'বৃহত্তর কলকাতার ২৮টি আসনের মধ্যে ২০টি আসনই চাই'- নতুন বছরের জন্য শাহ বেঁধে দিলেন টার্গেট

কলকাতা, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫: বছরের শেষদিনে মহানগরের বিজেপি কর্মীদের উপরে কার্যত চাপ বাড়িয়ে দিয়ে দিল্লি ফিরে গেলেন অমিত শাহ। রাজ্য বিজেপির চার মুখ শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার, দিলীপ ঘোষকে নিয়ে এ দিন আলাদা ভাবে বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এদিন বৃহত্তর কলকাতার ২৮টি আসনের মধ্যে ২০টি আসনই চাই, মহানগরে বসেই দলের নেতাদের টার্গেট বেঁধে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে দলের সমস্ত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, ‘তৃণমূলের সঙ্গে কোনও সমঝোতা নেই’।
সায়েন্স সিটি অডিটোরিয়ামে বুধবার দুপুরে কলকাতা ‘মহানগর কর্মী সম্মেলন’-এর আয়োজন করেছিল বিজেপি। উত্তর কলকাতা, দক্ষিণ কলকাতা, দমদম এবং যাদবপুর সাংগঠনিক জেলার বিজেপি কর্মীরা সেখানে ডাক পেয়েছিলেন। শক্তিকেন্দ্র (পাঁচ-সাতটি বুথ) এবং তদূর্ধ্ব স্তরের পদাধিকারীদের ডাকা হয়েছিল। শুরুতে সমাজমাধ্যমে বিজেপির ওই কর্মী সম্মেলনে নেতাদের ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছিল। কিন্তু শাহ প্রেক্ষাগৃহে পৌঁছোনের কিছুক্ষণের মধ্যেই তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিজেপি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে শাহ যে বার্তা দেবেন, তা সরাসরি সকলে জেনে যান, বিজেপি নেতৃত্ব সম্ভবত তা চাননি। বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, নিজের ভাষণে আসন সংক্রান্ত লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছেন তিনি।
সায়েন্স সিটি অডিটোরিয়ামের কর্মী সম্মেলন শেষ করে শাহ গিয়েছিলেন ঠনঠনিয়া কালীবাড়িতে পুজো দিতে। শাহের সেই যাত্রাপথে কংগ্রেস বিক্ষোভ দেখায়। তবে কলেজ স্ট্রিট এবং সূর্য সেন স্ট্রিটের মোড়ে লোহার ব্যারিকেড করে পুলিশ কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের আটকে দিয়েছিল। ফলে শাহের কনভয়ের সামনে তাঁরা যেতে পারেননি। ঠনঠনিয়ায় পুজো দেওয়াই ছিল এই সফরে শাহের শেষ কর্মসূচি। সেখান থেকে তিনি কলকাতা বিমানবন্দরে চলে যান।
এ দিন বৈঠক থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কলকাতার বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা বলেন, ‘কলকাতায় আমাদের যে চারটে সাংগঠনিক জেলা রয়েছে, সেই চারটে জেলায় ২৮টি আসন রয়েছে। ২৮টির মধ্যে ২০-এর বেশি সিট বিজেপিকে জিততে হবে। উনি চান, জয়টা সম্পূর্ণ হোক। আমরা জেলায় জেলায় তো জিতবই। এ জয় শুধু বাংলার সরকারের পরিবর্তনের জন্য নয়, সারা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’
এছাড়াও বৈঠক সূত্রে খবর, বিধায়কদের নিজের এলাকায় কাজ বাড়াতে বলা হয়েছে। সাপ্তাহিক অন্তত চার দিন নিজ এলাকায় থাকতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন অমিত শাহ। অন্তত পাঁচটি পথসভা করতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুনরায় টিকিট পেতে আগামী দু’মাসে যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে বিধায়কদের। নিজ এলাকায় বুথে নজর বাড়ানোর নির্দেশ। আগে বুথ সংগঠন, পরে জয়লাভ। এমনই বার্তা উঠে এসেছে আজকের বৈঠক থেকে।









Comments