
স্বর্ণালী গোস্বামী
26 Jul 2026
নতুন প্রজন্ম এগিয়ে যাও নতুন ভাষায়, দৃপ্ত ভঙ্গিতে। এগিয়ে চলো নিজেদের মতো করে ভয়- বাধা পেরিয়ে
দেশের পরীক্ষাব্যবস্থায় সংস্কারের লক্ষ্যে এ বার টাস্ক ফোর্স গঠন করার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। এর নেতৃত্বে থাকছেন তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা ইনফোসিস-এর সহ প্রতিষ্ঠাতা নন্দন নীলেকণি। রবিবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করে এই খবর জানালেন প্রধানমন্ত্রী। মোদী জানিয়েছেন, টাস্ক ফোর্সের প্রস্তাব মেনে আগামী পরীক্ষাগুলিতে স্বচ্ছতার বিষয়টি সুনিশ্চিত করবে সরকার। নিট-আন্দোলনের আবহে এই নিয়ে তিনটি ভিডিয়ো পোস্ট করলেন মোদী। টাস্ক ফোর্সে আরও থাকছেন ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো-র প্রাক্তন চেয়ারম্যান এস সোমনাথ, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা আইবি-র প্রাক্তন অধিকর্তা তপন ডেকা, আইআইটি চেন্নাইয়ের অধিকর্তা ভি কামাকোটি, দেশের প্রাক্তন শিক্ষাসচিব অনিতা কারওয়াল এবং প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ অমৃতলাল মীনা।
গত এক সপ্তাহ ছিল ঘটনাবহুল সপ্তাহ। প্রসঙ্গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে দিল্লির শাস্ত্রী ভবনের সামনে বিক্ষোভে নামে ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া (NSUI)। অভিযোগ, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশিকা পরীক্ষার স্বচ্ছতা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে NTA। তারা দাবি জানায়, সংস্থাকে জবাবদিহি করতে হবে এবং তদন্ত করতে হবে। ৬ জুন নিট-ইউজির প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করে ককরোচ জনতা পার্টি। এরপর ২০ জুন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ শুরু করেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। বিক্ষোভ মঞ্চে যোগ দেন লাদাখের সমাজকর্মী তথা বিজ্ঞানী সোনম ওয়াংচুক। এই পরীক্ষা প্রথমে হয়েছিল ৩ মে ২০২৬। পরীক্ষার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসে। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ঘিরে দিল্লিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। এরপর ৩ মে-র নিট পরীক্ষা বাতিল করে NTA এবং পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণা করা হয়। ঘটনার তদন্তভার তুলে দেওয়া হয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা CBI-র হাতে। বিক্ষোভের মধ্যেই পুনরায় ২১ জুন পরীক্ষা নেয় এনটিএ। দুপুর ২টো থেকে বিকেল ৫টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত পরীক্ষা চলে। নিরাপত্তা জোরদার করতে প্রশ্নপত্র পরিবহনে প্রথমবার ভারতীয় বায়ুসেনার (IAF) বিমান ব্যবহার করা হয়। ১৬ জুলাই গভীর রাতে NEET-UG পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে NTA। ফল ঘোষণার পর বহু পরীক্ষার্থী সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিযোগ করেন, তাঁদের প্রত্যাশিত নম্বরের সঙ্গে প্রকাশিত ফলের বড়সড় অমিল রয়েছে। এক ছাত্রী দাবি করেন, তিনবার NTA-কে ইমেল করেও কোনও উত্তর পাননি। এরপর জুলাই মাসে আন্দোলন আরও জোরদার হয়। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর-মন্তরে অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন শুরু করেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক।
গত ২০ জুলাই সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। সংসদ ভবনের দিকে মিছিল করে যাওয়া পড়ুয়া এবং অন্য প্রতিবাদীদের উপর পুলিশি দমনপীড়নের অভিযোগ ওঠে। পেলেট গান বা ছর্রা গুলিতে আহত হন তিন জন। র্যাফের আইজি-র পর্যবেক্ষণ, আন্দোলনকারীদের ঠেকাতে বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রে বাহিনীর মধ্যে কোনও সামঞ্জস্য ছিল না। বিধি মেনে সব কাজ করেনি তারা! ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, গত বুধবার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠকে এমনটাই জানিয়েছেন র্যাফের ইনস্পেক্টর জেনারেল (আইজি) সীমা ধুন্ধিয়া। র্যাফের আইজি অভ্যন্তরীণ বৈঠকে জানিয়েছেন, জম্মু ও কাশ্মীরের মতো উপদ্রুত এলাকায় কাজ করা জওয়ান বা আধিকারিককে সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীর ভিড় মোকাবিলার দায়িত্ব দেওয়া উচিত নয়। এ ক্ষেত্রে তাঁর যুক্তি, পরিস্থিতির ভিন্নতার কারণে কাশ্মীরের মতো পদক্ষেপ দিল্লি, বিহার, অসম কিংবা মহারাষ্ট্রে অচল। এই সমস্ত জায়গায় অনেক ‘মাপা’ পদক্ষেপ করতে হবে বলে জানান তিনি।
ঘটনার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রথমদিকে সবার মত আমারও অত গরজ ছিলনা। কারনটা আন্দোলনের কোনও সারবত্তা নেই- তার থেকেও আমি বর্তমান সমাজ ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক মূল্যবোধের বিষয়ে যথেষ্ট আশাহত, বলা ভালো আমার নিজের কথায় এই সময়টা পচনশীল একটা ব্যবস্থা, সমাজের ধারক হয়ে বয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছি পচা একটা সমাজ। যার পুনরায় জীবনে ফেরার কোনও সম্ভাবনাই নেই। ভেবেছিলাম কিছুদিন চাই- চাই করে সব পাততাড়ি গোটাবে পুলিশের মার খেয়ে। যা হয় সব ক্ষেত্রে। আমি নিজে বর্তমান এই সময়ে শুধুমাত্র নিজের কাজে বিশ্বাস করি। নিজে দায়িত্ব নিয়ে নিজের কাজটুকু করে যাও। আলাদা করে কোনও ভালো- মন্দ নিয়ে চেঁচিয়ে কোনও লাভ হবেনা। আদর্শচ্যুত যেন নিজে হয়ে না পড়ি- সেটাও এই সময়ে একটা বড় চ্যালেঞ্জ। চারদিকে নিজের স্খলনের সমূহ সম্ভাবনা। তোমার কাজের ভুল ব্যাখ্যা হবে প্রতিনিয়ত। সেটাকেই ঠিক প্রতিপন্ন করতে করতে তোমার জীবন শেষ হয়ে যাবে। সমাজের দিকে তাকালে কিছুতেই তুমি আশার আলো দেখতে পাবেনা। শুধুই হতাশা গ্রাস করবে তোমাকে। সেই হতাশা কাটাতে আমার দাওয়াই হল- পদ্মপাতায় জলের মত সকলের সঙ্গে মিশতে হবে। কোনও কিছু যেন তোমায় স্পর্শ করতে না পারে। আর নিজেকে নিজে যত্ন করতে হবে ভালো বই পড়ে, ভালো সিনেমা- থিয়েটার- সোশ্যাল মিডিয়ায় ভালো কন্টেন্ট দেখে। নিজে ক্রিয়েটিভ কাজে যুক্ত থাকতে হবে অবসর সময়ে। আর সব থেকে যেটা করতেই হবে- তা হল কারো কাছ থেকে কোনও রকম এক্সপেক্টেশন রাখা যাবেনা। প্রতিযোগিতা করতে হবে নিজের সঙ্গে, বাহবা দিতে হবে নিজেকে। গিফ্ট দিতে হবে মাঝে মাঝে নিজেকে। ঘরের বাইরে বেরিয়ে পড়তে হবে একঘেয়েমি কাটাতে।
তো যাই হোক, গত সপ্তাহের সোমবার থেকে আজ রোববার অব্দি ঘটনার ধারাবাহিকতায় আমি এই ঘুন ধরে যাওয়া, পচা সময়ের মধ্যে থেকেও একফালি রোদের দেখা পেয়েছি। সেই যে সোমবার পুলিশ বেধড়ক পেটাল বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েগুলোকে, বাইরে থেকে কারা এসে ইট- পাটকেল ছুঁড়ে শান্ত মিছিলকে কলুষিত করার চেষ্টা করল, তবুও ছাত্ররা বুক চিতিয়ে পুলিশের মার খেল, প্রিজন ভ্যান আটকে রাখল বাচ্চা একটি মেয়ে, বিহারে পুলিশকে চূড়ান্ত খিল্লি করা হল, দেশ জুড়ে কাতারে কাতারে ছাত্র-ছাত্রী রাস্তায় নামল- সত্যি বলছি আমি অভিভূত। আমি তো ভাবিই নি শিক্ষামন্ত্রী সত্যি সত্যি পদত্যাগ করবেন। আমি এই প্রজন্মের জেন- জি নামে অভিহিত ছাত্র- ছাত্রীদের গাট্স দেখে অভিভূত। বিশ্বাস করুন, আমি এখন ভাবতে পারছি- ভবিষ্যৎ একেবারে অন্ধকারে নয়। নতুন প্রজন্ম প্রশ্ন করতে পারছে। চোখে চোখ রেখে বাইরে বেরিয়েও সঠিকভাবে কথা বলতে পারছে। বেপরোয়া না হয়েও আন্দোলন করতে পারছে। আমার জন্য এটা যথেষ্ট আনন্দের একটা বিষয়। মোবাইলে বুঁদ হয়ে থাকা, ঘরের কোন বেছে নেওয়া, ঠুনকো কারনে আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়া, ডিপ্রেশনে ভোগা এই প্রজন্ম এভাবে রাস্তায় নামতে পারে এ ছিল আমার স্বপ্নেরও বাইরে। বাড়ির দামালপনা রাস্তায় করতে পেরেছে এরা। শুধু তাই নয়, বর্তমান নীতিবিহীন রাজনীতির দুনিয়ায় একজন মন্ত্রীকে বাধ্য করেছে পদত্যাগ করতে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ভারতীয় নতুন প্রজন্ম এই বিষয়ে আওয়াজ তুলছে। আজ লন্ডনে ট্রাফালগার স্কোয়ারে একটি জমায়েত হয়েছে বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে। আমার মেয়েও আফসোস ভুলে সেখানে সামিল হয়েছিল সকলের সঙ্গে। হ্যাটস অফ জেন- জি। নিজের জীবদ্দশায় এই উত্থান দেখা আমার যে পরমপ্রাপ্তি, তা নতুন করে অনুভব করানোর জন্য ওপরওয়ালাকে ধন্যবাদ।
এবারে আসি কেন্দ্রের সরকারের প্রসঙ্গে। স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছি বিজেপি সরকার যে বিচক্ষণতার সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের প্রশংসা প্রাপ্য অবশ্যই। দেশের সরকারের একটা দায়িত্ব থাকে দেশে উদ্ভূত পরিস্থিতির সঠিক সমাধান করা। কোনও আন্দোলন যেন হাতের নাগালের বাইরে বেরিয়ে না যায়, তার বিষয়ে সচেতন থাকা। নইলে আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশ বা নেপালের মত অথবা আমাদের রাজ্যের মত পরিস্থিতি হয়। পরবর্তীতে কি হবে জানিনা। তবে প্রথম দিকে একেবারে চুপ থেকে ইগনোর করা সত্ত্বেও কিন্তু গত সোমবারের পর থেকে কেন্দ্রীয় সরকার বুঝতে শুরু করেছিল, ব্যাপারটা আস্তে আস্তে নাগালের বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছে। এবারে একটা স্টেপ নিতেই হবে। আমি তো ভেবেছিলাম হাতে লবেঞ্চুস ধরিয়ে বুঝিয়ে সুঝিয়ে বা হাল্কা ধমকে চমকে সমস্যার সমাধান করবে কেন্দ্র সরকার। কিন্তু সত্যিই যেভাবে ছাত্রদের দাবিকে মান্যতা দিয়ে তাদের সবকটা দাবি মেনে নিল কেন্দ্র, তাতে আমি খুশি। এই সরকারের বিরুদ্ধে প্রচুর অভিযোগ রয়েছে। এখুনি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত না নিলে যেভাবে ছাত্রসমাজ প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের দিকে আওয়াজ তুলছিল, সেই আঁচ পেয়েই হয়ত কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত। আমার মেয়ের কাছে শুনছিলাম, বারুদের মত জ্বলছে এই প্রজন্ম, যেভাবে চারদিকে অনিয়ম, দুর্নীতি, সমাজের অবক্ষয়, অর্থনৈতিক জটিলতার সৃষ্টি করেছে এই সরকার তা নিয়ে। তবু আমি একজন বিচক্ষণ প্রবীণ নাগরিক হিসেবে বলব, এই মুহূর্তে সরকারের এই সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী হয়েছে। কোনও সরকারই একেবারে সঠিকভাবে দেশ চালাতে পারেনা। ভুল-ত্রুটি- দোষ সকলের থাকে। কিন্তু জোটবদ্ধ হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারাকে কুর্নিশ জানাতেই হয়। প্রধানমন্ত্রী সরাসরি ভিডিও বার্তায় ছাত্রদের সঙ্গে কথা বলেছেন। সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। এক এক করে তা করার দিকে এগোচ্ছেন ও। নিট-ইউজি প্রশ্নফাঁস বিতর্কের জেরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর প্রথমবার মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবার 'এক্স' হ্যান্ডেলে দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, 'ভারতীয় জনতা পার্টির কাছে কোনও পদ বা ক্ষমতার চেয়ে দেশের স্বার্থ, যুবসমাজ এবং ছাত্রছাত্রীরা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর দাবি, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ সেই নীতিরই প্রতিফলন।' এই সিদ্ধান্ত না নিলে দেশের অস্থির অবস্থার সুযোগ নিত অন্যান্য দেশ। চারদিকে যে অন্য দেশের উস্কানির অভিযোগ উঠছে- তা তো একেবারে উড়িয়ে দেবার নয়। যদিও কেন্দ্রের তরফে বাইরের দেশ থেকে ফান্ডিংয়ের তত্ত্বকে অস্বীকার করা হয়েছে। তবুও দেশে শান্তি বজায় রাখা কেন্দ্রের সরকারের অবশ্য কর্তব্য। তাতে কেন্দ্র সফল হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপ আশা করব এমনই বিচক্ষণতার সঙ্গেই নেবে কেন্দ্রের সরকার।
পরিশেষে বলবো, যারা ছাত্রদের এই আন্দোলনকে বেয়াড়াপনা বলছেন,তাদের জন্যই তারা আজ এত ডিপ্রেশনে ভুগছে। চারদিকে এত কম্পিটিশন, আত্মকেন্দ্রিক, পা-চাটা মানুষ, দুর্নীতিতে ছেয়ে যাওয়া সমাজ, অশিক্ষার অন্ধকারে শুধু যেন- তেন প্রকারেন টাকা রোজগার করাই জীবনের লক্ষ্য, পাশের মানুষটিকে ধাক্কা মেরে তার জায়গা দখল করার চেষ্টা, মুখ বুজে সহ্য করে নেবার সংস্কৃতি- মোটেই কোনও দেশের ভবিষ্যতের পক্ষে ভালো হতে পারেনা। আমি তাদের দলে নই । কাজ করতে হবে। পাশাপাশি অন্যায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে হবে। সে যে কোনও অন্যায়ের বিরুদ্ধে। তবেই দেশে গণতন্ত্র এগিয়ে চলবে। আমি নিজেকে জেন- জি অভিভাবক বলে মনে করি। যে নিজের মেয়েকে সব দিক দিয়ে পারদর্শী দেখতে চায়। যেমন চায় বিশ্ব জয় করা দেখতে, তেমনি চায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা দেখতে। দেশের নতুন প্রজন্মের কাছ থেকে আমার চাহিদা অনেক বেড়ে গেল। তোমরা নিজেদের মত করে আন্দোলন চালিয়ে যাও। কেন্দ্র তথা বিভিন্ন রাজ্য সরকারের প্রতিটা সিদ্ধান্তের সঠিক বিশ্লেষণ করে জবাবদিহি চাইবার মত করে যোগ্য করে গড়ে তোলো নিজেদের। ভবিষ্যৎ দেশের, ভবিষ্যৎ পৃথিবীর তোমরাই কান্ডারি। এ বিশ্বকে যদি আমরা তোমাদের বাসযোগ্য করে গড়ে দিয়ে যেতে পারি, তাহলে সেটাই হবে আমাদের পরম পাওয়া। বলা ভালো নিজেদের বাসযোগ্য করে নিতে যদি তোমরা নিজেই তা দেখেও শান্তি হবে আমাদের অভিভাবকদের। নতুন প্রজন্ম এগিয়ে যাও নতুন ভাষায়, দৃপ্ত ভঙ্গিতে। এগিয়ে চলো নিজেদের মতো করে ভয়- বাধা পেরিয়ে।