top of page

বিজেপির নতুন কেন্দ্রীয় টিমে দুই বাঙালি- মধুছন্দা কর এবং মনোজ টিগ্গা

দিল্লি, ১৭ অগস্ট, ২০২৬: ছ’বছর পরে পশ্চিমবঙ্গের দুই প্রতিনিধি একসঙ্গে বিজেপির কেন্দ্রীয় পদাধিকারী মনোনীত হলেন। মধুছন্দা কর এবং মনোজ টিগ্গা। এ ছাড়াও, বিধানসভা ভোটে এ রাজ্যের অন্যতম দায়িত্বপ্রাপ্ত, ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব পেয়েছেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের পদ। এ বছর রাজ্যে বিজেপির বিপুল জয়ের পরে দলের সর্বভারতীয় নেতৃত্বে এ রাজ্যের গুরুত্ব যে বাড়তে চলেছে, সেটা এক প্রকার নিশ্চিতই ছিল। বাস্তবে হলও তাই। প্রথমবার ২০২০ সালে বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপির সর্বভারতীয় পদাধিকারী তালিকায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে একসঙ্গে দু’জন ঠাঁই পেয়েছিলেন। তারপর ২০২৬।

২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সর্বভারতীয় স্তরে সংগঠনকে ঢেলে সাজলেন ‘ক্যাপ্টেন’ নীতিন নবীন। সেই দলে বিজেপির জাতীয় সম্পাদকের পদ পেলেন আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গা। পাশাপাশি বিজেপির জাতীয় স্তরে নতুন সহ-সভাপতির পদ পেলেন চিকিৎসক মধুছন্দা কর। বর্তমানে রাজ্য বিজেপির চিকিৎসক সেলের সভাপতি তিনি। সুকান্ত মজুমদার পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি থাকাকালীন সহ-সভাপতি ছিলেন মধুছন্দা কর। শমীক ভট্টাচার্য সভাপতি হওয়ার পরে যে নতুন কমিটি গড়েন, তাতে আর মধুছন্দাকে রাখা হয়নি। এ বার তাঁকে সরাসরি দলের সর্বভারতীয় সহ সভাপতি করা হল। শমীকের কমিটিতে রাজ্য বিজেপির সহ সভাপতি হন মনোজ টিগ্গা। তাঁকে দলের সর্বভারতীয় সম্পাদক করা হয়েছে।

২০২০ সালে বিজেপিতে এলেও এই শিবিরের সঙ্গে ডাক্তার মধুছন্দার যোগাযোগ বহু বছরের। আরএসএস-এর ছাত্র সংগঠন এবিভিপির রাজ্য সহ সভাপতি ছিলেন এককালে। কিছুদিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকলেও ক্যান্সার রোগ বিশেষজ্ঞ মধুছন্দা ২০২০ সালে রাজ্য বিজেপির চিকিৎসক সেলের সহ আহ্বায়ক হন। তার কয়েক দিনের মধ্যেই রাজ্য কার্যকারিণীর সদস্য হন। ২০২২ সালে সুকান্তের কমিটিতে তাঁকে সহ সভাপতি করা হয়। মনোজ বিজেপিতে মধুছন্দার চেয়ে পুরনো। সংসদীয় রাজনীতির অভিজ্ঞতাতেও তিনি অনেকটাই এগিয়ে। ডুয়ার্সের মাদারিহাট ব্লকের প্রত্যন্ত গ্রামে মনোজের বাড়ি। জলপাইগুড়ির কলেজ থেকে স্নাতক স্তরের পড়াশোনা শেষ করেন। ২০০৪ সালে প্রথম বার আলিপুরদুয়ার লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হন, পরে ২০০৯ এবং ২০১১ তেও প্রার্থী হন, তবে জিততে পারেননি। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী হিসাবে মাদারিহাট থেকে জেতেন। তার পর থেকে আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০২১ সালে দ্বিতীয় বার জয়ী হন মাদারিহাটে। শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী দলনেতা হন, মনোজ হন বিরোধী দলের মুখ্য সচেতক। পরে আলিপুরদুয়ারে দলের হাল ফেরানোর জন্য মনোজকে জেলা বিজেপির সভাপতি করা হয়। ২০২৪ সালের ভোটে সে আসনে মনোজকেই প্রার্থী করা হয়। তিনি জিতে সংসদে পৌঁছোন। দলের রাজ্য সহ সভাপতি হন। এ বার হলেন কেন্দ্রীয় সম্পাদক।




সামনেই উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব-সহ একাধিক রাজ্যে নির্বাচন। তার আগে দলের নতুন সর্বভারতীয় টিম ঘোষণা করলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। এই রদবদলে যাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বসুন্ধরা রাজে এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। যদিও থেকে বাদ পড়েছে অমিত মালব্যর নাম। বিজেপির নতুন সোশ্যাল মিডিয়া কনভেনরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দীপক মাহাস্কে-কে। গেরুয়া শিবিরের আইটি সেলের প্রধান এখন থেকে তিনি। এর আগে মাহাস্কে রসায়নের অধ্যাপক ছিলেন বলে জানা যায়। নিতিন নবীনের নতুন টিমে একাধিক প্রবীণ নেতার পাশাপাশি তরুণ নেতাদেরও রাখা হয়েছে। নতুন জাতীয় সাধারণ সম্পাদকদের তালিকায় রয়েছেন-বিনোদ তাওড়ে, সুনীল বনসল, বিপ্লব কুমার দেব, স্মৃতি ইরানি, সতীশ পুনিয়া, গজেন্দ্র প্যাটেল, হরিশ দ্বিবেদী এবং সঞ্জয় ভাটিয়া। নতুন কমিটিতে কোষাধ্যক্ষ হলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। সামগ্রিক ভাবে নতুন তালিকায় অভিজ্ঞতা এবং নতুন প্রজন্ম—দুইয়ের সমন্বয় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। সংগঠনে রদবদলের পর নতুন এই নতুন কমিটি দ্রুত তাঁদের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।



 
 
 

Comments

Rated 0 out of 5 stars.
No ratings yet

Add a rating

Top Stories

প্রতিদিনের খবর এবং বিভিন্ন ফিচার ভিত্তিক লেখা, যেখানে খবরের সত্যতা তথা লেখনীর উৎকৃষ্টতা প্রাধান্য পায়। ফিচার ছাড়াও যে কোনও রকম লেখনী শুধুমাত্র উৎকৃষ্টতার নিরিখে গুরুত্ব পাবে এই সাইটে

Thanks for subscribing!

  • Whatsapp
  • Youtube
  • Instagram
  • Facebook
  • Twitter

The Conveyor

bottom of page