অধিবেশনের শেষ দিনে বিল এনে দুর্নীতিবাজদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে
- The Conveyor
- 3 hours ago
- 2 min read

কলকাতা, ২৩ জুন, ২০২৬: এই অধিবেশনের শেষ দিনে বিল এনে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে। দুর্নীতি তোলাবাজির অভিযোগ থাকলে সম্পত্তি নিলামের সম্ভাবনা রাখবে সরকার। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে ফের দুর্নীতি নিয়ে তাঁর সরকারের ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতির কথা মনে করিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার শুভেন্দু আবার জানিয়ে দেন, তাঁর সরকার দুর্নীতি বরদাস্ত করবে না। তিনি বলেন, ‘‘অনেকেই ভাবছেন, দু’মাস জেলে থাকলাম, তার পর আইনি লড়াই করে জেল থেকে বেরিয়ে এলাম! তাঁদের মনে রাখতে হবে, এ বার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করব। সম্পত্তি নিলাম করব।’’
সোমবারই পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী সরকারের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তা নিয়ে আগামী ২৫ জুন পর্যন্ত আলোচনা চলবে। মঙ্গলবার বিধানসভায় রাজ্যপালের বাজেট-ভাষণের উপর বক্তৃতা করতে গিয়ে এমনই হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি আরও বলেন, ‘‘হরিশ চ্যাটার্জি, হরিশ মুখার্জি রোড-সহ আমতলার প্রাসাদগুলিতে কলকাতায় উড়ালপুলের নীচে থাকা মানুষদের থাকার ব্যবস্থা করব।’’ তৃণমূল জমানায় ১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনা, জলজীবন মিশন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার— সব ক্ষেত্রেই দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, 'এক বছরে বীরভূমের পাথর থেকে রেভিনিউ দিয়েছেন ৬০ কোটি টাকা। আর আমরা ৯ মে শপথ নেওয়ার পরে ১ মাসে রেভিনিউ দিয়েছি ৮৩ কোটি টাকা।’ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘বছরে ১২০০ কোটি রাজস্বের মধ্যে ১০০ কোটি জমা পড়ত সরকারের ঘরে (আগের সরকারের আমলে)। বাকি ১১০০ কোটি টাকা ক্যামাক স্ট্রিট হয়ে চলে যেত দুবাই।’’ নথি দেখিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছেন, আগের সরকারের আমলে বাণিজ্য সম্মেলনে ফিকিকে ৩২৪ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল নিয়ম বহির্ভূত ভাবে! রাজ্যের শিল্পায়ন প্রক্রিয়ায় এই বিপুল অঙ্কের আর্থিক তছরুপের অভিযোগ প্রমাণ হলে বড় আইনি বিপাকে পড়তে পারেন তৎকালীন প্রশাসনিক কর্তারা।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে এদিন শুভেন্দু কটাক্ষ করলে বিদ্রোহী তৃণমূলীরা বেরিয়ে যান। কিন্তু কালীঘাট তৃণমূলের কুণাল, শোভনদেব- রা কিন্তু বসে থাকেন। এটা একটি উল্লেখনীয় বিষয় ছিল আজকের বিধানসভায়। কুণালের দাবি যারা আসল তৃণমূল বলে নিজেদের পরিচয় দিচ্ছেন, মুখ্যমন্ত্রী যেন তাঁদের দুর্নীতির বিষয়েও তদন্ত করেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঋতব্রত, সন্দীপনদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলেই তদন্ত হবে।
মঙ্গলবার ফের অনুপ্রবেশ রোধে নিজের সরকারের কড়া অবস্থানের কথা জানান শুভেন্দু। বিএসএফ-কে কত জমি তুলে দেওয়া হয়েছে, সেই খতিয়ান তুলে ধরেন। বিএসএফ-কে ১৪২.৭৯ একর জমি হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ৬০০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকার কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ সম্পন্ন হবে। ১২টা হোল্ডিং সেন্টারে আরও ১৮০০ জন অপেক্ষা করছেন। রোজ ও পারে পাঠানো হচ্ছে।









Comments