রাহুল, প্রিয়াঙ্কা আটক

দিল্লি, ৬ অক্টোবর ২০২৬: লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে আটক করল দিল্লি পুলিশ। একই সঙ্গে আটক করা হয়েছে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকেও। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার দিল্লির রাজপথে নেমেছিল ইন্ডিয়া জোট। নির্বাচন সদনে যাওয়ার পথে বাধা পেয়ে আকাশবাণী ভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন তাঁরা। সেখান থেকে মঙ্গলবার রাত ৮টা নাগাদ আটক করা হল রাহুল, প্রিয়ঙ্কাকে। সূত্রের খবর, উত্তর দিল্লির কিংসওয়ে শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাঁদের।
সংসদ ভবনের মকর দ্বার থেকে নির্বাচন কমিশনের দফতর নির্বচন সদন পর্যন্ত মিছিলের ডাক দিয়েছিল বিরোধীরা। কিন্তু কমিশন ভবনের কাছে পৌঁছতেই পুলিশি বাধায় থমকে যায় মিছিল। শুরু হয় ধস্তাধস্তি। ব্যারিকেডের উপর উঠে পড়েন রাহুল গান্ধী। হাতে তেরঙ্গা তুলে স্লোগান দেন তিনি।
জ্ঞানেশের অপসারণের দাবিতে বুধবার দিল্লি-সহ দেশের পাঁচটি শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে ‘ইন্ডিয়া’। রাজপথে আন্দোলন, সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি এ বার ‘ভোটচুরি’তে অভিযুক্ত মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবি রাষ্ট্রপতি ভবনে নিয়ে যাচ্ছে ‘ইন্ডিয়া’। অক্টোবরে বিভিন্ন কর্মসূচির পর ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে বড় সভার পরিকল্পনা রয়েছে। ২৫ ও ২৬ নভেম্বর ‘চলো দিল্লি’ কর্মসূচির কথাও জানিয়েছে কংগ্রেস। শীতকালীন অধিবেশনে বিষয়টি তুলে ধরে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার পরিকল্পনার কথাও প্রকাশ্যে এসেছে। অর্থাৎ, জ্ঞানেশ-কাণ্ডে দিল্লির রাজনৈতিক উত্তাপ আপাতত কমার কোনও লক্ষণ নেই।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠকেই জ্ঞানেশর অপসারণের দাবিতে সর্বাত্মক আন্দোলনের ঘোষণা করা হয়েছিল। মঙ্গলবার বিরোধী জোটের সাংসদেরা নির্বাচন সদন অভিযান করছেন। পাশাপাশি, রাষ্ট্রপতির কাছেও জ্ঞানেশের ‘বেআইনি কার্যকলাপ’-এর খতিয়ান পেশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই উদ্দেশ্যেই আগামী ৭ থেকে ৯ অক্টোবরের মধ্যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য সময় চেয়ে আর্জি জানিয়েছেন রাহুলেরা।
মঙ্গলবার সকাল ১১টা নাগাদ সংসদের মকরদ্বার থেকে নির্বাচন সদন অভিমুখে মিছিল শুরু করেন ‘ইন্ডিয়া’র প্রায় ৩০০ সাংসদ। তবে মঙ্গলবারের মিছিলে ডিএমকে এবং আম আদমি পার্টিকে দেখা যায়নি। আবার আগের বৈঠকে না থাকলেও সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব মিছিলে যোগ দেন। তৃণমূলের অভিষেকের উপস্থিতিও রাজনৈতিক ভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।









Comments