top of page

গোটা রাজ্যটাকে পেস্ট- কন্ট্রোল করে নতুন করে সাজাতে হবে

স্বর্ণালী গোস্বামী

24 May 2026

শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হয়ে একেবারে দুরন্ত গতিতে কাজে লেগে পড়েছেন

ফলতায় প্রচুর ভোটে জয়ী হল বিজেপি প্রার্থী। জয়ের ব্যবধান এক লক্ষ আট হাজার পেরিয়ে গেছে। এর মধ্যে অর্থাৎ ৪ মে থেকে ২৪ মে অব্দি প্রতিদিন ঘটনাবহুল দিন গেছে রাজ্য রাজনীতিতে। শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হয়ে একেবারে দুরন্ত গতিতে কাজে লেগে পড়েছেন। পর পর বেশ কিছু সংস্কার ইতিমধ্যেই করে ফেলেছেন তিনি। মানে ক্যাবিনেটে পাশ হয়ে গিয়েছে। অন্নপূর্ণা ভান্ডার শুরু হচ্ছে সামনের মাস থেকে। সরকারি বাসে রাজ্যের যে কোনও জায়গায় মহিলারা বিনা পয়সায় ভ্রমণের সুযোগ পাবেন। সিন্ডিকেটরাজ ভেঙে দিয়েছেন। ন্যায় সংহিতা কার্যকর করা হয়েছে। সরকারি চাকরিতে আবেদনের উর্দ্ধসীমা পাঁচ বছর বৃদ্ধি করা হয়েছে। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের সূচনা। রাজ্যের প্রতিটি জেলায় মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা। কিশোরীদের সার্ভিক্যাল ক্যান্সারের টিকাপ্রদান। বিএসএফ কে বর্ডারে ফেন্সিং-এর জন্য জমি প্রদান। জন ঔষধী প্রকল্প চালু। চিংড়িঘাটার মেট্রো প্রকল্পের অসমাপ্ত কাজের গতিপ্রদান। নতুন করে খুলেছে অভয়ার কেস।

এর পাশাপাশি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জেড প্লাস ক্যাটাগরি নিরাপত্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইডির জালে ধরা পড়ছে একে একে রাঘব বোয়াল। তার মধ্যে সুজিত বসু, দেবরাজ চক্রবর্তী, শান্তনু সিনহা বিশ্বাস উল্লেখ্য। পুলিশের জালেও বহু নামজাদা লোকজন। দফায় দফায় রোজ চলছে বুলডোজার। বিভিন্ন জায়গায় প্রচুর বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলা হচ্ছে। এমন এমন সম্পত্তির হদিশ মিলছে, যা দেখে চোখ কপালে উঠে যাবার জোগাড়! হাওড়া- শিয়ালদহ স্টেশন চত্বর হকার মুক্ত হয়েছে (যদিও ফের অস্থায়ী হকাররা ভিড় জমাতে শুরু করেছে)।

যেটা হয়েছে, তা হল, গোটা রাজ্য জুড়ে একটা হৈ হৈ রৈ রৈ ব্যাপার চলছে এই মুহূর্তে। এইসব কান্ডকারখানা দেখেশুনে মানুষ চুটিয়ে রগড় করছে তৃণমূলের। পাশাপাশি বিজেপির উত্থানে আত্মহারা হয়ে রয়েছে। তৃণমূল দেখলেই 'চোর চোর' ধ্বনি উঠছে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হয়েছে, অভিষেকের বাড়ির সামনে থেকে নিরাপত্তার বলয় উঠে যেতেই জায়গাটা একটি দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠেছে। শোনা যাচ্ছে ভেতরের ক্ষোভ দমন করতে সেখানে কিছু কিছু মানুষ তেমন তেমন ক্রিয়াকর্মও করে যাচ্ছেন! আর এদিকে আমাদের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সেই আঁচলের তলায় লুকিয়ে রাখা মায়েদের মত অভিষেককে এখনও আগলে বেড়াচ্ছেন! তিনি তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা সহ সকল বিজয়ী বিধায়কদের বাধ্য করেছেন অভিষেককে দাঁড়িয়ে কুর্নিশ করার জন্য। স্বাভাবিকভাবেই যত দিন গেছে, তৃণমূলের অন্দরে কিছু বিদ্রোহী নেতা কথা বলতে শুরু করেছেন। দিনের পর দিন দাঁত বেরিয়ে যাচ্ছে দলটার, তাও দলের নেত্রী এবং তাঁর একদা বাঘ বর্তমানে আঁচলের তলায় লুকোনো বিড়াল ভাইপোর সঙ্গে চেঁচাচ্ছেন ভোটে কারচুপি হয়েছে তাই বলতে! কী দাপট নিয়ে এবারের ভোটে গলা ফাটিয়েছেন অভিষেক! দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে 'দিল্লির বাপ' বলে সম্বোধন! ফলতায় ডায়মন্ড হারবার মডেল ভাঙতে রীতিমতো 'Union Territory of India'- কে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন এই সেদিনও! ছি ছি! মুখ দেখায় কী করে এখনও এরা? দেখায়, কারণ কালচারটা বস্তির কালচার। বস্তিতেই এরকম হয়। মুখের আগল থাকেনা। ভাষার কথা তো ছেড়েই দিলাম। রাজ্যকে নামিয়ে এনেছিলেন তো চপ শিল্প এবং কাশফুল দিয়ে তৈরী বালিশ শিল্প- তে। আর চারিদিকে দেদার তোলাবাজি- কাটমানির দৌলতে দুনিয়ার বেআইনি কাজ কারবার। যা বস্তিতেই হয়। তবে একটা কথা। বস্তির চোর- বদমাইশ- গুন্ডারা তো বেসিকালি বড়লোকদের কাছ থেকে লুটপাট করে দিন গুজরান করে। কিন্তু এরা বড়লোক কোথায় পাবে? তাই রাজ্যের সাধারণ মানুষের রক্ত জল করা পয়সায় লুটপাট করেই নিজেদের পেট ভরিয়েছে। তাই এরা বস্তির লোকেদের থেকেও নিচ। বস্তির লোকেদের সঙ্গে তুলনা করলে বস্তির লোকেদের অপমান করা হয়। কারন তারা পরিস্থিতির চাপে পড়ে, এই ধরনের পাপী রাজনীতিবিদদের শিকার হয়ে অসামাজিক কাজকর্মে লিপ্ত হতে বাধ্য হয়। কিন্তু এক্ষেত্রে তা নয়। এরা চূড়ান্ত পাপী একটা গোষ্ঠী। দুর্নীতিতে কে কাকে টপকাবে, তার কম্পিটিশন করে গেছে গোটা ১৫ টা বছর ধরে।

আজই তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করলেন। তিনি অভিযোগ করলেন, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁকে হুমকি দিয়েছিল ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক! ভাবা যায়! যে কয়জন মুষ্টিমেয় সৎ লোকজন আছে, তাদের দল থেকে সমানে ঘাড় ধাক্কা দেওয়া হচ্ছে সেই কবে থেকে। তার জলজ্যান্ত উদাহরণ বর্ষীয়ান তাপস রায় থেকে সজল ঘোষ ইত্যাদিরা। সম্প্রতি, লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলের মুখ্যসচেতক পদ থেকে বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে সরিয়ে দেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিবর্তে ওই পদে ফিরিয়ে আনা হয় সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সকলেই জানে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় একটা ঘোড়েল, বদমাইশ এবং অসভ্য লোক। যাকে তাকে যা খুশি তাই বলে। তাকে মাঝখানে ক্ষমতাহীন করেও ফের ক্ষমতায় নিয়ে আসা হল, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের জায়গায়! ইভিএমের রিপোর্ট চাইছে ক্ষমতায় থাকা প্রাক্তন দল। আরে সক্কলে বুঝতে পারছে, অবাধ ভোট হয়েছে, তাও নির্লজ্জের মত আচরণ করে যাচ্ছে। বিভিন্ন জেলায় কাউন্সিলররা পদত্যাগ করছে। তৃণমূলের লোকজনই বুঝতে পারছে, দলের শীর্ষস্থানীয়রা গন্ডগোল করছে। এদের ভ্রুক্ষেপ নেই। হার স্বীকার করতে জানলে তো মনুষ্য গোষ্ঠীর পদে পড়তো। এরা তো কীট- পতঙ্গের থেকেও অধম! ১৫ বছর ধরে দুর্গন্ধময় করে তুলেছে গোটা রাজ্যকে চারদিক দিয়ে। এবারে পেস্ট- কন্ট্রোল করতে হবে। নইলে নতুন করে সাজানো যাবেনা।

তাই শেষ করতে করতে বলব, নতুন সরকার নিজেদের কর্তব্যে যেন অবিচল থাকে। আগের সরকারের ভুল- ত্রুটি থেকে শিক্ষা নিয়ে তা শোধরাতে পারে। রাজ্যের সংস্কার করতে পারে সব ক্ষেত্রে। শিল্পের জোয়ার আনতে পারে গোটা রাজ্য জুড়ে। শুধু ভাতা সর্বস্ব হয়ে না থেকে যায়। তবেই হবে সত্যিকারের রাজ্যের মানুষের জন্য কাজ করা। আশা করি তা করতে সফল হবে বিজেপি সরকার।

প্রতিদিনের খবর এবং বিভিন্ন ফিচার ভিত্তিক লেখা, যেখানে খবরের সত্যতা তথা লেখনীর উৎকৃষ্টতা প্রাধান্য পায়। ফিচার ছাড়াও যে কোনও রকম লেখনী শুধুমাত্র উৎকৃষ্টতার নিরিখে গুরুত্ব পাবে এই সাইটে

Thanks for subscribing!

  • Whatsapp
  • Youtube
  • Instagram
  • Facebook
  • Twitter

The Conveyor

bottom of page