধ্যেই পুরো ইরানকে আমরা দখল করে নিতে পারি।’ আমেরিকার বক্তব্য, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে তারা হরমুজ প্রণালীর উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। 

                আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলি অসামরিক পরিকাঠামোতে সম্ভাব্য হামলা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে উভয় পক্ষকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। কিন্তু সংযত হওয়া তো দূর অস্ত, যত দিন যাচ্ছে, পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।


 
 
 

Comments

Rated 0 out of 5 stars.
No ratings yet

Add a rating

Top Stories

প্রতিদিনের খবর এবং বিভিন্ন ফিচার ভিত্তিক লেখা, যেখানে খবরের সত্যতা তথা লেখনীর উৎকৃষ্টতা প্রাধান্য পায়। ফিচার ছাড়াও যে কোনও রকম লেখনী শুধুমাত্র উৎকৃষ্টতার নিরিখে গুরুত্ব পাবে এই সাইটে

Thanks for subscribing!

  • Whatsapp
  • Youtube
  • Instagram
  • Facebook
  • Twitter

The Conveyor

bottom of page