রাজ্যে শুরু সারভাইক্যাল ক্যান্সারের প্রতিষেধক টিকাকরণ, সরকারি হাসপাতালগুলিতে ‘লাইভ মনিটরিং’ চালু
- The Conveyor
- 13 minutes ago
- 3 min read

কলকাতা, ৩০ মে, ২০২৬: কেন্দ্রের সহযোগিতায় শনিবার থেকে রাজ্যে শুরু হয়ে গেল বিনামূল্যে সারভাইক্যাল ক্যান্সারের প্রতিষেধক টিকাকরণ কর্মসূচি। বিধাননগর হাসপাতাল থেকে গোটা রাজ্যে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে নির্দিষ্ট বয়সের কিশোরীদের এই টিকা দেওয়া হবে। মূলত হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV) সংক্রমণ থেকে সুরক্ষা দিতে এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, রাজ্যের ২৩৫টি সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একযোগে এই টিকাকরণ কর্মসূচি শুরু করা হল শনিবার থেকে। আগামিদিনে ৮৮০টি কেন্দ্রে চলবে টিকাকরণ। ১৪-১৫ বছর বয়সি কিশোরীরা এই টিকা নিতে পারবে। শুভেন্দু আরও জানিয়েছেন, মোট ৭ লক্ষ ৭২ হাজার ৬৫০ ডোজ টিকা এসেছে বাংলায়, যা বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্যখাতে শুধু চিকিৎসা নয়, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। তাঁর মতে, অনেক ক্ষেত্রেই রোগ হওয়ার পর চিকিৎসার চেয়ে আগে থেকেই সচেতনতা এবং প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ বেশি কার্যকর। সেই কারণেই সার্ভাইক্যাল ক্যানসার প্রতিরোধে রাজ্যব্যাপী টিকাকরণ কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, সাধারণ মানুষের কাছে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং প্রতিরোধমূলক চিকিৎসার উপর জোর দেওয়াই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, জরায়ুমুখের ক্যানসার নারীদের মধ্যে অন্যতম সাধারণ ক্যানসার। সময়মতো টিকাকরণ এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এই রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তাই রাজ্যজুড়ে এই কর্মসূচি শুরু হওয়াকে জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। একইসঙ্গে SSKM হাসপাতালে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট ইউনিটের উদ্বোধন করেন তিনি। সেই সঙ্গে গত তিন সপ্তাহে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে নতুন সরকার কী কী করেছে, সেই খতিয়ানও দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার বিধাননগরের হাসপাতালে সরকারি কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবাল, রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য, স্থানীয় বিধায়ক শারদ্বত মুখোপাধ্যায় এবং ইন্দ্রনীল খাঁ। তাঁরা জানান, মহিলাদের যত ধরনের ক্যানসার হয়, জরায়ুমুখ ক্যানসার তার মধ্যে দ্বিতীয় বিপজ্জনক।
এছাড়াও রেফার রোগ দূর করতে কড়া পদক্ষেপ নিলেন রাজ্যের নয়া বিজেপি সরকার। রেফার সমস্যা মেটাতে এ বার যে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিতে চলেছে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর, তা স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ২৪ ঘণ্টার কন্ট্রোল রুম চালু করার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে ‘লাইভ মনিটরিং’ চালাবে স্বাস্থ্যভবন। কারও কোনও অভিযোগ থাকলে সেখানে ফোন করে জানাতে পারবেন। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘হাসপাতালে কোনও দালালচক্র যাতে না চলে, কোনও রোগীকে যাতে রেফার না করে দেওয়া হয়, তা দেখার জন্য আমরা পেশাদার লোক নিয়োগ করছি। এ বিষয়ে জ়িরো টলারেন্স নীতি নেবে সরকার।’’ ইতিমধ্যে এক মুমূর্ষু রোগীকে রেফার করার জন্য কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের সুপারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। রেফার সংখ্যা কমাতে বেড বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে রস্টার মেনে স্বচ্ছ ভাবে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়োগ করবে সরকার বলেও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। হাসপাতালে দালাল চক্র আছে কি না। ডাক্তাররা আছেন কি না। রোগীরা বেডে আছে কি না। কুকুর-বেড়াল ঘুরে বেড়াচ্ছে কি না, সব নজরে রাখা হবে।
মুখ্যমন্ত্রী রোগী রেফার রুখতে নেওয়া পদক্ষেপগুলির মধ্যে রয়েছে রাজ্য সরকারের থেকে এক টাকায় জমি নিয়ে গড়ে তোলা বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে নিয়েও বিশেষ সিদ্ধান্ত। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, এইসব বেসরকারি হাসপাতালগুলির ১৫ শতাংশ বেড সাধারণ মানুষ, অর্থনৈতিক ভাবে দুর্বল মানুষদের জন্য রাখতে হবে। তিনি বলেন,‘রাজ্যের সরকারি হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়লে, সে সময়ে ওই বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে রোগী পাঠানো হলে, তাদের ভর্তি নিতে হবে। এ ছাড়া বিনামূল্যে ওই রোগীদের চিকিৎসা পরিষেবা দিতে হবে বলেও আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
শুভেন্দু আরও জানিয়েছেন, রাজ্যের ছ’কোটির বেশি মানুষকে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে। হাসপাতালগুলির নাম দেওয়া হবে ‘আয়ুষ্মান মন্দির’। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পে এ বছরের জন্য ৯৭৬ কোটি টাকা কেন্দ্র বরাদ্দ করেছে কেন্দ্র। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়,‘শীঘ্র রাজ্যের ১ কোটি ৩৬ লক্ষ পরিবার ও ৬ কোটি মানুষকে আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় আনা হবে।’ এই মানুষরা গোটা ভারতের নির্দিষ্ট হাসপাতালগুলিতে পাঁচ লক্ষ টাকার বিমা সুরক্ষা পাবেন বলে জানান তিনি। যে সমস্ত পরিযায়ী শ্রমিকেরা বাইরের রাজ্যে কাজ করেন, তারাও আয়ুষ্মান ভারত-এর সুবিধা পাবেন বলেও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। উত্তরবঙ্গে এমস তৈরির জন্য জমি খুঁজছে সরকার। একইসঙ্গে শীঘ্র অমৃত প্রকল্পে ক্যান্সারের মতো দুরারোগ্য রোগের ওষুধও ৩০ শতাংশ ভর্তুকিতে পাওয়া যাবে বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎপ্রকাশ নাড্ডা ও স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর এ বছর থেকেই পশ্চিমবঙ্গে ন্যাশনাল হেলথ মিশন কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। এর জন্য কেন্দ্রের তরফে বরাদ্দ ২১০৩ কোটি টাকার মধ্যে ৫২৭ কোটি টাকা হাতে পেয়ে গিয়েছে রাজ্য সরকার বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এই খবরটাই আজকের মূল গঠনমূলক এবং রাজ্যের সাধারণ নাগরিকদের খবর বলে আমি বিবেচনা করলাম। তাই চারদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে মাতামাতির মধ্যেও সেই খবরকে আমল না দিয়ে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত এই গুরুত্বপূর্ণ খবরটিকেই আমি বেছে নিলাম আমার আজকের খবর হিসেবে।









Comments