top of page

দিনভর ঘটনাবহুল রইল দিল্লি সহ বিভিন্ন শহর, আন্দোলন চলবে, জানালেন বিক্ষোভকারীরা

4 days ago
3 min read


দিল্লি, ১০ অক্টোবর ২০২৬: শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট নাগাদ ছেড়ে দেওয়া হল মমতাকে। মুক্তি দেওয়া হয়েছে তাঁর সঙ্গে আটক ডেরেক-সহ বাকি তৃণমূল নেতাদেরও। শনিবার সন্ধ্যায় যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে ককরোচ জনতা পার্টি ও বাম দলগুলি। অভিজিৎ দীপকে পুলিশের হাতে আটক করা হয়েছে। এই সময়ে অজিঙ্কা শিন্ডে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। রবিবারও রাস্তায় নেমে আন্দোলন চলবে বলে জানিয়েছেন তিনি। যতক্ষণ না পর্যন্ত জ্ঞানেশ কুমার ইস্তফা দিচ্ছেন, এই আন্দোলন চলবে বলে জানিয়ে দেন অজিঙ্কা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘিরে তোলপাড় রাজধানী। সিজেপি -এর আহ্বানে সাড়া দিয়ে রাস্তায় নেমেছে একাধিক বিরোধী দল। শনিবার দিল্লির রাস্তায় আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন দেশের চার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী-সহ একাধিক বিরোধী নেতা। সেই তালিকায় রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, পিনারাই বিজয়ন এবং মানিক সরকার। তবে সন্ধ্যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের হস্তক্ষেপে মুক্তি পেলেন আটক হওয়া আইনজীবীরাও। আটক প্রায় ৬,০০০ প্রতিবাদী! এদিকে শনিবার রাত ১০টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে দিল্লির ৪৫টি মেট্রো স্টেশন।

প্রায় চোদ্দ বছর পর অভূতপূর্ব প্রতিবাদ ও তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পুলিশি ক্র্যাকডাউন দেখল নয়াদিল্লি। রাজধানী শহরে যেন লকডাউন। সন্দেহ হলেই আটক করো, ভ্যানে তোলো, তার পর নিয়ে চলো ডিটেনশন সেন্টারে। বড় রকমের প্রতিবাদ জমাট বাঁধার আগেই যাঁদের ভ্যানে তুলে নিল পুলিশ তাঁদের কেউ সত্যিই বিক্ষোভে যোগ দিতে এসেছিলেন, কেউ এসেছিলেন খবর সংগ্রহ করতে, কেউ আবার দাবি করেছেন, আত্মীয়কে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই পুলিশ তাঁকে তুলে নিয়েছে! রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি রয়েছেন, অভিনেতা রাজ জুৎসি, সমাজমাধ্যমের কনটেন্ট নির্মাতা ধ্রুব রাঠী-সহ অন্তত ১৫ জন সাংবাদিক। সকালে ‘ককরোচদের’ প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে আটক হয়েছিলেন আইনজীবীরা। সুপ্রিম কোর্টের কাছ থেকে তাঁদের তুলে নিয়ে গিয়েছিল পুলিশ। এবং সেই সব আটক ব্যক্তিদের বাস ও ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে রাজধানীর বিভিন্ন অস্থায়ী ডিটেনশন সেন্টারে। দিল্লি শহরের ১৩টি জেলায় এই ডিটেনশন সেন্টারগুলি তৈরি করেছে পুলিশ। তার মধ্যে অন্যতম হল উত্তর দিল্লির ছত্রশাল স্টেডিয়াম এবং বাওয়ানার রাজীব গান্ধী স্টেডিয়াম। শনিবার দুপুরে ছত্রশাল স্টেডিয়ামে খেলোয়াড়দের অনুশীলন চলছিল। সেই সময়েই একের পর এক পুলিশের গাড়িতে ভরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল আটক করা ব্যক্তিদের। স্টেডিয়ামের ভিতরে তাঁদের পরিচয় ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করছিল পুলিশ। বস্তত আটক ব্যক্তিদের কোথায় রাখা হবে, তা নিয়েও একাধিকবার স্থান বদলের অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের গাড়ি থেকে সিপিএম কর্মী এ আর সিন্ধুর দাবি, আটক হওয়ার পর তাঁদের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ঘোরানো হচ্ছে। জানা গেছে, আরও একটি বাসে আসা বিক্ষোভকারীদের শালিমার বাগের একটি সরকারি স্কুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই স্কুলটিকেও অস্থায়ী আটককেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। মহালয়ার সকালে প্লেনের ভিতর থেকে অভিজিৎ দীপকে সহ অনেককে আটক করে দিল্লি পুলিশ। মূল নেতাদের আটক করায় অজিঙ্কা শিন্ডে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ককরোচ জনতা পার্টির তরফে। দিল্লি ছাড়াও মুম্বই সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে বিক্ষুব্ধদের আটক করা হয়েছে।

মূলত, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে এদিন ধরনার আয়োজন ছিল। যে ধরনায় অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ। গোটা দিন ধরে এই বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লি থেকে মুম্বই একাধিকজনকে আটক করেছে পুলিশ। সিজেপি-কে যন্তর মন্তরে কর্মসূচি পালনের অনুমতি দেওয়া হয়নি। কেন, তা ভিডিয়ো প্রকাশ করে জানাল দিল্লি পুলিশ। তাঁদের দাবি, অনুমতি চাইতে দেরি করা হয়েছে। ৭ অক্টোবর সৌরভ দাসের তরফে অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়। এখন যা নির্দেশিকা রয়েছে, সেই অনুসারে কর্মসূচির অন্তত ১০ দিন আগে অনুমোদন চাইতে হবে। সিজেপির প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘিরে শনিবার সকাল থেকে দিল্লি পুলিশি প্রস্তুতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বহুস্তরীয় নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয় যন্তর মন্তরের আশপাশের এলাকা। কর্মসূচির প্রত্যেক মুহূর্ত নজরবন্দি করতে ভিডিয়োগ্রাফার, চিত্রগ্রাহক রেখেছে পুলিশ। বহু পুলিশকর্মীর শরীরে বসানো হয় ক্যামেরা (বডিক্যাম)। দিল্লির আকাশজুড়ে ওড়ানো হয়েছে ড্রোন। সকাল থেকে যন্তর মন্তরের আশপাশে যেখানেই জমায়েতের চেষ্টা হয়েছে, সেখান থেকেই ধরে ধরে আটক করা হয়েছে।

অন্যদিকে এদিন সোনম ওয়াংচুক এক বার্তায় জানালেন, রবিবারের মধ্যে অভিজিৎ দীপকেদের না ছাড়লে আবার অনশন অথবা পদযাত্রা। কেন্দ্রকে হুঁশিয়ারি সোনম ওয়াংচুকের। সোমবার ফের রাস্তায় নামছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। দিল্লিতে বড়সড় মাপের বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিরোধী জোটের নেতারা। এ বার তাদের গন্তব্য সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিতে চান বিরোধী জোটের প্রতিনিধিরা। রাষ্ট্রপতি ভবনে যে প্রতিনিধিদল গিয়েছিল, সেই একই দল থাকবে এ ক্ষেত্রেও।




 
 
 

Comments

Rated 0 out of 5 stars.
No ratings yet

Add a rating

Top Stories

প্রতিদিনের খবর এবং বিভিন্ন ফিচার ভিত্তিক লেখা, যেখানে খবরের সত্যতা তথা লেখনীর উৎকৃষ্টতা প্রাধান্য পায়। ফিচার ছাড়াও যে কোনও রকম লেখনী শুধুমাত্র উৎকৃষ্টতার নিরিখে গুরুত্ব পাবে এই সাইটে

Thanks for subscribing!

  • Whatsapp
  • Youtube
  • Instagram
  • Facebook
  • Twitter

The Conveyor

bottom of page