সুপ্রিম কোর্টে আলাদা মামলা দায়ের রাহুল গান্ধীর, যন্তর মন্তর এ আর করা যাবে না বিক্ষোভ

দিল্লি, ১২ অক্টোবর ২০২৬: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর -এ অনিয়মের অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে আলাদা মামলা দায়ের করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। মামলাকারী হিসেবে পিটিশনে নাম রয়েছে ইন্ডি জোটের আরও সাত নেতার। নির্বাচন কমিশেনর বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের হলো সোমবার। এই ইস্যুতে এ দিন কনট প্লেসের কাছ থেকে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব শুরু হয় মিছিল। ভগবান দাস মার্গ-এর কাছে দিল্লি পুলিশ এই মিছিল আটকে দেয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রাহুল গান্ধীর তরফে তাঁর আইনজীবী এই পিটিশন দাখিল করেছেন। এ বার সরাসরি রাহুল-সহ ইন্ডি জোটের নেতৃত্ব নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পিটিশন দাখিল করলেন।
প্রসঙ্গত সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র নেতানেত্রীরা। প্রধান বিচারপতির হাতে স্মারকলিপি তুলে দেওয়ার কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু বিরোধী নেতানেত্রীদের সঙ্গে দেখা করার সময় দেননি প্রধান বিচারপতি কান্ত। রবিবার বিরোধীদের আবেদন খারিজ করে দেন তিনি। যদিও তার পরেও সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে মিছিল করেন রাহুল গাঁধী, প্রিয়ঙ্কা বঢরা গাঁধী, নেহা বোরা, অখিলেশ যাদবেরা। তবে শেষপর্যন্ত সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছে যান রাহুলেরা। তার পরে সেখান থেকে বেরিয়ে রওনা দেন খড়্গের বাড়ির উদ্দেশে। সূত্রের খবর, সেখানে বৈঠক করবেন বিরোধী জোটের নেতারা। যদিও সেই মিছিল বা দিল্লিতে চলমান বিক্ষোভ, পুলিশি ধরপাকড় নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি প্রধান বিচারপতি। এক মামলার শুনানিতে এজলাসে বসে তাঁর পরামর্শ, রাজনীতিতে সুপ্রিম কোর্টকে জড়ানো উচিত নয়। উল্লেখ্য, এ দিন সকালেই প্রধান বিচারপতি জানিয়েছিলেন, বিষয়টি নিয়ে বিরোধীদের আইনের দ্বারস্থ হয় উচিত। সুপ্রিম কোর্টের দরজা সকল নাগরিকের জন্যেই খোলা রয়েছে। সেই অনুযায়ী এ দিন রাহুল-সহ বিরোধী নেতৃত্ব এই পিটিশন দাখিল করছেন বলেই ধারণা রাজনৈতিক মহলে।
এদিকে বিক্ষোভস্থল হিসেবে যন্তর মন্তরকে ‘ডিনোটিফাই’ করল দিল্লি পুলিশ। অর্থাৎ যন্তর মন্তরে আর কেউ বিক্ষোভ দেখাতে পারবেন না। দিল্লি পুলিশ কমিশনার ওই নির্দেশিকা জারি করেছেন। নতুন নির্দেশিকায় তিনটি বিকল্প জায়গার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান ও সিবিডি গ্রাউন্ডে বিক্ষোভ দেখাতে পারে কোনও দল বা সংগঠন। ২০২২ সালের এপ্রিলে যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভস্থল হিসেবে চিহ্নিত করে অর্ডার দেওয়া হয়েছিল। সেই অর্ডারেই এবার বদল আনা হয়েছে। তিনটি জায়গার বিক্ষোভের পৃথক পৃথক এসওপি পরবর্তীতে দেওয়া হবে পুলিশের তরফে। ওই তিনটি স্থানে প্রতিবাদ কর্মসূচি করতে হলে কী ভাবে অনুমতি নিতে হবে, বা কী কী করতে হবে, তা নিয়ে শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে নির্দেশিকা (এসওপি)। নতুন নির্ধারিত জায়গাগুলি সবই পুরনো দিল্লিতে। ফলে নতুন দিল্লিতে বিক্ষোভ দেখানোর জন্য কোনও জায়গা রইলনা। ককরোচ জনতা পার্টি জানিয়েছে, পুলিশ যে দিন নির্ধারণ করে দেবে, সেদিনই প্রতিবাদ কর্মসূচি করতে চায় তারা। এই বিষয়ে পুলিশের সঙ্গে ককরোচদের আলোচনা চলছে। তারই মধ্যে দিল্লি পুলিশের এই নির্দেশিকার বিরোধিতা করেছে সিজেপি। দীপকে এক্স অ্যাকাউন্টে পোস্ট দিয়ে লেখেন, ‘‘যন্তর মন্তরে আর প্রতিবাদ করতে দেবে না ওরা। এটা এখন আর প্রতিবাদস্থল নয়। ভিতু একনায়কের কারণে তা যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। এখন পুরো দেশ যন্তর মন্তর হবে।’’ সিজেপির তরফে সমাজমাধ্যমে পরে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। তাতে জানানো হয়, সেই যন্তর মন্তরেই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির অনুমতি চেয়ে তাদের তরফে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাতে সই রয়েছে মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কার। কবে কর্মসূচি করা যাবে, তা পুলিশকেই জানাতে বলা হয়েছে।









Comments