নারায়ন মেমোরিয়াল হাসপাতালে বিশ্ব ডায়াবেটিক দিবস এবং ইন্স্যুলিনের ১০০ বছর উদযাপন

সারা বিশ্বে বর্তমানে ৪২ কোটি ২০ লক্ষ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। তার মধ্যে ৭৭০ লক্ষ মানুষ ভারতেই রয়েছে, যারা ডায়াবেটিসের শিকার। এই রোগটি যথেষ্ট দুরারোগ্য একটি ব্যাধি, যার শিকার হচ্ছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ। এভাবে চলতে থাকলে আগামী ২০২৪ সালের মধ্যে মোট জনসংখ্যার ৭৬% মানুষ ডায়াবেটিক রোগী হয়ে যাবেন। এই কথা মাথায় রেখে 'ওয়ার্ল্ড ডায়াবেটিস মান্থ-২০২১' নাম একটি থিমের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যার মাধ্যমে ভারতকে বিশ্বের দরবারে 'ডায়াবেটিক কেয়ার ক্যাপিটাল' হিসেবে তুলে ধরার কথাও ভাবা হচ্ছে। ২০২১ আরও একটি বিষয়ে উল্লেখযোগ্য, এ বছর ইন্স্যুলিন আবিষ্কারের শতবর্ষ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

ডাক্তারেরা বলছেন, প্রচুর ডায়াবেটিক রোগী কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। এটাও দেখা গেছে, অতিমারির সময়ে ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। প্রচুর মানুষকে সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার জন্য ইন্স্যুলিনের ব্যবহার শুরু করতে হয়েছে। এমনও ভাবা হচ্ছে কোবিড-১৯ সরাসরি প্যানক্রিয়াসের বিটা সেলে আঘাত হানছে।

এই ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে নারায়ন মেমোরিয়াল হাসপাতালের সিইও শ্রীমতি সুপর্ণা সেনগুপ্ত জানাচ্ছেন, "লকডাউনের সময় আমরা HBA1c-এর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে দেখেছি। অপরিমিত এক্সারসাইজ, বাইরে বেরোনোর বাধা, সুষম আহার পর্যাপ্ত পরিমানে না পাওয়া, মানসিক স্ট্রেস টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সমস্যা তৈরী করেছে। এই পরিস্থিতি আমাদের এশিয়ান-ইন্ডিয়ান দেশের মানুষের ক্ষেত্রে প্রি- ডায়াবেটিক স্টেজ থেকে T2DM এ রূপান্তরিত হয়েছে দেশের জনসংখ্যার প্রায় ৫০%, যা যথেষ্ট ভয়ের ব্যাপার আগামী দিনে ডায়াবেটিস রোগী বৃদ্ধির ক্ষেত্রে"।

এমডি, ডিএনবি, এমএনএএমএস, ডিএম (পিজিআই), এমআরসিপি ডাঃ সুজিত ভট্টাচার্য্য জানান, "বিগত ১০০ বছর ধরে ইনস্যুলিন ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে জীবনদায়ী ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রাণীর অগ্ন্যাশয়ের নির্যাস থেকে অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে মানব দেহে ব্যবহারের উপযোগী ইনস্যুলিন তৈরী করা হয়। যত দিন এগিয়েছে তত উন্নত প্রযুক্তিতে এই ওষুধ উৎপন্ন হয়েছে চিকিৎসার ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য"।

এমডি ডিএম ডাঃ ঈপ্সিতা ঘোষ বলেন, "প্যানডেমিকের বাড় বাড়ন্তে পোস্ট প্র্যান্ডিয়াল ব্লাড গ্লুকোজ লেভেল প্রায় ৪৮% বেড়ে গেছে। ওয়ার্ক ফ্রম হোম কালচার, অনিয়মিত এক্সারসাইজ, ফাস্ট ফুড বা অর্ডার দেওয়া খাবার খাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি এই গ্লুকোজ লেভেল বৃদ্ধির অন্যতম কারন। মাত্র ১৮.৭% মানুষ সঠিকভাবে নিয়ম মেনে চলেছেন প্যানডেমিকের সময়। কিন্তু আমাদের প্রত্যেককে সচেতন করতে হবে এই ডায়াবেটিস অসুখটি সম্বন্ধে যাতে মানুষ এর থেকে দূরে থাকতে পারে এবং জীবনকে আরও স্থায়িত্ব দিতে পারে"।

উল্লেখ্য, নারায়ন মেমোরিয়াল হাসপাতাল বৃহত্তর কলকাতার অন্যতম একটি মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল যেখানে বিশ্ব মানের পরিষেবা দেওয়ার বন্দোবস্ত রয়েছে। ২০০ বেড সম্বলিত এই হাসপাতালে স্বনামধন্য চিকিৎসক দ্বারা ২৪x৭ চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া হয়। এমার্জেন্সি এবং ক্রিটিক্যাল কেয়ারে ৪৮টি আইসিইউ বেড সহ নেগেটিভ প্রেসার যুক্ত ৫ টি অপারেশন থিয়েটার এবং যথেষ্ট উন্নতমানের গ্যাজেট রয়েছে এই হাসপাতালে জটিল অস্ত্রোপচার করার জন্য। এই হাসপাতালের বিশেষত্ব হল মাদার এন্ড চাইল্ড কেয়ার, রেসপিরেটরি মেডিসিন, নিউরোলজি, অর্থোপেডিক্স, গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি, ওপিডি ফেসিলিটি, ৩৬০ ডিগ্রি ডায়াগনিস্টিক সার্ভিস এবং ২৪x৭ অপারেশনাল ফার্মাসি।

Written By

Swarnali Goswami

বিশেষভাবে সক্ষম, বিশেষ দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন তথা মহিলা টিম নিয়ে আয়োজিত "খেলা হবে- আ প্লে ফর আ কজ" ১৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হল এনকেডিএ ফুটবল স্টেডিয়াম কলকাতায়

সমাজকর্মী শর্মিষ্ঠা আচার্য, প্রতিষ্ঠিত সঞ্চালক তথা পশ্চিমবঙ্গের মিঃ ইন্ডিয়ার মুখ অঙ্কিত শা এবং দ্য জংশন হাউস একত্রে একটি ফুটবল ইভেন্টের আয়োজন করেছে, যা অনুষ্ঠিত হল ১৩ নভেম্বর এনকেডিএ ফুটবল স্টেডিয়াম কলকাতায়। ইভেন্টটি মূলত হচ্ছে বিশেষভাবে সক্ষম, বিশেষ দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন তথা মহিলা টিম নিয়ে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক ফুটবলার অলভিটো ডি কুনহা, আন্তর্জাতিক হকি খেলোয়াড় যুবরাজ বাল্মীকি, বিধায়ক তাপস চ্যাটার্জী, রাজ্য ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ দফতরের প্রতিমন্ত্রী মনোজ তিওয়ারি, এআইটিসি-র জাতীয় মুখপাত্র দেবাংশু ভট্টাচার্য্য, ভারতীয় ফুটবলার সাইদ রহিম নবি, স্বনামধন্য ফুটবলার সুব্রত ভট্টাচার্য্য, আন্তর্জাতিক প্যারা অ্যাথলিট (এশিয়ান গেমসে লং জাম্প-এ রৌপ্য পদকজয়ী) প্রবীর সরকার এবং আরও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

উল্লেখ্য, বর্তমানে ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষ, বলা যায় বিশ্ব জনসংখ্যার নিরিখে ১৫ শতাংশ মানুষ রয়েছেন যাঁরা বিশেষভাবে সক্ষম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিরিখে এই সংখ্যাটা সংখ্যালঘু জনগণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি। হু-এর মতে আমরা সকলেই কম-বেশি অক্ষম কোনও না কোনও ক্ষেত্রে। কিন্তু অনেকক্ষেত্রেই বিশেষভাবে সক্ষম মানুষেরা সমাজে অবহেলিত, তাই তাদের সম্বন্ধে ভাবার অবশ্যই প্রয়োজন আছে। ফুটবল এমন একটি খেলা, যা সকলেই পছন্দ করে, তাই এই খেলা বাছাই করা হয়েছে।

জংশন হাউসের ডিরেক্টর মিঃ রাজ রায় জানান, "আমরা বিশেষভাবে সক্ষম মানুষদের সচেতন করতে চাই, যে তারা সমাজের যে কোনও কাজ সাধারণ মানুষের থেকেও ভালোভাবে করতে পারেন। আমরা প্রত্যেককে আহ্বান জানাচ্ছি এই টুর্নামেন্টে প্রতিযোগীদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য এবং বোঝানোর জন্য যে তারা কোনও অংশেই করোও থেকে কম নয়- এটাই 'খেলা হবে'-র মূল ভাবনা"।

সঞ্চালক তথা পশ্চিমবঙ্গের মিঃ ইন্ডিয়ার মুখ অঙ্কিত শা বলেন, "সমগ্র বিশ্ব প্রতিদিন প্রতি ক্ষেত্রে উন্নতি করে চলেছে এবং খেলার ক্ষেত্রও সেক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। তাই ছোটবেলা থেকে যাঁরা অবহেলিত তাঁদের কথা চিন্তা করে আমরা এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছি। কলকাতায় এমন টুর্নামেন্ট আগে কখনও হয়নি"।

সমাজকর্মী শর্মিষ্ঠা আচার্য জানান, "আমি সব সময় চাই সমাজে বদল আনতে। সমাজের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে সব সময় আমি উৎসাহ দিতে চাই। 'খেলা হবে'- এই উদ্যোগ একটি বিশেষ উদ্যোগ তা বলাই যায়, যার মাধ্যমে সকলকে আহ্বান জানানো হচ্ছে বিশ্বকে জানার জন্য, চেনার জন্য"।

বিজেতারা হলেন-


  • মহিলা টিম- বেলেঘাটা স্পোর্টিং ক্লাব

  • বিশেষভাবে সক্ষম- ওয়েস্ট বেঙ্গল ক্রিকেট অ্যাসোশিয়েশন ফর দ্য ডিফারেন্টলি অ্যাবলড

  • বিশেষ দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন - ভিসুয়ালি ইমপেয়ার্ড ক্রিকেট অ্যাসোশিয়েশন অফ বেঙ্গল


খেলা হবে একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট, যেখানে বিশেষভাবে সক্ষম, বিশেষভাবে দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন ব্যক্তি তথা মহিলাদের যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে প্রতিভা বিকশিত করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। সমাজের প্রত্যেকে যে কোনও কাজ করতে সক্ষম সেই বিষয়ে এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে তাদের সচেতন করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, দ্য জংশন হাউজ কলকাতার একটি ইভেন্ট তথা আন্তর্জাতিক ট্যুর-ট্র্যাভেল কোম্পানি যারা তাদের কাজের জন্য বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে।


Written By

Swarnali Goswami

বিশেষভাবে সক্ষম, বিশেষ দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন তথা মহিলা টিম নিয়ে আয়োজিত "খেলা হবে- আ প্লে ফর আ কজ"-এর থিম সং প্রকাশিত হল ৯ নভেম্বর

সমাজকর্মী শর্মিষ্ঠা আচার্য, প্রতিষ্ঠিত সঞ্চালক তথা পশ্চিমবঙ্গের মিঃ ইন্ডিয়ার মুখ অঙ্কিত শা এবং দ্য জংশন হাউস একত্রে একটি ফুটবল ইভেন্টের আয়োজন করছে, যার ঘোষণা হল ৯ নভেম্বর। ইভেন্টটি মূলত হচ্ছে বিশেষভাবে সক্ষম, বিশেষ দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন তথা মহিলা টিম নিয়ে। উক্ত ইভেন্টটির থিম সং লঞ্চ হল এদিন প্রেস ক্লাবে। এই উদ্দেশ্যে সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক ফুটবলার অলভিটো ডি কুনহা, বিধায়ক মদন মিত্র, ভারতীয় ফুটবলার সাইদ রহিম নবি, স্বনামধন্য ফুটবলার সুব্রত ভট্টাচার্য্য, ক্রিকেটার শুভ্র জোয়ারদার, 'খেলা হবে' থিম সং-এর অফিসিয়াল গায়িকা তথা বিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী জোজো মুখোপাধ্যায়, আন্তর্জাতিক প্যারা অ্যাথলিট (এশিয়ান গেমসে লং জাম্প-এ রৌপ্য পদকজয়ী) প্রবীর সরকার, কেনিয়ার কনসাল প্রণয় পোদ্দার এবং আরও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

উল্লেখ্য, বর্তমানে ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষ, বলা যায় বিশ্ব জনসংখ্যার নিরিখে ১৫ শতাংশ মানুষ রয়েছেন যাঁরা বিশেষভাবে সক্ষম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিরিখে এই সংখ্যাটা সংখ্যালঘু জনগণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি। হু-এর মতে আমরা সকলেই কম-বেশি অক্ষম কোনও না কোনও ক্ষেত্রে। কিন্তু অনেকক্ষেত্রেই বিশেষভাবে সক্ষম মানুষেরা সমাজে অবহেলিত, তাই তাদের সম্বন্ধে ভাবার অবশ্যই প্রয়োজন আছে। ফুটবল এমন একটি খেলা, যা সকলেই পছন্দ করে, তাই এই খেলা বাছাই করা হয়েছে।

জংশন হাউসের ডিরেক্টর মিঃ রাজ রায় জানান, "আমরা বিশেষভাবে সক্ষম মানুষদের সচেতন করতে চাই, যে তারা সমাজের যে কোনও কাজ সাধারণ মানুষের থেকেও ভালোভাবে করতে পারেন। আমরা প্রত্যেককে আহ্বান জানাচ্ছি এই টুর্নামেন্টে প্রতিযোগীদের উৎসাহ দেওয়ার জন্য এবং বোঝানোর জন্য যে তারা কোনও অংশেই করোও থেকে কম নয়- এটাই 'খেলা হবে'-র মূল ভাবনা"।

সঞ্চালক তথা পশ্চিমবঙ্গের মিঃ ইন্ডিয়ার মুখ অঙ্কিত শা বলেন, "সমগ্র বিশ্ব প্রতিদিন প্রতি ক্ষেত্রে উন্নতি করে চলেছে এবং খেলার ক্ষেত্রও সেক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। তাই ছোটবেলা থেকে যাঁরা অবহেলিত তাঁদের কথা চিন্তা করে আমরা এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছি। কলকাতায় এমন টুর্নামেন্ট আগে কখনও হয়নি"।

সমাজকর্মী শর্মিষ্ঠা আচার্য জানান, "আমি সব সময় চাই সমাজে বদল আনতে। সমাজের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে সব সময় আমি উৎসাহ দিতে চাই। 'খেলা হবে'- এই উদ্যোগ একটি বিশেষ উদ্যোগ তা বলাই যায়, যার মাধ্যমে সকলকে আহ্বান জানানো হচ্ছে বিশ্বকে জানার জন্য, চেনার জন্য"।

'খেলা হবে' একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট, যেখানে বিশেষভাবে সক্ষম, বিশেষভাবে দৃষ্টিশক্তি সম্পন্ন ব্যক্তি তথা মহিলাদের যথেষ্ট গুরুত্ব সহকারে প্রতিভা বিকশিত করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। সমাজের প্রত্যেকে যে কোনও কাজ করতে সক্ষম সেই বিষয়ে এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে তাদের সচেতন করা হচ্ছে। "খেলা হবে- আ প্লে ফর আ কজ" টুর্নামেন্টটি এনকেডিএ ফুটবল স্টেডিয়ামে অটিস্টিক এবং দৃষ্টিশক্তিহীন শিশুদের নিয়ে শিশুদিবসের আগের দিন অর্থাৎ ১৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।

উল্লেখ্য, দ্য জংশন হাউজ কলকাতার একটি ইভেন্ট তথা আন্তর্জাতিক ট্যুর-ট্র্যাভেল কোম্পানি যারা তাদের কাজের জন্য বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে।

Written By

Swarnali Goswami

বিশ্ব বাংলা শারদ সম্মান পুরস্কার সেরা কোভিড সচেতনতা (স্বাস্থ্যবিধি) পেল ভবানীপুর ৭৫ পল্লী দূর্গা পূজা কমিটি


বিশ্ব বাংলা শারদ সম্মান পুরস্কার সেরা কোভিড সচেতনতা (স্বাস্থ্যবিধি) পেল ভবানীপুর ৭৫ পল্লী দূর্গা পূজা কমিটি। দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম পুজো হিসেবে নিজেদের পরিচয় তৈরী করে নিয়েছে ভবানীপুর ৭৫ পল্লী। প্রতি বছর তাদের বিশেষ থিম দর্শকদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি পুরস্কৃতও হয় বিভিন্ন বিভাগে। এবারেও তার অন্যথা হলনা। পুরুলিয়ার ছৌ নৃত্য শিল্পীদের উৎসর্গ করে তারা এবারের পুজোর থিম রেখেছিল 'মানবিক'। সেখানে পুরুলিয়ার ছৌ শিল্পীদের এনে সম্মানিতও করা হয়েছিল ক্লাবের পক্ষ থেকে। উল্লেখ্য, ছৌ শিল্পীরা পুরাণ, রামায়ন, মহাভারতের বিভিন্ন আলেখ্য নৃত্যের মাধ্যমে দর্শকদের সামনে তুলে ধরে আমাদের দেশের ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছে। এই নৃত্যের বিশেষ রঙিন পোশাক এবং মুখোশ যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য।

ক্লাবের সেক্রেটারি মিঃ সুবীর দাস সংবাদমাধ্যমকে জানান, "এই পুরস্কার আমরা ছৌ শিল্পীদের পরিবার এবং সন্তানদের উৎসর্গ করতে চাই। আমরা একটা বৃহৎ অংকের অর্থমূল্য দিয়ে সাহায্য করেছি তাঁদের, এছাড়াও তাদের শিল্পকর্ম বিক্রির ব্যবস্থা করে দিয়েছি। বিশ্ব কন্যা দিবসে আমরা পুরুলিয়ার চড়িদা গ্রামে গিয়ে 'ম্যাক্স' এবং 'অরিহন্ত এন্টারপ্রাইজে'র সহযোগীতায় ২৫০ জন ছৌ শিল্পীর সন্তানদের বস্ত্র দান করেছি এবং ৫০ জন দরিদ্র শিল্পীদের পরিবারকেও নতুন বস্ত্র প্রদান করেছি। অতিমারির সময় তাদের যেভাবে কষ্টের মধ্যে দিন কেটেছে, এই উদ্যোগ সেই উদ্দেশ্যে কিছুটা পাশে থাকার। আমরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর ভাবনায় অনুপ্রাণিত এবং সেরা কোভিড সচেতনতা (স্বাস্থ্যবিধি) বিশ্ব বাংলা শারদ সম্মান পুরস্কার পাওয়ায় তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই"।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সাল থেকে রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর বিশ্ব বাংলা শারদ সম্মান প্রদানের ঘোষণা করার পর থেকে পুজোর মানেটাই বদলে গেছে। পুজোর বিভিন্ন বিভাগের পুরস্কারের আয়োজন পুজো কমিটিগুলিকে আরও ভালো পুজো করার উৎসাহ এবং প্রেরণা যোগাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের মূল সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে এই পুরস্কার শুধু রাজ্যের ক্ষেত্রেই নয়, সারা বিশ্বে দুর্গাপুজোকে আলাদা মাত্রা এনে দিতে সক্ষম হয়েছে।

Written By

Swarnali Goswami

লন্ডনের ট্রাফালগার স্কোয়ার -এ লন্ডন মেয়রের দিওয়ালি সেলিব্রেশন-এ বাংলার নিজস্ব ঐতিহ্যবাহী শিল্প আলপনা আলাদা মাত্রা এনে দিল


আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহেই রয়েছে বাঙালিদের আলোর উৎসব দীপাবলী। হিন্দু শাস্ত্র অনুসারে মা-কালী যেমন শক্তির আরাধ্যা দেবী হিসেবে পূজিত হন, তেমনি অন্ধকার থেকে আলোর পথের দিশারীও তিনিই, তা আমরা বাঙালিরা সকলেই জানি। গত বছরের অতিমারির ভয়াবহতা কাটিয়ে এবারেও অতিমারির বাধ্যবাধকতা মেনে আমরা পালন করছি আমাদের বিভিন্ন উৎসব। তেমনই আলোর উৎসব তথা শক্তির আরাধনায় মেতে উঠেছে লন্ডনের মহিলাদের দ্বারা পরিচালিত প্রতিষ্ঠান 'হেরিটেজ বেঙ্গল গ্লোবাল'। ২৩ অক্টোবর 'দিওয়ালি অন ট্রাফালগার স্কোয়ার'-এ লন্ডনের মেয়র মিঃ সাদিক খানের অফিস এবং হেরিটেজ বেঙ্গল গ্লোবাল এই উপলক্ষ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একযোগে মেতে উঠলো।

বাঙালিদের ঐতিহ্যবাহী আলপনার মাধ্যমে এবং আলোর রোশনাইয়ের মাধ্যমে গত দেড় বছরের কোভিডের অন্ধকারকে দূরে সরিয়ে আলোর সন্ধানে কালী পুজোর আয়োজন করা হয়েছিল উদ্যোক্তাদের তরফে। গ্রেটার লন্ডন অথরিটির উদ্যোগে আলপনার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল এবং সবার সেরা আলপনা স্থান পেয়েছিল মূল অনুষ্ঠানে।

এছাড়াও হেরিটেজ বেঙ্গল গ্লোবালের ভাইস প্রেসিডেন্ট মহুয়া বেইজ-এর তত্ত্বাবধানে লাল রঙের বেস -এর ওপর সাদা রঙের আলপনা ছিল যথেষ্ট দৃষ্টিনন্দন। সন্ধ্যায় সেঁজুতি দাস এবং অনশ্মিতা সাহার নৃত্য পরিবেশনা ছিল মনোমুগদ্ধকর। উদ্যোক্তারা একটি ভিডিও স্ক্রিনিং-এর ব্যবস্থা করেছিলেন যেখানে বাংলা তথা কলকাতা কিভাবে অতিমারির ভয়াবহতা কাটিয়ে পোস্ট লোকডাউনে কোভিড বিধি মেনে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে তা দেখানো হয়েছিল। উক্ত ভিডিও প্রদর্শনের জন্য ধন্যবাদ জানাতেই হয় হেরিটেজ বেঙ্গল গ্লোবালের অরিজিৎ সরকার, তিথি সেন, দেবদীপ সেন, কৌশিক লাহিড়ি, মৌসুমী লাহিড়ি, শুভদীপ বোস, রাহুল দাশগুপ্ত এবং ইয়াচনা কে।

কলকাতার iLEAD সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা মিঃ প্রদীপ চোপড়া যিনি একাধারে হেরিটেজ বেঙ্গল গ্লোবাল-এর ডিরেক্টর, তিনি এবং অপর ডিরেক্টর মিঃ অনির্বান মুখোপাধ্যায়ের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় এই আয়োজন যথার্থ হয়েছে তা অনস্বীকার্য। লন্ডনের মেয়রের তরফের এই উৎসবে দীপাবলীর মূল নির্যাস ধরা পড়েছে বাঙালিদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সমন্বয়ে। হেরিটেজ বেঙ্গল গ্লোবাল এমন আরও অনুষ্ঠানের একযোগে আয়োজন করতে ইচ্ছুক মেয়র অফ লন্ডনের সহযোগিতায়।

কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম লন্ডনের এই উদ্যোগকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ভবানীপুর ৭৫ পল্লীর সেক্রেটারি মিঃ সুবীর দাসও এই উদ্যোগকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, সুবীরবাবু ২০১৮ সালে প্রথম বেঙ্গল-ব্রিটেন কালচারাল কোলাবরেশনের মাধ্যমে লন্ডনের ওয়াটার অফ টেমস-এর প্রতিমা এবং কলকাতার ওয়াটার অফ গঙ্গাস-এর প্রতিমা তৈরী করে দুই শহরের মেলবন্ধন ঘটিয়েছিলেন। তিনি লন্ডনের অধিবাসীদের কলকাতায় আসার জন্য আমন্ত্রণ ও জানান।

Written By

Swarnali Goswami

মহা পঞ্চমীর দিন উদ্বোধন হয়ে গেল ইয়াং বয়েজ ক্লাবের পুজো

কলকাতা তথা রাজ্যে দুর্গাপুজো বাঙালির সবচেয়ে সেরা উৎসব। এই দুর্গাপুজোকে ঘিরে আপামর বাঙালির মনে আনন্দের রেশ শুরু হয় একটি পুজো শেষের পর থেকেই পরের পুজোর জন্য। পুজো ক্লাবের কর্মকর্তারাও তেমনই একটি পুজোর পর পরবর্তী পুজোর থিম নিয়ে মেতে ওঠেন। তাই বর্তমান সময়ে দুর্গাপুজো সাবেকিয়ানার পাশাপাশি থিম ভিত্তিক হয়ে উঠেছে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। তেমনই থিমকে গুরুত্ব দিয়ে ইয়াং বয়েজ ক্লাব প্রতি বছর থিমের ক্ষেত্রে অভিনবত্ব নিয়ে আসে। মহা পঞ্চমীর দিন উদ্বোধন হয়ে গেল এই পুজোর। ইয়াং বয়েজ ক্লাবের পুজোর উদ্বোধন করলেন সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। উক্ত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ সুশীল কুমার সিং, কাউন্সিলর মীরা দেবী পুরোহিত, প্রাক্তন বিধায়ক স্মিতা বক্সী, সঞ্জয় বক্সী, কাউন্সিলর শগুফতা পারভিন, কাউন্সিলর এবং বরো কোঅর্ডিনেটর রেহানা খাতুন সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

এবারে তাদের পুজো ৫২ তম বর্ষে পদার্পন করছে। বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে তারা এবারের দুর্গাপুজোর থিম রেখেছে, 'দূর্গা-দ্য ডেস্ট্রয়ার অফ করোনা'। এই পুজোটি মধ্য কলকাতার তারাচাঁদ দত্ত স্ট্রিট-এ অনুষ্ঠিত হয়। এই রাস্তাটি সেন্ট্রাল এভিনিউ এবং রবীন্দ্র সরণীকে কানেক্ট করেছে।

ক্লাবের চিফ অর্গানাইজার মিঃ রাকেশ সিং জানান, "অতিমারির আবহে সকলেই আশা করছেন মা দূর্গা এসে করোনারুপী অসুরকে ধ্বংস করবেন। আমরাও তেমনই আশা করছি, মা দূর্গা আমাদের সহায় হয়ে করোনাকে নির্মূল করবেন। কোভিড-১৯ এর জন্য আমরা যথেষ্ট সমস্যা ভোগ করেছি, এখনও ভাইরাসটি রয়েছে। কোভিড ওয়ারিয়ররা তাঁদের যথাসাধ্য দিয়ে আমাদের সেবা করেছেন, করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য আমাদের উপযুক্ত করেছেন। সেই কারনেই আমরা এবারের থিম তাঁদেরকেই উৎসর্গ করেছি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ডাক্তার সহ মেডিকেলের সমস্ত রকম কর্মীবৃন্দ, পুলিশ অফিসার সহ পুলিশের সকল রকম কর্মীবৃন্দ, সাফাই কর্মীরা, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ড্রাইভার, কন্ডাক্টর প্রভৃতি আরও সমাজের বিভিন্ন পেশার মানুষজন"।

"আমাদের জীবনধারা পাল্টে দিয়েছে করোনা। সকলেই তাই এই ভাইরাসটিকে অসুর হিসেবেই দেখছেন, যার সঙ্গে আমাদের প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হচ্ছে এবং আমরা সকলেই চাইছি এই অসুরকে বধ করে সমাজকে সুস্থ জায়গায় নিয়ে আসতে। সেই কারণেই আমরা এবারে মা-য়ের কাছে প্রার্থনা করছি আমাদের সকলকে করোনা থেকে দূরে রেখে সুরক্ষিত করে রাখার জন্য। তাই তিনি এবারে আসছেন নতুন রূপে, করোনারূপী অসুর তথা সমাজের দুষ্টকে দমন করতে। 'করোনার বধ' করতেই আসছেন এবারে মা দূর্গা"- জানালেন ক্লাবের প্রেসিডেন্ট মিঃ বিক্রান্ত সিং।

শিল্পী- মেদিনীপুরের দেব শঙ্কর মহেশ

মন্ডপের উচ্চতা- ৪০ ফুট

নিকটতম মেট্রো স্টেশন- মহাত্মা গান্ধী রোড মেট্রো স্টেশন

লোকেশন- সেন্ট্রাল কলকাতা (ইয়াং বয়েজ ক্লাব)- ৭নং- তারাচাঁদ দত্ত স্ট্রিট, চিৎপুর ক্রসিং-এর কাছে, কলকাতা- ৭৩

ক্লাবের পুজো শুরুর বর্ষ- ১৯৭০


Written By

Swarnali Goswami

মহা চতুর্থীর দিন উদ্বোধন হয়ে গেল মহম্মদ আলি পার্কের দুর্গাপুজো

মহা চতুর্থীর দিন অর্থাৎ শনিবার ইয়ুথ অ্যাসোশিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজিত মহম্মদ আলি পার্কের দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করলেন সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পুজোর এবারের থিম 'ভ্যাক্সিনেশন উইনস ওভার করোনা'। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক তাপস রায়, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বিবেক গুপ্তা, প্রাক্তন বিধায়ক স্মিতা বক্সী, সঞ্জয় বক্সী, কাউন্সিলর শগুফতা পারভিন, কাউন্সিলর এবং বরো কোঅর্ডিনেটর রেহানা খাতুন, ইয়ুথ অ্যাসোশিয়েশন মহম্মদ আলি পার্কের চেয়ারম্যান মনোজ পোদ্দার সহ আরও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

২০১৯ এ জলাধারের পুনর্নির্মাণ-এর জন্য স্থানান্তরিত করতে হয়েছিল মহম্মদ আলি পার্কের পুজো। দু'বছর পর ফের নিজেদের জায়গায় ফিরে এসেছে তাদের দুর্গাপুজো। ইয়ুথ অ্যাসোশিয়েশন আয়োজিত মহম্মদ আলি পার্কের দুর্গাপুজোর এবারের থিম ‘ভ্যাক্সিনেশন উইনস ওভার করোনা'।

মহম্মদ আলি পার্কের জেনারেল সেক্রেটারি মিঃ সুরেন্দ্র কুমার শর্মা সংবাদমাধ্যমকে জানালেন, ২০২০ যদি হয় কোভিড সংক্রমণের বছর, তবে ২০২১ কে অবশ্যই বলতে হবে টিকাকরণের অর্থাৎ ভ্যাক্সিনেশনের বছর এবং ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে এটাই একমাত্র অস্ত্র। সেই বার্তাই আমরা এবারে আমাদের পুজোতে দিতে চাইছি।

দর্শকদের মণ্ডপের ভেতর প্রবেশের অনুমতি যদিও থাকছে না, তবু আমরা এমন ব্যবস্থা করছি, যাতে তাঁরা বাইরে থেকেই পুজো উপভোগ করতে পারেন। ১৫ ফুট দূর থেকেই খুব স্পষ্টভাবে প্রতিমা দর্শন করা যাবে। এটাও সত্যি, সকলের স্বাস্থ্যর থেকে বড় কিছুই হয়না। আমরা অবশ্যই আগামী বছরগুলোতে খুব জাঁকজমক করে পুজোর আয়োজন করব।

উল্লেখ্য, মধ্যে কলকাতার অন্যতম সেরা দুর্গাপুজো এই মহম্মদ আলি পার্কের পুজো, যা প্রত্যেক দর্শনার্থীদের অবশ্য গন্তব্যের তালিকায় থাকে তাদের অভূতপূর্ব মন্ডপসজ্জার জন্য। মধ্যে এবং উত্তর কলকাতার যথেষ্ট মর্যাদাপূর্ণ ইয়ুথ অ্যাসোশিয়েশন ক্লাবটি বিভিন্ন বিভাগে ইতিমধ্যেই প্রচুর পুরস্কার লাভ করেছে।

গত বছর মহম্মদ আলি পার্ক মহিষাসুরের জায়গায় করোনাসুরের আদলে মায়ের সাবেকি মূর্তি করেছিল, যা যথেষ্ট সাড়া ফেলেছিল। এই পুজো ১৯৬৯ সালে তারা চাঁদ দত্ত স্ট্রিটে শুরু হয়। কিন্তু অতি অল্প দিনের মধ্যেই তা এতটাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, যে পুজো স্থানান্তরিত করে আনা হয় বর্তমানের এই মহম্মদ আলি পার্কে। এ বছর এই ক্লাব একচালা মায়ের মূর্তি তৈরি করছে।

Written By

Swarnali Goswami

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্বোধন করলেন ভবানীপুর ৭৫ পল্লীর দুর্গাপুজো

মহা চতুর্থীর দিন অর্থাৎ শনিবার উদ্বোধন হয়ে গেল ভবানীপুর ৭৫ পল্লীর দুর্গাপুজো, পুরুলিয়ার ছৌ শিল্পীদের সম্মানার্থে যেখানকার থিম রাখা হয়েছে 'মানবিক'। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই পুজোর উদ্বোধন করলেন। এছাড়াও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পরিবহন ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, সমাজসেবী কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ আরও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ধামসা মাদল সহযোগে ছৌ নৃত্যের ব্যবস্থা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীও ধামসা বাজালেন শিল্পীদের উৎসাহ দিতে।

ভবানীপুর ৭৫ পল্লীর সদস্যরা তাদের এবারের পুজোর থিম 'মানবিক'-এর মাধ্যমে দুর্গাপুজোকে এক আলাদা মাত্রা এনে দেবার মনস্থ করেছে। এই থিমকে ভিত্তি করে ৭৫ পল্লী দুর্গাপুজো কমিটি এবারে পুরুলিয়ার ছৌ-শিল্পীদের উন্নতিকল্পে সাহায্য করবে এমনটাই পরিকল্পনা।

দক্ষিণ কলকাতার এই পুজোটির মাধ্যমে ৭৫ পল্লী দুর্গাপুজো কমিটির সদস্যরা যে অভিনব থিমের মাধ্যমে প্রতি বছর সমাজের প্রতি একটি বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে, তার জন্যই পুজোটি ধীরে ধীরে উল্লেখযোগ্যভাবে সামনের সারিতে উঠে এসেছে। তারই রেশ ধরে এবারের থিম 'মানবিক'-এর মাধ্যমে তারা নিজেদের সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে বদ্ধ পরিকর। রামায়ন, মহাভারত তথা ভারতের অন্যান্য পৌরাণিক কাহিনী বর্ণনা করে নিজস্ব শৈলীতে নাচের মাধ্যমে জনসমক্ষে তুলে ধরেন ছৌ শিল্পীরা, যা দেশ তথা বিদেশের মাটিতেও যথেষ্ট জনপ্রিয়। পুরুলিয়া জেলার চড়িদা গ্রামটি ছৌ নৃত্যের মুখোশ তথা পোশাক তৈরির জন্য বিখ্যাত।লকডাউনের ফলে বাংলার এই অতি জনপ্রিয় লোকশিল্প 'ছৌ নৃত্য' প্রদর্শন একেবারে বন্ধ। তার ফলে শিল্পীরা আর্থিকভাবে যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। সেদিকে দৃষ্টিপাত করেই পুজো কমিটির এই সিদ্ধান্ত।

ক্লাবের সেক্রেটারি সুবীর দাস বলেন, "এ বছর আমরা ছৌ শিল্পীদের শিশু এবং পরিবারবর্গকে যথেষ্টভাবে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি নিয়েছি। রাজ্য সরকারের তরফেও যাতে তারা সাহায্য পায় তার চেষ্টা করা হচ্ছে। ছৌ নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে এবং বিভিন্ন সরঞ্জামের প্রদর্শনের মাধ্যমে যাতে ছৌ শিল্পীরা কিছুটা আর্থিকভাবে সাহায্য পায়, তারই চেষ্টা করছি আমরা। বিশ্ব কন্যা দিবসে তাই ২৫০ শিশুকন্যাকে বস্ত্র বিতরণ করা হবে এছাড়াও পুজো উপলক্ষে ৫০টি আর্থিকভাবে যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত ছৌ শিল্পীর পরিবারকে নতুন বস্ত্র দিয়ে সাহায্য করা হবে। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিন্তাধারা এবং অনুপ্রেরণায় আমরা এই কাজ করতে চলেছি নিজেদের সাধ্যমতো"।

উল্লেখ্য, ভবানীপুর ৭৫ পল্লী এবারে ৫৭ তম দুর্গোৎসব পালন করছে, যার থিম রাখা হয়েছে 'মানবিক'। মন্ডপ সজ্জা, প্রতিমা, পুজোর মন্ডপের পরিবেশ, সুরক্ষা, সংহতি প্রভৃতির উৎকৃষ্ট মেলবন্ধনে এই পুজো মানুষের মন জয় করে নিয়েছে ইতিমধ্যেই। 'মায়ের আঁচল', 'ও আমার দেশের মাটি', 'আরশিনগর', 'আমার স্বপ্ন ভবানীপুরে... লন্ডন', 'খুঁজে পাওয়া স্মৃতির খাতা- উল্টে পাতা শোনায় কথা', 'মা', 'নীল সাদায় এক টুকরো ভবানীপুর' এবং গত বছরের 'নাগর দোলায় সবার পুজো' প্রভৃতি প্রতিটা থিম প্রতি বছর যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়েছে শহরের বিভিন্ন পুজোর মধ্যে এই পুজোর স্বাতন্ত্রতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে। ক্লাবের তরফ থেকে আশা করা হচ্ছে এবারেও নিজেদের থিমের মাধ্যমে তারা শহরের পুজোগুলির মধ্যে আলাদা জায়গা করে নিতে সক্ষম হবেন।

Written By

Swarnali Goswami

মহম্মদ আলি পার্কের দূর্গা পুজোর এবারের থিম 'ভ্যাক্সিনেশন উইনস ওভার করোনা'

২০১৯ এ জলাধারের পুনর্নির্মাণ-এর জন্য স্থানান্তরিত করতে হয়েছিল মহম্মদ আলি পার্কের পুজো। দু'বছর পর ফের নিজেদের জায়গায় ফিরে এসেছে তাদের দুর্গাপুজো। ইয়ুথ অ্যাসোশিয়েশন আয়োজিত মহম্মদ আলি পার্কের দুর্গাপুজোর এবারের থিম ‘ভ্যাক্সিনেশন উইনস ওভার করোনা'।

মহম্মদ আলি পার্কের জেনারেল সেক্রেটারি মিঃ সুরেন্দ্র কুমার শর্মা সংবাদমাধ্যমকে জানালেন, ২০২০ যদি হয় কোভিড সংক্রমণের বছর, তবে ২০২১ কে অবশ্যই বলতে হবে টিকাকরণের অর্থাৎ ভ্যাক্সিনেশনের বছর এবং ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে এটাই একমাত্র অস্ত্র। সেই বার্তাই আমরা এবারে আমাদের পুজোতে দিতে চাইছি। দর্শকদের মণ্ডপের ভেতর প্রবেশের অনুমতি যদিও থাকছে না, তবু আমরা এমন ব্যবস্থা করছি, যাতে তাঁরা বাইরে থেকেই পুজো উপভোগ করতে পারেন। ১৫ ফুট দূর থেকেই খুব স্পষ্টভাবে প্রতিমা দর্শন করা যাবে। এটাও সত্যি, সকলের স্বাস্থ্যর থেকে বড় কিছুই হয়না। আমরা অবশ্যই আগামী বছরগুলোতে খুব জাঁকজমক করে পুজোর আয়োজন করব।

উল্লেখ্য, মধ্যে কলকাতার অন্যতম সেরা দুর্গাপুজো এই মহম্মদ আলি পার্কের পুজো, যা প্রত্যেক দর্শনার্থীদের অবশ্য গন্তব্যের তালিকায় থাকে তাদের অভূতপূর্ব মন্ডপসজ্জার জন্য। মধ্যে এবং উত্তর কলকাতার যথেষ্ট মর্যাদাপূর্ণ ইয়ুথ অ্যাসোশিয়েশন ক্লাবটি বিভিন্ন বিভাগে ইতিমধ্যেই প্রচ্চুর পুরস্কার লাভ করেছে। গত বছর মহম্মদ আলি পার্ক মহিষাসুরের জায়গায় করোনাসুরের আদলে মায়ের সাবেকি মূর্তি করেছিল, যা যথেষ্ট সাড়া ফেলেছিল। এই পুজো ১৯৬৯ সালে তারা চাঁদ দত্ত স্ট্রিটে শুরু হয়। কিন্তু অতি অল্প দিনের মধ্যেই তা এতটাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, যে পুজো স্থানান্তরিত করে আনা হয় বর্তমানের এই মহম্মদ আলি পার্কে। এ বছর এই ক্লাব একচালা মায়ের মূর্তি তৈরি করছে।




শিল্পী- হুগলী জেলার মগরার ঘোষ ডেকরেটরের পঙ্কজ ঘোষ।

প্রতিমা শিল্পী- নদীয়া জেলার কুশ বেরা।

মন্ডপের উচ্চতা- ৩০ ফুট

Written By

Swarnali Goswami

নারায়ন মেমোরিয়াল হাসপাতালের তরফে পুজোয় রোগীদের জন্য বাঙালিয়ানা খাবারের বিশেষ উদ্যোগ 'আগমনীর স্বাদে-গন্ধে'

ক'দিনের মধ্যেই মা দুর্গা আসছেন মর্ত্যে। কাশ ফুল, শিউলি ফুল, নীল আকাশে পেঁজা তুলোর মত মেঘ জানান দিচ্ছে সে কথা। এই উৎসবের মরশুমে আমাদের বাঙালিদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক হল খাওয়া-দাওয়া। তবে বর্তমানে কোভিডের চোখরাঙানিই বলুন, কিংবা ডেঙ্গু অথবা অন্যান্য অসুখ-বিসুখ- যাঁরা এই উৎসবের মরশুমে অসুস্থ রয়েছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে উৎসবের রঙ যেন ফিকে হয়ে আসে। ঠিক এই ব্যাপারটা মাথায় রেখেই বেহালার নারায়ন মেমোরিয়াল হসপিটাল এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে। সবার মুখে হাসি ফোটানোর জন্য হাসপাতালের সকল রোগী তথা কর্মীবৃন্দর কথা মাথায় রেখে তারা নতুন উদ্যোগের ঘোষণা করল আজ।

রোগীদের অসুখের কথা মাথায় রেখে তাদের উপযুক্ত ডায়েট মেনে নারায়ন মেমোরিয়াল হসপিটাল 'ট্র্যাডিশনাল পুজোর থালি'র ব্যবস্থা করেছে। এই খাবারের তালিকায় থাকছে একেবারে বাঙালি সাবেকি খাবার দাবার, যাতে পুজোর আবহ হাসপাতালে থেকেই রোগীরা উপভোগ করতে পারেন। বিভিন্ন রোগী তথা তাদের অসুখের বিবরণ ডাক্তারের কাছে শুনে আলাদা আলাদা করে ডায়েটিশিয়ান খাবারের তালিকা তৈরী করে দিচ্ছেন। তার মধ্যে থাকছে যেমন নর্মাল ডায়েট, তেমনই থাকছে ডায়াবেটিক ডায়েট, সেমি সফট ডায়েট, লিক্যুইড ডায়েট প্রভৃতি। শুধু এটুকুই নয়, হাসপাতালে থাকছে একটি পুজো কর্নার, যেখানে বিশেষভাবে পুজোর আয়োজনও করা হবে। আরতি, পুষ্পাঞ্জলি, শান্তির জল সব থাকবে। হাসপাতালের প্রতিটি বেডের রোগীদের আরোগ্য কামনায় নিষ্ঠা ভরে পুজো করবেন পুরোহিত মশাই।

পুজোর চারদিন বাঙালিদের বিভিন্ন রকম সাবেক খাবার পরিবেশন করা হবে। মেনুতে থাকছে মুগ ডাল, পটলের দোরমা, পনির পসিন্দা, ভেটকি মাছের কালিয়া, চিকেন বাটার মসালা, নবরত্ন কোর্মা, খিচুড়ি, লাবড়া, পাঁপড় ভাজা, চাটনি প্রভৃতি আরও অনেক কিছু। হাসপাতালের পর্যবেক্ষনে শেফের একটি দল থাকবে সমস্ত রান্না সঠিকভাবে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে তৈরী হচ্ছে কি না, তা খেয়াল রাখার জন্য। আলাদা আলাদা রোগীর জন্য ডাক্তারের পরামর্শ মত তাদের কোন খাবার দেওয়া যুক্তিযুক্ত তা মেনেই আলাদা আলাদা ডিশ দেওয়া হবে রোগীদের।

এ বিষয়ে বলতে গিয়ে নারায়ন মেমোরিয়াল হাসপাতালের সিইও মিসেস সুপর্ণা সেনগুপ্ত 'শুভ শারদীয়ার' আগাম শুভেচ্ছা জানিয়ে বললেন, "বাঙালিদের বিশেষ করে যাঁরা কলকাতায় রয়েছেন তাঁদের জন্য দুর্গাপুজো সেরা উৎসব। মহালয়ার দিন থেকেই সকলে পুজোর আমেজে, উৎসাহে মেতে ওঠেন। যদিও অতিমারির কারনে একটু হলেও পুজোতে ভিন্ন মাত্রা এসেছে। তাই আমরা এই অভিনব উদ্যোগ নিয়েছি এই কঠিন সময়ে রোগীদের মুখে একটু হাসি ফোটানোর জন্য। খাবারের মধ্যে যেমন থাকছে বাঙালি সাবেকি খাবার, তেমনি থাকছে চাইনিজ, কন্টিনেন্টাল খাবারও। রীতিমতো ডায়েট চার্ট মেনে রোগীর পথ্য হিসেবে কম তেল, মশলায় অথচ স্বাদের খেয়াল রেখে তৈরী হবে সমস্ত খাবার"। তিনি আরও জানান, "রোগীদের উৎসবের সময় খুশি রাখতে আমরা গত বছরই এমনটা ভেবেছিলাম, কিন্তু করে উঠতে পারিনি, কারন সেই সময় আরও কঠিন পরিস্থিতি ছিল, এ বছর তুলনামূলক একটু ভালো অবস্থা রয়েছে, তাই আমরা এ বছর এমন উদ্যোগ সার্থক করার পরিকল্পনা নিয়েছি"।

এ বিষয়ে চিফ শেফ অনিন্দ্য রায় জানালেন, "এই পুজোর মরশুমে কারোর আনন্দে নিজে সামিল হতে পেরে ধন্য মনে করছি নিজেকে। দুর্গাপুজোর চারদিন বাঙালি খাবার প্রত্যেকের কাছেই আলাদা মাত্রা যোগ করে উৎসব উপভোগ করার জন্য। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে রোগীদের ডায়েটের কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন রকম খাবার তৈরির অনুমতি পেয়েছি আমি। অতি অবশ্যই ডাক্তারদের পরামর্শে, ডায়েটিশিয়ানের তৈরি করে দেওয়া চার্ট অনুযায়ী স্বাস্থ্যসম্মতভাবে প্রতিটি খাবার তৈরি হবে। হাসপাতালের তরফে এই উদ্যোগ যথেষ্ট প্ৰশংসনীয়"।

ডায়েটিশিয়ান হেমন্ত রাউত জানালেন, "প্রত্যেক রোগীর অসুখের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে অনেক নিয়ম মেনে আলাদা আলাদা ভাবে খাবার তৈরি হবে, পুজোর উৎসবকে সামনে রেখে। আমার সেরাটা দিয়ে প্রত্যেককে যাতে সঠিক এবং সুস্বাদু খাবার পৌঁছে দিতে পারি এবং উৎসবের আনন্দে সামিল করতে পারি তাই চাইব আমি"।

উল্লেখ্য, গ্রেটার কলকাতায় নারায়ন মেমোরিয়াল হসপিটাল একটি মাল্টিস্পেশালিটি টেরিটরি কেয়ার হসপিটাল, যেখানে বিশ্বমানের পরিকাঠামো রয়েছে। ২০০ টি বেড, ২৪x৭ এমার্জেন্সি এন্ড ক্রিটিক্যাল কেয়ার সহ ৪৮টি আইসিইউ বেড, ৫টি নেগেটিভ প্রেসার, ল্যামিনার ফ্লো যুক্ত অপারেশন থিয়েটার সহ অত্যাধুনিক পরিকাঠামো সম্বলিত এই হাসপাতাল কলকাতার মানুষকে উচ্চমানের পরিষেবা দিতে বদ্ধপরিকর। এখানে রয়েছে মাদার এন্ড চাইল্ড কেয়ার, রেসপিরেটরি মেডিসিন, নিউরোলজি, অর্থোপেডিক্স, গ্যাস্ট্রোএন্ট্রোলজি সহ সমস্ত রকম ওপিডির সুযোগ সুবিধা। রয়েছে ৩৬০ ডিগ্রি ডায়াগনস্টিক সার্ভিস এবং ২৪x৭ অপারেশনাল ফার্মাসি।

Written By

Swarnali Goswami

ভবানীপুর ৭৫ পল্লীর দুর্গাপুজো তাদের এবারের থিম 'মানবিক', আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পুরুলিয়ার ছৌ-শিল্পীদের উন্নতিকল্পে প্রস্তুত করছে

ভবানীপুর ৭৫ পল্লীর সদস্যরা তাদের এবারের পুজোর থিম 'মানবিক'-এর মাধ্যমে দুর্গাপুজোকে এক আলাদা মাত্রা এনে দেবার মনস্থ করেছে। এই থিমকে ভিত্তি করে ৭৫ পল্লী দুর্গাপুজো কমিটি এবারে পুরুলিয়ার ছৌ-শিল্পীদের উন্নতিকল্পে সাহায্য করবে এমনটাই পরিকল্পনা।

দক্ষিণ কলকাতার এই পুজোটির মাধ্যমে ৭৫ পল্লী দুর্গাপুজো কমিটির সদস্যরা যে অভিনব থিমের মাধ্যমে প্রতি বছর সমাজের প্রতি একটি বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে, তার জন্যই পুজোটি ধীরে ধীরে উল্লেখযোগ্যভাবে সামনের সারিতে উঠে এসেছে। তারই রেশ ধরে এবারের থিম 'মানবিক'-এর মাধ্যমে তারা নিজেদের সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে বদ্ধ পরিকর। রামায়ন, মহাভারত তথা ভারতের অন্যান্য পৌরাণিক কাহিনী বর্ণনা করে নিজস্ব শৈলীতে নাচের মাধ্যমে জনসমক্ষে তুলে ধরেন ছৌ শিল্পীরা, যা দেশ তথা বিদেশের মাটিতেও যথেষ্ট জনপ্রিয়। পুরুলিয়া জেলার চড়িদা গ্রামটি ছৌ নৃত্যের মুখোশ তথা পোশাক তৈরির জন্য বিখ্যাত।লকডাউনের ফলে বাংলার এই অতি জনপ্রিয় লোকশিল্প 'ছৌ নৃত্য' প্রদর্শন একেবারে বন্ধ। তার ফলে শিল্পীরা আর্থিকভাবে যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। সেদিকে দৃষ্টিপাত করেই পুজো কমিটির এই সিদ্ধান্ত।

ক্লাবের সেক্রেটারি সুবীর দাস বলেন, "এ বছর আমরা ছৌ শিল্পীদের শিশু এবং পরিবারবর্গকে যথেষ্টভাবে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি নিয়েছি। রাজ্য সরকারের তরফেও যাতে তারা সাহায্য পায় তার চেষ্টা করা হচ্ছে। ছৌ নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে এবং বিভিন্ন সরঞ্জামের প্রদর্শনের মাধ্যমে যাতে ছৌ শিল্পীরা কিছুটা আর্থিকভাবে সাহায্য পায়, তারই চেষ্টা করছি আমরা। বিশ্ব কন্যা দিবসে তাই ২৫০ শিশুকন্যাকে বস্ত্র বিতরণ করা হবে এছাড়াও পুজো উপলক্ষে ৫০টি আর্থিকভাবে যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত ছৌ শিল্পীর পরিবারকে নতুন বস্ত্র দিয়ে সাহায্য করা হবে। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিন্তাধারা এবং অনুপ্রেরণায় আমরা এই কাজ করতে চলেছি নিজেদের সাধ্যমতো"।

উল্লেখ্য, ভবানীপুর ৭৫ পল্লী এবারে ৫৭ তম দুর্গোৎসব পালন করছে, যার থিম রাখা হয়েছে 'মানবিক'। মন্ডপ সজ্জা, প্রতিমা, পুজোর মন্ডপের পরিবেশ, সুরক্ষা, সংহতি প্রভৃতির উৎকৃষ্ট মেলবন্ধনে এই পুজো মানুষের মন জয় করে নিয়েছে ইতিমধ্যেই। 'মায়ের আঁচল', 'ও আমার দেশের মাটি', 'আরশিনগর', 'আমার স্বপ্ন ভবানীপুরে... লন্ডন', 'খুঁজে পাওয়া স্মৃতির খাতা- উল্টে পাতা শোনায় কথা', 'মা', 'নীল সাদায় এক টুকরো ভবানীপুর' এবং গত বছরের 'নাগর দোলায় সবার পুজো' প্রভৃতি প্রতিটা থিম প্রতি বছর যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়েছে শহরের বিভিন্ন পুজোর মধ্যে এই পুজোর স্বাতন্ত্রতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে। ক্লাবের তরফ থেকে আশা করা হচ্ছে এবারেও নিজেদের থিমের মাধ্যমে তারা শহরের পুজোগুলির মধ্যে আলাদা জায়গা করে নিতে সক্ষম হবেন।

Written By

Swarnali Goswami

ইয়াং বয়েজ ক্লাব এবারের দুর্গাপুজোর থিম রেখেছে, 'দূর্গা-দ্য ডেস্ট্রয়ার অফ করোনা'

কলকাতা তথা রাজ্যে দুর্গাপুজো বাঙালির সবচেয়ে সেরা উৎসব। এই দুর্গাপুজোকে ঘিরে আপামর বাঙালির মনে আনন্দের রেশ শুরু হয় একটি পুজো শেষের পর থেকেই পরের পুজোর জন্য। পুজো ক্লাবের কর্মকর্তারাও তেমনই একটি পুজোর পর পরবর্তী পুজোর থিম নিয়ে মেতে ওঠেন। তাই বর্তমান সময়ে দুর্গাপুজো সাবেকিয়ানার পাশাপাশি থিম ভিত্তিক হয়ে উঠেছে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। তেমনই থিমকে গুরুত্ব দিয়ে ইয়াং বয়েজ ক্লাব প্রতি বছর থিমের ক্ষেত্রে অভিনবত্ব নিয়ে আসে। এবারে তাদের পুজো ৫২ তম বর্ষে পদার্পন করছে। বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে তারা এবারের দুর্গাপুজোর থিম রেখেছে, 'দূর্গা-দ্য ডেস্ট্রয়ার অফ করোনা'। এই পুজোটি মধ্য কলকাতার তারাচাঁদ দত্ত স্ট্রিট-এ অনুষ্ঠিত হয়। এই রাস্তাটি সেন্ট্রাল এভিনিউ এবং রবীন্দ্র সরণীকে কানেক্ট করেছে।

ক্লাবের চিফ অর্গানাইজার মিঃ রাকেশ সিং জানান, "অতিমারির আবহে সকলেই আশা করছেন মা দূর্গা এসে করোনারুপী অসুরকে ধ্বংস করবেন। আমরাও তেমনই আশা করছি, মা দূর্গা আমাদের সহায় হয়ে করোনাকে নির্মূল করবেন। কোভিড-১৯ এর জন্য আমরা যথেষ্ট সমস্যা ভোগ করেছি, এখনও ভাইরাসটি রয়েছে। কোভিড ওয়ারিয়ররা তাঁদের যথাসাধ্য দিয়ে আমাদের সেবা করেছেন, করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য আমাদের উপযুক্ত করেছেন। সেই কারনেই আমরা এবারের থিম তাঁদেরকেই উৎসর্গ করেছি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ডাক্তার সহ মেডিকেলের সমস্ত রকম কর্মীবৃন্দ, পুলিশ অফিসার সহ পুলিশের সকল রকম কর্মীবৃন্দ, সাফাই কর্মীরা, পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ড্রাইভার, কন্ডাক্টর প্রভৃতি আরও সমাজের বিভিন্ন পেশার মানুষজন"।

"আমাদের জীবনধারা পাল্টে দিয়েছে করোনা। সকলেই তাই এই ভাইরাসটিকে অসুর হিসেবেই দেখছেন, যার সঙ্গে আমাদের প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হচ্ছে এবং আমরা সকলেই চাইছি এই অসুরকে বধ করে সমাজকে সুস্থ জায়গায় নিয়ে আসতে। সেই কারণেই আমরা এবারে মা-য়ের কাছে প্রার্থনা করছি আমাদের সকলকে করোনা থেকে দূরে রেখে সুরক্ষিত করে রাখার জন্য। তাই তিনি এবারে আসছেন নতুন রূপে, করোনারূপী অসুর তথা সমাজের দুষ্টকে দমন করতে। 'করোনার বধ' করতেই আসছেন এবারে মা দূর্গা"- জানালেন ক্লাবের প্রেসিডেন্ট মিঃ বিক্রান্ত সিং।

শিল্পী- মেদিনীপুরের দেব শঙ্কর মহেশ

মন্ডপের উচ্চতা- ৪০ ফুট

নিকটতম মেট্রো স্টেশন- মহাত্মা গান্ধী রোড মেট্রো স্টেশন

লোকেশন- সেন্ট্রাল কলকাতা (ইয়াং বয়েজ ক্লাব)- ৭নং- তারাচাঁদ দত্ত স্ট্রিট, চিৎপুর ক্রসিং-এর কাছে, কলকাতা- ৭৩

ক্লাবের পুজো শুরুর বর্ষ- ১৯৭০

Written By

Swarnali Goswami

'বিশ্ব কন্যা দিবস' উপলক্ষ্যে ভবানীপুর ৭৫ পল্লী দুর্গাপুজো কমিটির সদস্যরা পুরুলিয়ার চড়িদা গ্রামের ২৫০ শিশুদের বস্ত্র বিতরণ করে দিনটি উদযাপন করল

ভবানীপুর ৭৫ পল্লী দুর্গাপুজো কমিটির সদস্যরা তাদের পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুসারে পুরুলিয়ার চড়িদা গ্রামের ২৫০ শিশুদের বস্ত্র বিতরণ করে 'বিশ্ব কন্যা দিবস' পালন করল। তাদের এবারের পুজোর থিম 'মানবিক'। এই থিমকে ভিত্তি করে ৭৫ পল্লী দুর্গাপুজো কমিটি এবারে পুরুলিয়ার ছৌ-শিল্পীদের দিকে হাত বাড়িয়ে দেবার মনস্থ করেছে। তারই অঙ্গ হিসেবে এই শিশুকন্যাদের নতুন বস্ত্র বিতরণের আয়োজন।


দক্ষিণ কলকাতার এই পুজোটির মাধ্যমে ৭৫ পল্লী দুর্গাপুজো কমিটির সদস্যরা যে অভিনব থিমের মাধ্যমে প্রতি বছর সমাজের প্রতি একটি বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে, তার জন্যই পুজোটি ধীরে ধীরে উল্লেখযোগ্যভাবে সামনের সারিতে উঠে এসেছে। তারই রেশ ধরে এবারের থিম 'মানবিক'-এর মাধ্যমে তারা নিজেদের সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে বদ্ধ পরিকর। এ বিষয়ে উল্লেখ করা প্রয়োজন রামায়ন, মহাভারত তথা ভারতের অন্যান্য পৌরাণিক কাহিনী বর্ণনা করে নিজস্ব শৈলীতে নাচের মাধ্যমে জনসমক্ষে তুলে ধরেন ছৌ শিল্পীরা, যা দেশ তথা বিদেশের মাটিতেও যথেষ্ট জনপ্রিয়। পুরুলিয়া জেলার চড়িদা গ্রামটি ছৌ নৃত্যের মুখোশ তথা পোশাক তৈরির জন্য বিখ্যাত।লকডাউনের ফলে বাংলার এই অতি জনপ্রিয় লোকশিল্প 'ছৌ নৃত্য' প্রদর্শন একেবারে বন্ধ। তার ফলে শিল্পীরা আর্থিকভাবে যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। সেদিকে দৃষ্টিপাত করেই পুজো কমিটির এই সিদ্ধান্ত।

উল্লেখ্য, ভবানীপুর ৭৫ পল্লী এবারে ৫৭ তম দুর্গোৎসব পালন করছে, যার থিম রাখা হয়েছে 'মানবিক'। মন্ডপ সজ্জা, প্রতিমা, পুজোর মন্ডপের পরিবেশ, সুরক্ষা, সংহতি প্রভৃতির উৎকৃষ্ট মেলবন্ধনে এই পুজো মানুষের মন জয় করে নিয়েছে ইতিমধ্যেই। 'মায়ের আঁচল', 'ও আমার দেশের মাটি', 'আরশিনগর', 'আমার স্বপ্ন ভবানীপুরে... লন্ডন', 'খুঁজে পাওয়া স্মৃতির খাতা- উল্টে পাতা শোনায় কথা', 'মা', 'নীল সাদায় এক টুকরো ভবানীপুর' এবং গত বছরের 'নাগর দোলায় সবার পুজো' প্রভৃতি প্রতিটা থিম প্রতি বছর যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়েছে শহরের বিভিন্ন পুজোর মধ্যে এই পুজোর স্বাতন্ত্রতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে। ক্লাবের তরফ থেকে আশা করা হচ্ছে এবারেও নিজেদের থিমের মাধ্যমে তারা শহরের পুজোগুলির মধ্যে আলাদা জায়গা করে নিতে সক্ষম হবেন।

Written By

Swarnali Goswami

ইউপিএসসির মেধা তালিকায় প্রথম দুশোর মধ্যে রাজ্যের তিন, শীর্ষে ঝাড়গ্রামের 'শুভঙ্কর বালা'

ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস পরীক্ষার মেধা তালিকায় প্রথম দুশো জনের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের তিন প্রার্থী ৷ ৭৯ তম স্থানে ঝাড়গ্রামের শুভঙ্কর বালা, ৮৭ তম স্থানে শিলিগুড়ির রিকি আগরওয়াল ও ১৫৯ তম স্থানে রয়েছেন বেলঘড়িয়ার ময়ূরী মুখোপাধ্যায় ৷

কোচিং ক্লাস না নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখে প্রতিদিন ১১ ঘণ্টার উপরে পড়াশোনা করে সর্বভারতীয় ইউপিএসসি পরীক্ষা ৭৯ তম স্থান করল ঝাড়গ্রামের ২৬ বছরের শুভঙ্কর বালা। ঝাড়গ্রাম শহরের রঘুনাথপুরের তাঁর বাড়ি।  শুভঙ্কর ছোট থেকেই বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা করেছেন। ঝাড়গ্রাম কেকেআই স্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে বেঙ্গালুরু চলে যান। ২০১৭ সালে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেই বেঙ্গালুরুতে একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি জীবন শুরু করেন। ইঞ্জিনিয়ারের চাকরি করার সময়েই বেঙ্গালুরুতে ২০১৯ শে প্রথম ইউপিএসসি পরীক্ষা দেন। প্রথম পরীক্ষা দিয়েই প্রিলিতে পাশ করে । কিন্তু মেইন পরীক্ষায় সাফল্য আসেনি সেবার। তারপরে ইউপিএসপি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ২০১৯ শে চাকরী ছেড়ে দিল্লি পাড়ি দেন শুভঙ্কর। দিল্লিতে ঘর ভাড়া নিয়ে শুরু করেন ইউপিএসসির প্রস্তুতি। ২০২০ সমস্ত পরীক্ষায় সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ন হয়ে ৭৯ রেঙ্ক করেন শুভঙ্কর।

শুভঙ্করের আদি বাড়ি গোপীবল্লভপুরের শাশড়ায়। শুভঙ্করের বাবা রাজনারায়ণ বালা পেশায় সরকারি হাসপাতালের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক ছিলেন। এখন তিনি অবসর প্রাপ্ত। শুভঙ্করের দুই দিদি রয়েছে। শুভঙ্কররা যখন ছোট ছিলেন তাঁদের পড়াশোনার স্বার্থে তাঁর বাবা গ্রামের জমি বাড়ি বিক্রি করে ঝাড়গ্রামে চলে আসেন। বাবা সরকারি চিকিৎসক হওয়ার কারনে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন জায়গায় পোস্টিং থাকতো। তাই মা ছবি বালা তাঁদের পড়াশোনার পাশাপাশি সংসারের সব কিছু দেখতেন।

এদিন দিল্লি থেকেই ফোনে শুভঙ্কর বালা সংবাদমাধ্যমকে তাঁর লড়াইয়ের কথা জানান তিনি বলেন, "আমার প্রথমত আইএএস হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে যদি আইএএস না পাই তাহলে আমি আইপিএস হব। শুভঙ্কর বলেন, যখন স্কুল টিমের প্যারেড কমান্ডার ছিলাম তখন দেখতাম স্কুলের অনুষ্ঠানে এসডিও, এসডিপিওরা আসতেন তখন থেকে একটা ধারণা ছিল এটা খুব সম্মানীয় ও উচ্চ জায়গা এখানে পৌঁছানোর জন্য অনেক পরিশ্রম করতে হয়। তার সঙ্গে এই কাজে অনেক দায়িত্ব রয়েছে এবং প্রচুর ক্ষমতাও রয়েছে। ছোট থেকে সিভিল সার্ভিস সম্পর্কে অতটা ধারণা ছিলনা কলেজ পাশ করার পর আমার কাছে পরিষ্কার হয়ে যায় সিভিল সার্ভিস সম্পর্কে। কলেজ পাশ করার পরেই আমি চাকরী পেয়ে যাই তারপরে দু'বছরের মাথায় আমি চাকরি ছেড়ে দিল্লি চলে আসি সিভিল সার্ভিসের পড়াশোনার জন্য। দিল্লিতে আমি কোন কোচিং সেন্টারে ভর্তি হইনি, নিজেই পড়াশোনা করেছি। কোচিং সেন্টারে গিয়ে কেবলমাত্র মকটেস্ট দিতাম। এখন অনলাইনে পড়াশোনার সমস্ত কিছু পাওয়া যায় আর দিল্লিতে যেখানে থাকতাম সেখানে সিভিল সার্ভিস পড়াশোনার জন্য সবকিছু সহজে পাওয়া যায়। নোট সহজে পাওয়া যায়। এই দুই বছর আমি আমার ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসআপ সব বন্ধ রেখে ছিলাম।"

ঝাড়গ্রামে ফিরে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য একটি লেকচার অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে চান শুভঙ্কর। তাঁর কথায় সিভিল সার্ভিস দেওয়ার সময় তিনি অনুভব করেছেন ক্লাস নাইন ও টেনের পড়াশোনা তার বিশেষ কাজে লেগেছে।  তাই তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের এই বিষয়ে অবগত করতে চান।

বাবা রাজনারায়ণ বালা বলেন, ছেলেকে কখনো কাজ করতে বা চাকরি করতে বলিনি।  তাকে তার ইচ্ছামত যতদূর চাইছে পড়াশোনা করতে পারে এটাই বলেছিলাম। তার ইচ্ছে ছিল আইএএস হওয়ার। আজ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। নিজেকে খুব গর্বিত মনে করছি।

নিজস্ব সংবাদদাতা

ঝাড়গ্রাম

কোভিড প্রোটোকল মেনে বয়স্ক নাগরিক এবং বিশেষভাবে সক্ষম নাগরিকদের পুজো দেখার পরিবেশ তৈরির জন্য 'দুর্গোৎসব পুরস্কার ২০২১' ঘোষণা

শারীরিকভাবে সক্ষম এবং বয়স্ক নাগরিকদের জন্য পুজো দেখার পরিবেশ তৈরী করা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি পুজোকমিটির ক্ষেত্রে। এই ব্যাপারটিকে সামনে রেখে বিশেষভাবে সক্ষম এবং দৃষ্টিহীনদের শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসারের জন্য কাজ করা এনআইপি (এনজিও), ফোরাম ফর দুর্গোৎসব, রোটারি ডিস্ট্রিক্ট ৩২৯১ এবং নারায়ন মেমোরিয়াল হসপিটাল মিলিতভাবে 'দুর্গোৎসব পুরস্কার ২০২১'-র আয়োজন করেছে। যে সমস্ত পুজো কমিটি তাদের পুজো মন্ডপে কোভিড প্রোটোকল মেনে বয়স্ক নাগরিক এবং বিশেষভাবে সক্ষম নাগরিকদের জন্য সুবিধার ব্যবস্থা রাখবে, তাদের মধ্যে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পুজো কমিটিকে পুরস্কৃত করা হবে। ইতিমধ্যেই ৩৫০টি পুজো কমিটি তাদের নাম নথিভুক্ত করিয়েছে এই পুরস্কারের জন্য। পুরস্কারটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হল বৃহস্পতিবার কলকাতার প্রেস ক্লাবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নারায়ন মেমোরিয়াল হাসপাতালের সিইও সুপর্ণা সেনগুপ্ত, গ্র্যান্ডমাস্টার দাবাড়ু দিব্যেন্দু বড়ুয়া, অভিনেতা দেবশঙ্কর হালদার, চিত্রশিল্পী সমীর আইচ, সঙ্গীত পরিচালক তথা তবলিয়া পন্ডিত মল্লার ঘোষ, ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের তরফে পার্থ ঘোষ, রোটারি ৩২৯১-এর জেলাশাসক প্রবীর চ্যাটার্জী, নারায়ন মেমোরিয়াল হসপিটালের ক্রিটিক্যাল কেয়ার কনসালট্যান্ট ডাঃ প্রসূন কুমার মিত্র সহ আরও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

২০০২ সালে নিজেদের যাত্রা শুরু করে নন প্রফিট এবং নন গভর্নমেন্ট অর্গানাইজেশন 'এনআইপি'। শুরুথেকেই তারা বিশেষভাবে সক্ষমদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক এবং আর্থিক উন্নতির জন্য কাজ করে আসছে। নারী, শিশু কল্যাণ ও সমাজ কল্যাণ মন্ত্রকের তরফে রাজ্য সরকার থেকে এই কাজে অভাবনীয় সাফল্যের জন্য তারা পুরস্কৃত হয় ২০১২ সালে। এনআইপি-ই প্রথম উপলব্ধি করে, বাঙালির শেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজো সঠিকভাবে আনন্দ সহকারে উদযাপন করতে পারেননা বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিরা। তার কারন পুজো মন্ডপগুলিতে বিশেষভাবে সক্ষম এবং তার পাশাপাশি বয়স্কদের জন্য কোনওরকম ব্যবস্থা থাকেনা। এই ভাবনা থেকে ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের সঙ্গে যৌথভাবে ২০১০ সাল থেকে তারা (এনআইপি) সার্ভে করে এবং যে সমস্ত মন্ডপগুলি বিশেষভাবে সক্ষম তথা বয়স্কদের বাধাহীনভাবে পুজো দেখার বন্দোবস্ত করবে তাদের জন্য পুরস্কারের ঘোষণা করে। এছাড়াও এনআইপি বিশেষভাবে দৃষ্টিতে সক্ষমদের জন্য ব্রেইল পদ্ধতিতে পুজো পরিক্রমা গাইড প্রকাশ করে এবং সকল রকম বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য পুজো প্যান্ডেল হপিং-এর আয়োজন করে।

এনআইপি-র সচিব শ্রী দেবজ্যোতি রায় সংবাদমাধ্যমকে জানালেন, "বর্তমানে অধিকসংখ্যক পুজো কমিটি প্রয়োজনীয় গাইডলাইন মেনে চলেন। তবে এবারে এই অতিমারির পরিস্থিতিতে মন্ডপের আবহ বজায় রেখে ভিড় এড়িয়ে কোভিড বিধি রক্ষা করাই একটা চ্যালেঞ্জ সমস্ত পুজো কমিটির কাছে। এ বছর দায়িত্ব নিয়ে পুজো উদযাপন করতে হবে সকলকেই"।

ফোরাম ফর দুর্গোৎসব কমিটির তরফে শ্রী পার্থ ঘোষ এবং শ্রী শাশ্বত বোস বললেন, "এ বছর প্রত্যেক পুজো উদ্যোক্তা এবং সদস্যদের অনুরোধ করা হচ্ছে কোভিড প্রোটোকল মেনে এবং বয়স্ক ও শারীরিকভাবে সক্ষমদের পুজো দেখার জায়গা তৈরি রেখে পুজোর ব্যবস্থাপনা করতে"।

এই ব্যাপারে কথা বলতে গিয়ে নারায়ন মেমোরিয়াল হসপিটাল (বেহালা) এর সিইও শ্রীমতি সুপর্ণা সেনগুপ্ত জানালেন, "নথিভুক্ত পুজো কমিটিগুলির মন্ডপে কোভিড বিধি গঠন করার জন্য এনআইপি আমাদের চয়ন করেছে, যা আমাদের কাছে যথেষ্ট গর্বের বিষয়। তিনি জানান, করোনার তৃতীয় ঢেউ দোরগোড়ায় সেই কারণেই আমাদের যথেষ্ট সতর্ক থাকতে হবে। প্রতিটি পুজো কমিটিকে আমরা অনুরোধ করব আমাদের গঠন করা বিধি মেনে পুজো দেখার বন্দোবস্ত করতে, পুজো দেখতে আসা দর্শকরা যেন সুরক্ষিতভাবে পুজোর আনন্দ উপভোগ করতে পারেন, তার ব্যবস্থা করতে। আমাদের এই লক্ষ্যে পুজো কমিটিগুলিকে পাশে থাকার অনুরোধ করছি"।

Written By

Swarnali Goswami

'বিশ্ব কন্যা দিবস' উপলক্ষ্যে ভবানীপুর ৭৫ পল্লী দুর্গাপুজো কমিটির সদস্যরা পুরুলিয়ার চড়িদা গ্রামের ২৫০ শিশুদের বস্ত্র বিতরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে


ভবানীপুর ৭৫ পল্লী দুর্গাপুজো কমিটির সদস্যরা পুরুলিয়ার চড়িদা গ্রামের ২৫০ শিশুদের বস্ত্র বিতরণ করে 'বিশ্ব কন্যা দিবস' পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের এবারের পুজোর থিম 'মানবিক'। এই থিমকে ভিত্তি করে ৭৫ পল্লী দুর্গাপুজো কমিটি এবারে পুরুলিয়ার ছৌ-শিল্পীদের দিকে হাত বাড়িয়ে দেবার মনস্থ করেছে। তারই অঙ্গ হিসেবে এই শিশুকন্যাদের নতুন বস্ত্র বিতরণের আয়োজন।

দক্ষিণ কলকাতার এই পুজোটির মাধ্যমে ৭৫ পল্লী দুর্গাপুজো কমিটির সদস্যরা যে অভিনব থিমের মাধ্যমে প্রতি বছর সমাজের প্রতি একটি বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে, তার জন্যই পুজোটি ধীরে ধীরে উল্লেখযোগ্যভাবে সামনের সারিতে উঠে এসেছে। তারই রেশ ধরে এবারের থিম 'মানবিক'-এর মাধ্যমে তারা নিজেদের সুনাম অক্ষুন্ন রাখতে বদ্ধ পরিকর। রামায়ন, মহাভারত তথা ভারতের অন্যান্য পৌরাণিক কাহিনী বর্ণনা করে নিজস্ব শৈলীতে নাচের মাধ্যমে জনসমক্ষে তুলে ধরেন ছৌ শিল্পীরা, যা দেশ তথা বিদেশের মাটিতেও যথেষ্ট জনপ্রিয়। পুরুলিয়া জেলার চড়িদা গ্রামটি ছৌ নৃত্যের মুখোশ তথা পোশাক তৈরির জন্য বিখ্যাত।লকডাউনের ফলে বাংলার এই অতি জনপ্রিয় লোকশিল্প 'ছৌ নৃত্য' প্রদর্শন একেবারে বন্ধ। তার ফলে শিল্পীরা আর্থিকভাবে যথেষ্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। সেদিকে দৃষ্টিপাত করেই পুজো কমিটির এই সিদ্ধান্ত।

উল্লেখ্য, ভবানীপুর ৭৫ পল্লী এবারে ৫৭ তম দুর্গোৎসব পালন করছে, যার থিম রাখা হয়েছে 'মানবিক'। মন্ডপ সজ্জা, প্রতিমা, পুজোর মন্ডপের পরিবেশ, সুরক্ষা, সংহতি প্রভৃতির উৎকৃষ্ট মেলবন্ধনে এই পুজো মানুষের মন জয় করে নিয়েছে ইতিমধ্যেই। 'মায়ের আঁচল', 'ও আমার দেশের মাটি', 'আরশিনগর', 'আমার স্বপ্ন ভবানীপুরে... লন্ডন', 'খুঁজে পাওয়া স্মৃতির খাতা- উল্টে পাতা শোনায় কথা', 'মা', 'নীল সাদায় এক টুকরো ভবানীপুর' এবং গত বছরের 'নাগর দোলায় সবার পুজো' প্রভৃতি প্রতিটা থিম প্রতি বছর যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়েছে শহরের বিভিন্ন পুজোর মধ্যে এই পুজোর স্বাতন্ত্রতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে। ক্লাবের তরফ থেকে আশা করা হচ্ছে এবারেও নিজেদের থিমের মাধ্যমে তারা শহরের পুজোগুলির মধ্যে আলাদা জায়গা করে নিতে সক্ষম হবেন।

Written By

Swarnali Goswami

'মহাবীর দানওয়ার জুয়েলার্স' এবং সন্মার্গ যৌথভাবে দম্পতিদের একটি অভিনব প্রতিযোগিতা 'এমডিজে জোড়ি নং ওয়ান' (MDJ Jodi No 1) আয়োজন করেছিল


'মহাবীর দানওয়ার জুয়েলার্স' এবং সন্মার্গ যৌথভাবে দম্পতিদের জন্য একটি অভিনব প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল 'এমডিজে জোড়ি নং ওয়ান' (MDJ Jodi No 1) নামে। তবে এটি একটু অন্য ধারার দম্পতিদের জন্য আয়োজিত হয়েছিল। বর্তমান যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে বিবাহের আগে কিছুদিন কোর্টশিপের একটি রেওয়াজ প্রচলিত হয়েছে। সেই সমস্ত Would Be Couple দের জন্য আয়োজিত হয়েছিল এই প্রতিযোগিতা, যা ভারতে প্রথম। তারা যাতে বিয়ের আগেই সেই বিশেষ দিনটির জন্য নিজেদের পছন্দমতো গয়না পছন্দ করে নিতে পারে, সেই উদ্দেশ্যেই এই প্রতিযোগিতা।

উল্লেখ্য, স্বর্গীয় মহাবীর প্রসাদ সোনির মাধ্যমে ১৯৭০ সালে মহাবীর দানওয়ার জুয়েলার্স-এর পথ চলা শুরু হয়েছিল। বর্তমানে যার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তাঁর পুত্র বিনোদ, কৈলাশ এবং জীবন। সঙ্গে রয়েছেন নাতিরাও- বিজয়, অরবিন্দ, অমিত এবং সন্দীপ। সোনা, কুন্দন, জড়োয়া এবং হীরের গয়নার সম্ভার রয়েছে তাঁদের শোরুম-এ। কলকাতার বড়বাজার, সিটি সেন্টার মল ছাড়াও নতুন দিল্লির পীতমপুরায় এই জুয়েলারির শোরুম রয়েছে।

২০২১-এর ১৫ জানুয়ারি শুরু হয়েছিল এই প্রতিযোগিতা। আজ রবিবার আইটিসি রয়াল-এ গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। অনুষ্ঠানে জুড়ি মেম্বার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রিচা শর্মা (অভিনেত্রী), ডলি জৈন (স্বনামধন্য শাড়ি ড্রেপিস্ট), নয়না মোরে (বিখ্যাত মোটিভেশনাল স্পিকার)। এছাড়াও অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লোপামুদ্রা মন্ডল সাহা, মডেল অ্যাডোলিনা গাঙ্গুলি, মোহর দত্ত এবং আরও বিশিষ্ট জন।

যে সকল প্রতিযোগী এখানে অংশগ্ৰহণ করতে ইচ্ছুক ছিলেন, তাঁদের কোর্টশিপের ছবি প্রতি সপ্তাহে পাঠাতে বলা হয়েছিল, এবং তার মধ্যে থেকে সেরাটা বাছাই করে নেওয়া হয়েছিল। তার পাশাপাশি তাঁদের একটি স্ক্রিনিং রাউন্ডের মধ্যে দিয়েও যেতে হয়েছিল প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে। সপ্তাহের সেরা কাপল এমডিজে- শো রুমে এসে একটি ডিসকাউন্ট কুপন জিতে নিয়েছিলেন। গ্র্যান্ড ফিনালে-র জন্য ৯ জন কাপল মনোনীত হয়েছিলেন। গোটা প্রতিযোতা থেকে 'টপ জোড়ি' বেছে নিতে তিন মাস সময় লেগেছিল। 'জোড়ি অফ দ্য মান্থ' এবং ফাইনাল 'বিজয়ী জোড়ি' রা মহাবীর দানোয়ার জুয়েলারির গয়না পরে সেখানকারই স্টোর-এ ফটোশ্যুট করলেন ফিনালে পর্ব শেষে। বিজয়ী কাপল পেলেন একটি I Phone 12 (64GB)| এছাড়াও মোট ৪ জন অর্থাৎ ২ রানার-আপ বিজয়ী জোড়ি পেলেন ৫স্টার হোটেলের একটি ডিনার ডেট।

মহাবীর দানওয়ার জুয়েলারির ডিরেক্টর মিঃ বিজয় সোনি সংবাদমাধ্যমকে জানালেন, "ফাইনালের জন্য ৫ টি জোড়ি নির্বাচন যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং ছিল। প্রায় প্রতিদিন অ্যাপ্লিকেশন জমা পড়েছে। কফি রাউন্ড, প্রশ্নোত্তর পর্ব, স্ক্রিনিং এবং প্রফেশনাল ফটোশ্যুটের মাধ্যমে দম্পতি নির্বাচন করা হয়েছে। নির্বাচিত কাপলদের গিফট হ্যাম্পার দেওয়ার পাশাপাশি পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কোন ধরনের গয়না তাঁদের বিয়ের সেই বিশেষ দিনের জন্য মানানসই হবে"।

সন্মার্গের ডিরেক্টর মিসেস রুচিকা গুপ্তা জানান, "সন্মার্গ এই অভিনব আইডিয়ার মাধ্যমে নতুন যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে এক জোরালো বন্ডিং তৈরি করতে চেয়েছে। অতীতের যুব সম্প্রদায়ের সঙ্গে বর্তমানের যুব সম্প্রদায়ের মানসিকতার মেলবন্ধন ঠিক কিভাবে কাজ করে, তা বুঝতে এই ইভেন্ট যথেষ্ট সাহায্য করেছে আমাদের"।

অভিনেত্রী রিচা শর্মা জানান, " এমডিজে' এবং 'সন্মার্গ' যৌথভাবে 'MDJ Jodi No 1' এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে কাপল দের খুব সুন্দর একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরী করে দিয়েছে নিজেদের মধ্যে সাহচর্য এবং বন্ধন দৃঢ় করার। প্রিলিমিনারি রাউন্ডে আমরা কাপলদের মধ্যে বন্ধুত্ব কতটা রয়েছে, তা যাচাই করেছি এবং গ্র্যান্ড ফিনালেতে মেধার যাচাই হয়েছে"।

শাড়ি ড্রেপিস্ট ও স্টাইলিস্ট ডলি জৈন অনুষ্ঠানের ভূয়সী প্রশংসা করে জানালেন, "প্রত্যেক কাপল তাঁদের সেরাটা দিয়েছেন। সকলের মধ্যে থেকে সেরা কাপল বাছাই করা সত্যিই কষ্টসাধ্য ছিল"।

মোটিভেশনাল স্পিকার নয়না মোরে সংবাদমাধ্যমকে জানালেন, "প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দম্পতি একে অন্যের পরিপূরক ছিলেন, যেন 'স্বর্গের সৃষ্ট দম্পতি'। এমডিজে শুরু থেকে যেভাবে প্ল্যান করে প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল, তা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য"।



Winner Jodi No 1

আকাশ জয়সওয়াল এবং রিতু সরফ



List of Winners: Consolation Prizes

১) নিকিত বেগওয়ানি এবং হর্ষিতা ঝাওয়ার (১ম রানার আপ)

২) মুকুন্দ রাঠী এবং প্রিয়া হলওয়ায়ি (২য় রানার আপ)

৩) রজনীশ কুমার শ্রীবাস্তব এবং নর্মদা শ্রীবাস্তব (৩য় রানার আপ)

৪) গীতেশ আগরওয়াল এবং নিকিতা আগরওয়াল (৪র্থ রানার আপ)

৫) রোহিত সুরানা এবং ইয়াংকি সেঠিয়া (৫ম রানার আপ)

Written By

Swarnali Goswami

রবিবার ভবানীপুর ৭৫ পল্লীর ৫৭ তম দুর্গোৎসবের খুঁটি পুজো অনুষ্ঠিত হয়ে গেল

রবিবার ভবানীপুর ৭৫ পল্লীর ৫৭ তম দুর্গোৎসবের খুঁটি পুজো অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। নেতাজী ভবন মেট্রোর একেবারে কাছে শহরের উল্লেখযোগ্য এই পুজো প্রতিবারই নতুন ভাবনার আঙ্গিকে আমাদের দুর্গাপুজো উপহার দেয়, এবারও তার অন্যথা হবেনা। বিভিন্ন থিমে মন্ডপ সজ্জার পাশাপাশি বিভিন্ন রকম সামাজিক কাজকর্মের জন্যও সুনাম রয়েছে এই পুজোর।

এছাড়া যেটা উল্লেখ না করলেই নয় তা হল এই ক্লাবের একটি বিশেষত্ব তাদের সামাজিক কাজকর্ম। এখানে বিনামূল্যে হেলথ চেক-আপ, রক্তদান শিবির, চক্ষুদান শিবির প্রভৃতি ছাড়াও দরিদ্রদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণ, কম্বল বিতরণ, দুঃস্থ ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে পড়ার বই বিতরণ প্রভৃতি সম্পন্ন হয়ে থাকে। যথেষ্ট গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতি এই পুজোকে সমৃদ্ধ করে প্রতিবছর।

এবারের খুঁটিপুজোতেও তার অন্যথা হলনা। খুঁটিপুজোয় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ ববি হাকিম, বিধায়ক দেবাশিষ কুমার, বিধায়ক মদন মিত্র, সমাজসেবী কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজসেবী পাপিয়া সিং, কেএমসি ৭১ নং ওয়ার্ডের কো -অর্ডিনেটর প্রমুখ।

জানা গেল এবারের পুজোর থিম ‘মানবিক’। ক্লাবের সেক্রেটারি সুবীর দাস জানালেন, ”কোভিড যেমন আমাদের শারিরিক ভাবে একে অন্যের থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে, ঠিক তেমনি আন্তরিকভাবে অনেকটাই কাছাকাছি এনে দিয়েছে। আমরা এই সময় একে অন্যের পাশাপাশি দাঁড়াবার চেষ্টা করছি। তাই আমাদের থিমের নাম ‘মানবিক’। ভবানীপুরে একটুকরো পুরুলিয়া। পুরুলিয়া এখানে কোনো জায়গা বা গ্রাম নয়, পুরুলিয়ার ছৌ শিল্পীদের তুলে ধরার চেষ্টা করছি আমরা। সেই শিল্পীদের পাশে কিভাবে দাঁড়ানো যায় তারই একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস আমাদের।”

খুঁটি পুজোয় এসে ফিরহাদ হাকিম বলেন দুর্গাপুজো মিলনের উৎসব। এটি এমন এক মিলন তীর্থ, যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলে উৎসবে সামিল হন। সারাবছর ধরে মানুষ অপেক্ষায় থাকে কবে দুর্গাপুজো আসবে। তবে করোনা বিধি মেনেই যে উৎসবে সামিল হতে হবে সে কথা মনে করিয়ে দেন ফিরহাদ হাকিম।

ক্লাবের কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে সজাগ। করোনা বিধি পালন করে পুজো সম্পন্ন করার মাধ্যমেই তাঁরা নিজেদের সাফল্য দেখতে চাইছেন। ক্লাবের তরফ থেকে প্রত্যেককে সপরিবারে এবং সবান্ধব পুজো দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

Carousel imageCarousel imageCarousel imageCarousel image

Written By

Swarnali Goswami

কাঠের সেতু বন্যায় ভেঙে যাওয়ায় এখন একমাত্র ভরসা নৌকা, চলছে ঝুঁকির নদী পারাপার

বন্যার রেশ কাটিয়ে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা ২ ব্লকের ভগবন্তপুর ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষ। কয়েকদিন আগেই ভারি বৃষ্টি ও ব্যারেজের ছাড়া জলে শিলাবতী ও কেঠিয়া নদীর একাধিক বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছিল চন্দ্রকোনার দুটি ব্লকের মোট ১২ টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ৮ টির বহু গ্রাম। চন্দ্রকোনা ২ ব্লকের ভগবন্তপুর ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের চৈতন্যপুরে শিলাবতী নদীর উপর কাঠের সেতু জলের তোড়ে ভেঙে পড়ে, এছাড়াও ওই গ্রাম পঞ্চায়েতেরই ধরমপোতা গ্রামে কেঠিয়া ও কানা নদীর সংযোগস্থলে থাকা অপর একটি কাঠের সেতু জলের তোড়ে ভেঙে পড়ে এবং কৃষ্ণপুর এলাকায় কেঠিয়া নদীর উপর থাকা আরও একটি কাঠের সেতু বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

নদী তীরবর্তী ভগবন্তপুর ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের মানুষের জরুরি পরিষেবা থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় কাজে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা ছিল চৈতন্যপুর ও ধরমপোতা এলাকায় গ্রাম পঞ্চায়েতের তৈরি দুটি কাঠের সেতু।বন্যায় এই দুই গুরুত্বপূর্ণ সেতু ভেঙে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছে ২৫-৩০ টি গ্রামের মানুষ। পাশাপাশি এই দুই সেতুর উপর দিয়ে চলত ছোট চারচাকার যানবাহন, বর্তমানে তা সম্পুর্ন বন্ধ। নিত্য প্রয়োজনীয় কাজে আবার জরুরি পরিষেবার ক্ষেত্রে এখন হাজারও মানুষের একমাত্র ভরসা নৌকা। চৈতন্যপুর ও ধরমপোতা দুই জায়গায় গ্রামবাসীরাই নিজেদের উদ্যোগে নৌকা চলাচলের ব্যবস্থা করেছে বলে জানা যায়।নৌকায় সাইকেল, মোটরসাইকেল চাপিয়েও চলছে ঝুঁকির যাতায়াত, বন্যা কাটলেও বর্তমানে যাতায়াতে চরম সমস্যায় পড়েছে ২৫-৩০ টি গ্রামের মানুষ। তাদের দাবি, প্রশাসন দ্রুত ভেঙে পড়া গুরুত্বপূর্ণ এই দুই কাঠের সেতু মেরামত করে যাতায়াতের উপযুক্ত করে তুলুক।

যদিও এ বিষয়ে ভগবন্তপুর ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ইকবাল সরকার সমস্যার কথা স্বীকার করে জানান,"৪ টি কাঠের সেতুর মধ্যে দুটি ভেঙে গেছে, একটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার মেরামত প্রয়োজন। চন্দ্রকোনা ২ পঞ্চায়েত সমিতি থেকে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে এই সেতুগুলি নিয়ে, আমরা তা পাঠিয়ে দিয়েছি। এমনকি ঘাটালে রাজ্যসরকারের যে কমিটির সদস্যরা বন্যা পরিদর্শনে এসেছিল সেচ ও নিকাশি বিভাগের প্রধান সচিবের নেতৃত্বে মহকুমার সমস্ত আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে। সেখানেও এই ভেঙে পড়া সেতুগুলি নিয়ে রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। আশ্বাস মিলেছে জেলা পরিষদের মাধ্যমে দ্রুত এই সেতুগুলি মেরামত করার ব্যবস্থা করা হবে। প্রায় একমাস হতে চললো, বন্যা পরবর্তী যাতাযাতের ক্ষেত্রে নিত্যদিন হাজারও মানুষ এমনই চরম দুর্ভোগের শিকার চন্দ্রকোনায়।

Carousel imageCarousel imageCarousel image

নিজস্ব সংবাদদাতা

পশ্চিম মেদিনীপুর

১৬তম বর্ষের 'রাম অবতার গুপ্ত প্রোৎসাহন ২০২১'- এর আয়োজন করল 'সন্মার্গ ফাউন্ডেশন'

'সন্মার্গ ফাউন্ডেশন' তাদের ষোড়শ তম বর্ষের 'রাম অবতার গুপ্ত প্রোৎসাহন ২০২১'- এর আয়োজন করল ২৫ অগাস্ট। এই অনুষ্ঠানে সমগ্র ভারতের হিন্দি ভাষায় উৎকর্ষতার জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের পুরস্কৃত করা হয়। যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে হিন্দি ভাষার প্রচলন বা গুরুত্ব বাড়াতেই সন্মার্গের এই ব্যবস্থাপনা। বর্তমান পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে হিন্দুস্তান ক্লাব-এ এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হল খুব স্বল্প পরিসরে। উল্লেখ্য, এবারেই প্রথম শিলিগুড়িতেও এই অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্যানডেমিকের কারনে শিক্ষায় এক আমূল পরিবর্তন এসেছে। তার মধ্যে থেকেই বিভিন্ন বোর্ডের (সিআইএসসিই, সিবিএসই, ডব্লিউ বি বোর্ড) ৩০ জন বাছাই করা পড়ুয়াকে তাদের হিন্দি ভাষার উৎকর্ষতার নিরিখে পুরস্কৃত করা হল। মোট ৫০০০+ ছাত্র-ছাত্রী এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল। তার মধ্যে থেকে হিন্দি ভাষা এবং সেই ভাষার ভিত্তিতে যাদের এক্সট্রা কারিকুলাম অ্যাক্টিভিটিতে দক্ষতা রয়েছে, তেমন ১০ ও ১২ ক্লাসের তিনটি বোর্ডের থেকে পড়ুয়াদের সন্মার্গ বাছাই করেছে পুরস্কৃত করার জন্য। এছাড়াও প্রতিটি বোর্ডের ১ম এবং ২য় টপারদের স্কলারশিপ প্রদান করল সন্মার্গ ফাউন্ডেশন। এই অতিমারির সময়ে বহু পড়ুয়া স্মার্টফোন বা কম্পিউটার না থাকার দরুন ক্লাস করতে পারেনি, তাদের কথা ভেবে এমন পড়ুয়াদের ট্যাব বিতরণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সন্মার্গ ফাউন্ডেশন।

উল্লেখ্য, ১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত পূর্ব ভারতে হিন্দি দৈনিক হিসেবে সন্মার্গ এখন সবচেয়ে পরিচিত নাম। মানবিকতা এবং ধার্মিকতার ওপর ভিত্তি করে 'স্বামী করপত্রীজি মহারাজ' এই দৈনিকটির সূচনা করেন, যার সদর দফতর অবস্থিত কলকাতায়। বর্তমানে এটি রাজ্যের ২৩টি জেলার পাশাপাশি পটনা, ভুবনেশ্বর এবং রাঁচি থেকেও প্রকাশিত হচ্ছে। প্রিন্ট এবং ডিজিটাল উভয় মাধ্যমেই সন্মার্গ বর্তমানে পরিচিত নাম।

'সন্মার্গ রিলিফ ফান্ড কলকাতা' নামে ২০০১ সালে যার পথচলা শুরু, তাই পরে 'সন্মার্গ ফাউন্ডেশন' হিসেবে পরিচিত হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠান সর্বসাধারণের মধ্যে হিন্দি ভাষার মাধ্যমে শিক্ষার প্রসারের জন্য কাজ করছে। প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক স্বৰ্গীয় শ্রী রাম অবতার গুপ্তর নামে এটি 'রাম অবতার গুপ্ত প্রতিভা পুরস্কার' নামে পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে, যা সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন রকম উৎকর্ষতামূলক অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে থাকে।

সন্মার্গ অ্যান্ড ট্রাস্টি, সন্মার্গ ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর শ্রীমতি রুচিকা গুপ্তা সংবাদমাধ্যমকে জানান, "এই পুরস্কার ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে হিন্দি ভাষা সম্প্রসারণের এবং গুরুত্ব আরোপনের জন্য প্রদান করা হয়। আমরা এই উদ্দেশ্যে যথেষ্ট সফল। এই পুরস্কারের জন্য পড়ুয়াদের মধ্যে বেশি নম্বর আনার প্রবণতা বেড়ে গিয়েছে। আগের তুলনায় বিভিন্ন বোর্ডে এখন যথেষ্ট বেশি পার্সেন্টাইল পাচ্ছে পড়ুয়ারা হিন্দি সাহিত্যে। যেখানে ২০০৬-০৭ সালে ৯০-৯২ উঠত সর্বোচ্চ নম্বর, সেখানে এখন ১০০ নম্বর পাচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীরা। তিনি আরও জানান, যদি কেউ এই সাহিত্যে উচ্চতর ক্ষেত্রে পড়াশোনা করতে চায়, তাহলে আমরা তাদের স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে অনুরোধ করছি। আমরা যথাসম্ভব তাদের সাহায্য করব।"

Carousel imageCarousel image

Written By

Swarnali Goswami

সোনার গহনায় QR কোড চালুর প্রতিবাদে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট

একদিকে কোভিড বিপর্যয় অন্যদিকে প্রাকৃতিক বিপর্যয় এই দুইয়ের মধ্যেখানে সোনার গহনার ওপর হলমার্কের পাশাপাশি এবার QR কোড চালু করতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার আর তাতেই সমস্যায় পড়তে চলেছে দেশের ক্ষুদ্র ছোট-বড় হাতে গড়া সোনার কারিগররা।যারা সামান্য টাকার মূল্যের বিনিময়ে ছোটখাটো কাজ করে সংসার চালিয়ে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। এরকমই ঘটনার পেক্ষিতে পূর্ব ঘোষিত ঘোষণা অনুযায়ী আজ ভারত বনধের ডাক দিয়েছে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতি।

প্রসঙ্গক্রমে বলা যায় চাকরি না পেয়ে জন্য ছোট-বড় মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিক পাশ ছেলেরা হাতে গড়া সোনার কারিগরের দিকে নজর দিয়েছে। সেই হিসেবে তারা কেউ সোনার কারিগর কেউ বা বিভিন্ন ধরনের দোকান খুলেছে বা ব্যবসা করছে। তবে ছোট থেকে হাতের কাজ শিখে তারা সোনার কারিগর তৈরি হয়েছে। সোনার দোকানিরা ছোট বড় কাজ করে দিনাতিপাত করছিলেন এতদিন। গোটা দেশজুড়ে নয়টি রাজ্যের সঙ্গে জঙ্গলমহল পশ্চিম মেদিনীপুরে সোনার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের একটা বিরাট পরিমাণ সংখ্যায় রয়েছে। যারা এই ছোট বড় কাজ করে নিজের সংসার চালিয়ে আসছেন।

এই গহনা বিক্রি করতে গেলে মূলত এখন হলমার্রককেই সোনার মান নির্ধারক হিসেবে দেখা হয়। এই গহনা মূলত ২২ ক্যারাট ২৪ ক্যারাট হলমার্ক এর উপর ক্রেতাদের বিক্রি করা হয়। সোনার জিনিসপত্র ক্রয় করেন ক্রেতারা এবং সেই হলমার্ক নির্ধারণ করা হয় এলাকার কোনও হলমার্ক সেন্টার থেকে। কিন্তু সম্প্রতি কেন্দ্র সরকার নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে, সেই নির্দেশিকা বলা হয়েছে এই সোনার জিনিসপত্রে হলমার্কের পাশাপাশি থাকবে QR code যে কোড দেখে অনলাইনে ওই গহনার সমস্ত তথ্য আপলোড করা থাকবে। যাতে করে কোনভাবেই ক্রেতাকে ঠকানো না হয়। এরই পাশাপাশি ওই সোনার গহনার তথ্য নির্দিষ্টভাবে সরকারি দফতরে জমা হবে। ফলে ওই গহনা কোন দিনে কার কাছে বিক্রি হয়েছে বা কার কাছে কত সোনা মজুত রয়েছে সেটাও জানা যাবে। নির্দেশিকায় এই সিস্টেমকে HUID বা hallmarking unique identification system বলা হচ্ছে।

নির্দেশিকা জারি হতেই সমস্যায় পড়েছেন সোনার কারিগর থেকে ছোট বড় দোকানিরা। কারণ এই নির্দেশিকা মানতে গেলে একটা সোনার জিনিস বিক্রি করতে অন্তত ১০ থেকে ১৫ দিন লাগবে এই QR করে গ্রাহকের কাছে তুলে দিতে। যার ফলে ব্যবসার ক্ষেত্রে যেমন সমস্যা হবে তেমনি একটা জিনিস বিক্রি করতে সমস্যায় পড়বেন তারা। এর পাশাপাশি রয়েছে আরও নানাবিধ সমস্যা। সেসব সমস্যা নিয়ে এবার আন্দোলনে নামতে চলেছে তারা। পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচী অনুযায়ী আজকে অবিভক্ত মেদিনীপুরের সমস্ত স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা একদিনের প্রতীকী ধর্মঘট শুরু করেছে আজকে। যদি সরকার দাবী দাওয়া না মানে তবে আগামী দিনে আরো বৃহত্তর আন্দোলনের রাস্তায় নামার প্রস্তুতি নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বর্ণ ব্যবসায়ী সমিতি।

নিজস্ব প্রতিনিধি

পশ্চিম মেদিনীপুর

চারটি সংগঠনের উদ্যোগে ঘাটালে‌ দুর্গতদের ত্রাণ বিলি

চারটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মঙ্গলবার দুর্গতদের ত্রাণ বিলি করা হলো ঘাটাল মহকুমার সুলতানপুর এলাকায়। মঙ্গলবার ঘাটালের সুলতানপুর এলাকায় ত্রাণ বিলি করা হলো 'ছত্রছায়া গ্রুপ', 'উড়ান পিপলস্ ফাউন্ডেশন', 'মানবিক সংস্থান' ও 'ওয়েষ্ট মিদনাপুর সাইক্লার্স ক্লাব' নামে এই চারটি সংস্থার উদ্যোগে। ওই সংস্থা গুলির পক্ষ থেকে সুলতানপুর এলাকার ২৪০ টি পরিবারের হাতে ত্রাণ তুলে দেওয়া হয়। এই কাজে বিশেষ সহযোগিতা করেন ঘাটালের মহকুমা শাসক সুমন বিশ্বাস সহ ঘটাল মহাকুমা প্রশাসন এবং বিশিষ্ট সমাজসেবী শিক্ষক মণিকাঞ্চান রায়। ত্রাণবিলির পাশাপাশি এদিন সংগঠনগুলির তরফে ঘাটালের মহকুমা শাসক সুমন বিশ্বাসের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করা হয়। এদিনের ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবী মণিকাঞ্চান রায়,সংস্থাগুলির তরফে উপস্থিত ছিলেন নতুন ঘোষ, সন্তোষ ভকত, সম্রাট ঘোষ, অনুপম রায়, ঋক চৌধুরী সহ অন্যান্যরা। ওই সংস্থা গুলির হাত থেকে খাদ্য সামগ্রী পেয়ে খুশি ঘাটাল এর সুলতানপুর এলাকার বন্যা কবলিত এলাকার বাসিন্দারা। সংগঠন গুলির পক্ষ থেকে আগামী দিনেও ঘাটালের বন্যা কবলিত এলাকায় গিয়ে দুর্গত মানুষদের হাতে ত্রাণ তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয়।

Carousel imageCarousel imageCarousel imageCarousel image

নিজস্ব সংবাদদাতা

পশ্চিম মেদিনীপুর

স্বাধীনতার ৭৫ তম বর্ষে এক অভিনব উদ্যোগ নিল 'ওসাজ'

স্বাধীনতার ৭৫ তম বর্ষে এক অভিনব উদ্যোগ নিল 'ওসাজ'। সুন্দরবনের সন্দেশখালি অঞ্চলের জেলিয়াখালির হালদার পাড়ায় স্বাধীনতা দিবস পালিত হলো সিলিকোসিস আক্রান্ত মৃত্যুপথযাত্রী অসহায় মানুষদের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে। অভাবের তাড়নায় নিজের গ্রাম ছেড়ে শহরে রেমিং মাস কারখানায় কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকেরা শ্বাসকষ্ট আর বুকের যন্ত্রনা নিয়ে গ্রামে ফিরে একে একে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ে। চিকিৎসা করতে গিয়ে জানা যায় এরা সব ফুসফুসের ‌ভয়ংকর মারনরোগ সিলিকোসিস আক্রান্ত। নরম ফুসফুস পাথরের গুঁড়োর ধুলোয় জমাট বাধা। এখনো পর্যন্ত য়ার কোনো চিকিৎসা নেই। 'শ্রমিকের পাশে শ্রমিকের সাথে' এই কর্মসূচিকে সামনে রেখে এই সব অসহায় মানুষদের পাশে এগিয়ে এসেছে 'ওসাজে'র সমিত কুমার কর ও তার সহযোগীরা।

উল্লেখ্য, সন্দেশখলী ব্লক ১ ও ব্লক ২ নিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে অসহায় শ্রমিকদের পক্ষে দুটো আলাদা কেস করেন সমিত কুমার কর। এর ফলস্বরূপ ব্লক ২ এর দুজন শ্রমিককে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার যে সুপারিশ মানবাধিকার কমিশন করে তা রাজ্য সরকার মেনে নেয়। এদের জন্য মাসে পাঁচ হাজার টাকা পেনশনের সুপারিশও করা হয়েছে ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

কলকাতা

অভাব-অনটনের কারনে গোয়ায় জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনে বাধার মুখে নৈহাটির দুই খুদে প্রতিযোগী

অভাব-অনটন ওদের নিত্যসঙ্গী। তবুও প্রতিভাবান ক্যারাটে হবার লক্ষ্যে লড়াই জারি নৈহাটির মিত্র পাড়ার বাসিন্দা দুই খুদের। রাজ্য ও জেলা স্তরের প্রতিযোগিতায় ইতিমধ্যেই সাফল্য এনেছে দুই ভাই। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের গোড়ায় গোয়ায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ভারত সরকারের মিনিস্ট্রি অফ কর্পোরেট এফেয়ার্স বিভাগ দ্বারা স্বীকৃত জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। নৈহাটির মিত্র পাড়ার বাসিন্দা ১০ বছরের সঞ্জিত রায় ও সাত বছরের স্বর্ণজিৎ রায় প্রতিযোগিতার মার্শাল আর্ট বিভাগে ডাক পেয়েছে। কিন্তু অর্থের অভাবে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে বাধার সম্মুখীন দুই ভাই। খুদে-দের বাবা ইন্দ্রজিৎ রায় উত্তরবঙ্গে বৈদ্যুতিন মিস্ত্রীর কাজ করেন। মা সংগীতা রায় গৃহবধূ। পূর্ণ লকডাউনে অতি কষ্টে দিন কেটেছে রায় পরিবারের। প্রতিযোগিতায় যাতে ওরা অংশগ্রহণ করতে পারে, তার জন্য আর্থিক সহযোগিতার কাতর আর্জি দুই খুদের পরিবারের।

নিজস্ব প্রতিনিধি

ব্যারাকপুর


মহম্মদ আলি পার্কের খুঁটি পুজো সম্পন্ন হল বুধবার ১১অগস্ট


ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশন অফ মহম্মদ আলি পার্ক ১১ অগস্ট বুধবার তাদের খুঁটি পুজো সম্পন্ন করল। কলকাতার অন্যতম স্বনামধন্য পুজো হিসেবে মহম্মদ আলি পার্কের নাম ইতিমধ্যেই সকলের কাছে পরিচিত। বিভিন্ন রকম সমাজসেবামূলক কাজ এবং মন্ডপ সজ্জার অভিনবত্বের কারণে প্রতি বছর এই পুজো আলাদা জায়গা করে নেয়।

এ বছর ৫৩ তম বর্ষের পুজো উদযাপন করবে ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশন অফ মহম্মদ আলি পার্ক। খুঁটি পুজোর দিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। ছিলেন কাউন্সিলর তথা বরো কো-অর্ডিনেটর রেহানা খাতুন, কাউন্সিলর শগুফত পরভীন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পুজো কমিটির বিভিন্ন সদস্য যথা রামচন্দ্র বাদোপালিয়া (প্রধান পৃষ্ঠপোষক), ওম প্রকাশ পোদ্দার (ভাইস চেয়ারম্যান), প্রমোদ চন্দক (ওয়ার্কিং প্রেসিডেন্ট), দুলাল মৈত্র (ভাইস প্রেসিডেন্ট), জি সি শাহ, বিমল ঝুনঝুনওয়ালা, মহম্মদ শাহিদ (সংগঠক), পবন কুমার বনসল, দেওকি নন্দন ঢেলিয়া, অশোক ওঝা, রাজু গুপ্তা, গনেশ শর্মা, পবন শর্মা (যুগ্ম সচিব), সুভাষ চন্দ্র গোয়েঙ্কা (কোষাধ্যক্ষ), সুরেন্দ্র কুমার শর্মা (সচিব)।

ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশন অফ মহম্মদ আলি পার্ক প্রতি বছরের মত এ বছরও তাদের মন্ডপসজ্জা, প্রতিমা, পারিপার্শ্বিক পরিবেশ, সুরক্ষা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সুনাম এবং খ্যাতি বজায় রাখবে এমনটা বলাই যায়। উল্লেখ্য, ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত মধ্য কলকাতার এই পুজো বহু বছর বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুরস্কার অর্জন করেছে।

সাধারণ সম্পাদক সুরেন্দ্র কুমার শর্মা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, "আমরা আমাদের পুরোনো জায়গা মহম্মদ আলি পার্কে ফের পুজো করার অনুমতি পেয়েছি এ বছর। সেই কারনে আমরা ফিরহাদ হাকিম, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বিবেক গুপ্তার কাছে যথেষ্ট কৃতজ্ঞ। পুরোনো জায়গায় পুজো হচ্ছে বলে পুরো টিম যথেষ্ট উদ্দীপনার সঙ্গে কাজ করছে। করোনার বিধি হিসেবে শারীরিক দূরত্ব যেহেতু বাধ্যতামূলক, তাই এবারে আমরা মন্ডপসজ্জায় এমন কিছু ভাবছি, যা শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে সাহায্য করবে। প্রতিবারের মত আমরা এবারেও যথেষ্ট সাফল্য পাব এমনটাই আশা করছি।" তিনি সকলকে সপরিবারে, বন্ধুবান্ধব নিয়ে তাঁদের পুজো দেখতে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সংবাদমাধ্যম মারফত।


Written By

Swarnali Goswami

ঘাটালের বন্যা পরিস্থিতি পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী

পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালের বন্যা পরিস্থিতির পরিদর্শনে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মঙ্গলবার ঘাটালের কুশপাতা বঙ্গবাসী ক্লাবের মাঠে হেলিকপ্টারে নামেন। এরপর সেখান থেকে সড়কপথে ঘাটাল পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের আড়গোড়া ১নং চাতালে এসে উপস্থিত হন। তবে ঘাটাল পুরসভার 8টি ওয়ার্ড এখনও জলমগ্ন আছে। বন্যা পরিস্থিতির পরিদর্শন করে তিনি দুর্গতদের হাতে রাজ্য সরকারের ত্রাণ সামগ্রী তুলে দেন এদিন। মুখ্যমন্ত্রীর সাথে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী মানস ভূইঁয়া, সেচ মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্র সহ মন্ত্রী হুমায়ুন কবির, শিউলি সাহা শ্রীকান্ত মাহাত এবং ঘাটালের সাংসদ দীপক অধিকারী ও মেদিনীপুরের বিধায়ক জুন মালিয়া এবং জেলা শাসক ও জেলা পুলিশ সুপার সহ অন্যান্য প্রশাসনিক আধিকারিকেরা। এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে ভয়াবহ অবস্থার জন্য কেন্দ্রকে দায়ী করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একে ‘ম্যান মেড’ বন্যা হিসেবেও উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা সত্ত্বেও ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়িত হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন। এই প্রসঙ্গে দলের সাংসদদের নির্দেশ দেন, দিল্লি গিয়ে যেন কেন্দ্রকে এই বিষয়ে চাপ দেওয়া হয়। তিনি নিজেও আলাদা করে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান তৈরির জন্য কেন্দ্রকে আবেদন জানাবেন। পাশাপাশি এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বন্যা দুর্গত মানুষদের পাশে থাকার জন্য জেলা প্রশাসনকে, তথা দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে বার্তা দেন তিনি।

নিজস্ব সংবাদদাতা

পশ্চিম মেদিনীপুর

আদিবাসী দিবসের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী, নাচের তালে পা মেলালেন মমতা, বাজালেন ধামসা


"আদিবাসীদের জমি হস্তান্তর বন্ধ করেছে আমাদের সরকার, আমরা চাই সারা ভারতে এই আইন হোক" ঝাড়গ্রাম স্টেডিয়ামে বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর৷ তৃতীয় বারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার জঙ্গলমহলের জেলা ঝাড়গ্রামে আসলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিশ্ব আদিবাসী দিবসের অনুষ্ঠানে আজ ঝাড়গ্রামে উপস্থিত হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে একদিকে যেমন তিনি ধামসা বাজালেন, অন্যদিকে নাচের তালে পা মেলাতেও দেখা গেল মুখ্যমন্ত্রীকে। একই সঙ্গে, সবুজ সাথী, কন্যাশ্রী, জয় জোহর প্রকল্পের আওতায় থাকা ১৯ জনের হাতে শংসাপত্র তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। এ ছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে কৃতি ১৩ জনকে সংবর্ধনা জানান মুখ্যমন্ত্রী।


মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, "আমরা ধর্মে-ধর্মে, মানুষে-মানুষে ভাগ করি না। সবাই আমরা একসঙ্গে কাজ করি। আপনারা ভাল থাকলে, আমি ভাল থাকবো। আপনাদের কখনও কিছু অসুবিধা হলে আমাকে বলবেন, আমি দেখে নেবো। কিন্তু আমাকে দয়া করে ভুল বুঝবেন না। আপনারা আমাদের অনেক আশীর্বাদ দিয়েছেন। ঝাড়গ্রামের চারটি আসনে জিতিয়েছেন। ঝাড়গ্রাম জেলা প্রকৃতি মায়ের জেলা। তবুও অনেক জেলায় বন্যা হয়েছে। ডিভিসির জল ছেড়ে দিয়েছে। জল ছাড়ার কারণে বন্যা হয়েছে। ডিভিসি-র ছেড়ে দেওয়া জলে বাগনান-সহ বিস্তৃর্ণ এলাকা জলমগ্ন। আমি আসার সময় ছবি তুলেছি। মুখ্যসচিব কে পাঠিয়েছি।"


মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, "ঝাড়গ্রামকে নতুন জেলা করেছে আমাদের সরকার। ঝাড়গ্রাম, নয়াগ্রাম, গোপীবল্লভপুরে সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল হয়েছে। ঝাড়গ্রামে সাধুরাম চাঁদ বিশ্ববিদ্য়ালয় হচ্ছে। ১০০ শতাংশ বৈদ্যুতিকরণ হয়েছে। সুবর্ণরেখা নদীর উপর জঙ্গল সেতু হয়েছে। স্পোর্টস কমপ্লেক্স হয়েছে। মাও হানায় মৃতদের পরিবারকে সাহায্য করেছি। ৩ কোটি মানুষ দুয়ারে সরকারের আওতায় এসেছে।"

Carousel imageCarousel imageCarousel imageCarousel imageCarousel image

নিজস্ব সংবাদদাতা

ঝাড়গ্রাম

'মেন্টাল ম্যানিফেস্টো' - সমাজকে, তার মানুষজনকে অন্যভাবে বিশ্লেষণ করার এক প্রয়াস



একটি ঘোষণাপত্র। যেখানে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে মানুষের মানসিক পরিস্থিতি নিয়ে। আমরা সাধারণ মানুষ খুব সহজেই মানসিক বা স্বাভাবিক আচরণের একটু এদিক-ওদিক দেখলেই তকমা দিয়ে দিই পাগলামো করছে না কি? কিন্তু অতই কী সহজ, মানুষের অস্বাভাবিকতাকে বিশ্লেষণ করা? তারই উত্তর খুঁজে চলেছেন পরিচালক দিগন্ত দে তাঁর প্রথম ইনভেস্টিগেটিভ ডকু ফিচার 'মেন্টাল ম্যানিফেস্টো'-য়।

আসলে মানুষের আচরণ বা মানসিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্লেষণ করার মধ্যে বা সেই খোঁজের মধ্যেই আছে একটা স্পর্ধা। সমাজের চেনা ছক থেকে বেরিয়ে মানুষকে অন্যরকমভাবে ভাবানোর একটা প্রচেষ্টা, যা করে দেখাচ্ছেন দিগন্ত। সামাজিক বা মানসিক কোন পরিস্থিতির মধ্যে দাঁড়িয়ে একটি মানুষ তার নিজের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে, তাও আমরা অনুধাবন করতে পারব এই ছবি থেকে। ছবিতে যেমন রয়েছে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মানিসক অবস্থার বিশ্লেষণ, তেমনি রয়েছে ডাক্তার, অভিনেতা, পরিচালকদের এই নিয়ে মন্তব্য। রয়েছে সমাজের ধর্মীয় দিক, অসামাজিক কার্যকলাপের পেছনে মানুষের মানসিকতার বিশ্লেষণ। শুধুমাত্র দেশের তথ্য নিয়েই সন্তুষ্ট থাকেননি দিগন্ত, পড়াশুনো করেছেন বিদেশেরও বেশ কিছু ঘটনা নিয়ে এবং অবশ্যই তা উঠেও এসেছে এই ছবিতে।

ছবিটিতে আছেন বেশ কিছু বিখ্যাত মানুষ যেমন কমলেশ্বর মূখার্জী, সুদেষ্ণা রায়, চন্দন সেন প্রমুখ, যাঁরা নিজেদের মত করে এই বিষয়টি বিশ্লেষণ করেছেন। সিনেমা টিতে থাকছেন ২৬/১১ মুম্বই হামলায় দোষী কাসভের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্বাস কাজমী। তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখেছেন বিষয়টি এবং তাঁর মতামত ব্যক্ত করেছেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আব্বাস কাজমী প্রথমবার মুখ খুলছেন এই ছবিটিতে। এছাড়াও পরিচালকের কথা অনুযায়ী - 'ছবিতে খুব শীঘ্রই বিভিন্ন দেশের সেনসিটিভ ডকুমেন্ট লিক করা হবে কারণ তার সাথে অনেকগুলি বিষয় ওতপ্রোতভাবে জড়িত!'

ডায়োরামা আন্তর্জাতিক ফিল্ম বাজারে 'মেন্টাল ম্যানিফেস্টো' প্রজেক্ট টি রেকমেন্ডেশন অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে। ছবিটি নিয়ে ইতিমধ্যেই উৎসাহ তৈরী হয়েছে প্রচুর ফিল্ম জগতের মানুষজনের। ছবিটি যে অন্যরকমভাবে সমাজের অন্যরকম একটি বিষয় মেলে ধরতে চাইছে তা হলফ করে বলাই যায়। অধীর আগ্রহে তাই সকলেই অপেক্ষায় রয়েছেন ছবিটি মুক্তির। অতিমারির এই সময়ে মাঝে মাঝেই ছবি তৈরির ক্ষেত্রে এসেছে বাধা। কিন্তু সমস্ত বাধা পেরিয়ে আর কিছুদিন পরেই মুক্তি পেতে চলেছে 'মেন্টাল ম্যানিফেস্টো'। পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ শেষ করে ছবিটি মুক্তি পেতে পারে ২০২২ এর জানুয়ারি মাসে এমনটাই মনে করছেন, বলা ভালো এমনটাই চাইছেন পরিচালক।

পরিচালকের বিষয়ে বলতে গেলে বলতে হয়, এর আগে একাধিক পুরস্কার প্রাপ্ত শর্ট ফিল্ম করেছেন দিগন্ত দে। এশিয়ার ২০ জন উঠতি পরিচালকের মধ্যে ২০২০ সালে পরিচালক দিগন্ত দে জাপানের 'কিয়োটো ফিল্মমেকারস ল্যাব' এ আমন্ত্রণ পেয়েছেন। যেখানে মোট আবেদনকারী ছিলেন ১৫০০ এর কাছাকাছি। সম্প্রতি, কলকাতায় ঋতুরঙ্গম চলচ্চিত্র উৎসবের 'ফেস্টিভ্যাল অ্যাডভাইসার' হয়েছেন। দেশে ট্যালেন্ট পুল তৈরীর লক্ষ্যে ফিল্মমেকারস ল্যাব আয়োজন করা হচ্ছে। সেখানে হলিউড, বলিউড ও কলকাতার নামজাদা চলচ্চিত্র ব্যক্তিদের মেন্টর হিসেবে নিয়ে আসতে দিগন্ত-র একটি বড় ভূমিকা থাকছে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল দিগন্ত দে, কোনো ফিল্ম স্কুল ট্রেইন্ড নন, ২০২০ সালে FTII থেকে ফিল্ম এপ্রিসিয়েশন করেছেন। তাঁর কথায় সিনেমা হলো "একটা লার্জ আর্ট ফর্ম, যা হাতে ধরে শেখানো যায় না। চোখ তৈরী করতে হয়। এখন এই গ্লোবালাইজেশনের দুনিয়ায় শেখাটা খুব একটা কঠিন কিছু নয়, ভাল বই পড়ুন, সিনেমা দেখুন, জার্নাল পড়ুন সেটাই অনেকটা কাজে দেবে কিন্তু আপনাকে অন্যান্যদের থেকে আলাদা ফর্ম তৈরি করতে হবে যা মানুষের মন ছুঁয়ে যায় তবেই মানুষ আপনার কাজকে আলাদা জায়গা দেবে"। ছবিটিতে চিত্রগ্রহণ করেছেন কৌস্তভ ধারা এবং সম্পাদনায় রয়েছেন রাজকুমার মৈত্র|

Carousel imageCarousel imageCarousel imageCarousel imageCarousel imageCarousel imageCarousel imageCarousel image

Written By

Swarnali Goswami

রাস্তার ধারে বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে বৃহদাকার একটি গাছ, নির্বিকার প্রশাসন

রাস্তার ধারে বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে বৃহদাকার একটি গাছ। তার নিচ দিয়ে চলছে ঝুঁকিবহুল যাতায়াত। প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে জানিয়েও কোনো কাজ হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীদের। ঘটনা পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদা থানার ঠাকুরচক এলাকায়। জানা যায় বেলদা কাঁথিগামী রাজ্য সড়কের কাছে ঠাকুরচকে বিশ্রামাগার সংলগ্ন স্থানে এক বৃহদাকার পূর্ণবয়স্ক শিরীষগাছ দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে মৃত অবস্থায় রয়েছে। যার কয়েকটি ডাল ইতিমধ্যে খসে পড়ছে। বিপদের সম্মুখীন হয়েছেন পথচলতি মানুষেরা। তবে সে যাত্রায় বড় কোনও বিপদের সম্মুখীন না হলেও বৃহত্তর বিপদের সম্মুখীন হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে ওই গাছটি। যা জেনেও উদ্যোগ নিচ্ছে না প্রশাসন বলে অভিযোগ সচেতন এলাকাবাসীদের। তবে কি বৃহত্তর ঘটনা ঘটলে তার পরেই টনক নড়বে প্রশাসনের? এখন এটাই প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে এলাকাবাসীদের মনে। ঘটনায় আরও জানা যায় গাছটি রাজ্য সড়কের ধারে পিডব্লিউডি অর্থাৎ পরিবহন দফতরের সীমানার মধ্যে পড়ে যাওয়ায় পঞ্চায়েত বা প্রধানের তরফ থেকে তেমন কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। তবে এটি পঞ্চায়েত এলাকায় হোক বা পরিবহন দপ্তরের এলাকায়, বিপদ কিন্তু পথচলতি মানুষের সন্নিকটে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। শুধুমাত্র গাছটি শুকনো অবস্থায় রয়েছে তাই নয় তার কাছেই রয়েছে উচ্চ বৈদ্যুতিক সম্পন্ন কিছু বিদ্যুতের তার ও খুঁটি, যা যে কোনো সময় ওই গাছের ডাল বা গাছটি ভেঙে পড়লে তা আরও বৃহত্তর বিপদের সম্মুখীন হওয়ার সংকেত দিচ্ছে। যদিও এসব দেখেও ঘুম ভাঙেনি প্রশাসনের এমনটাই অভিযোগ খোদ এলাকাবাসীদের। এখন দেখার এই বিপদ থেকে কবে নিস্তার পান এলাকার মানুষেরা। সেই দিকে তাকিয়ে এলাকাবাসীরা।


Carousel imageCarousel imageCarousel image

নিজস্ব সংবাদদাতা,

পশ্চিম মেদিনীপুর

কলকাতায় কাজ শুরু করলো 'Premanu Foundation'



কলকাতার শ্যামবাজারের অঞ্চলের ১০০ জন সুবিধাবঞ্চিত শিশুর মাঝে শিক্ষা সামগ্রী ও মাস্ক বিতরণ করলো প্রেমানু ফাউন্ডেশনের সদস্যরা।

দিল্লীতে দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের অধিকার নিয়ে কাজকরা সংগঠনটি এই প্রথম কাজ শুরু করলো কলকাতায়। কোভিড অতিমারীর সম্মুখীন হয়ে বন্ধ সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে নিশ্চিত ভাবে বলতে পারছেনা কেউ ই। এই পরিস্থিতিতে ছাত্র -ছাত্রী দের শিক্ষার আঙ্গিনায় ধরে রাখতে সচেষ্ট হল প্রেমানু ফাউন্ডেশন। শিক্ষা সামগ্রী ও এন ৯৫ মাস্ক বিতরণের পাশাপাশি সরকারী স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে ছাত্র -ছাত্রী এবং অঞ্চলের মানুষের মধ্যে সচেনতনতার প্রচার করলো সংগঠনটি।

Carousel imageCarousel imageCarousel image

সংগঠনটির কলকাতার প্রতিনিধি শুভজিৎ দত্তগুপ্ত জানান, "প্রেমানু ফাউন্ডেশন বহুদিন ধরে দিল্লীর বিভিন্ন প্রান্তে কাজ করলেও কলকাতায় এই প্রথম কোনো কর্মসূচী পালিত হলো। আমরা আগামী দিন আরো ব্যাপক কর্মকান্ড নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তের সুবিধাবঞ্চিত শিশুর মাঝে যাওয়ার চেষ্টা করবো।"


Written By

Subhajit Duttagupta

২১ জুলাই মহাকাশ ঘুরতে যাচ্ছেন জেফ বেজোস, স্মরণীয় এই মুহূর্তের অংশীদার ভারতীয় মহিলা সঞ্জল গবান্ডে


দলবল নিয়ে মহাকাশ ঘুরতে যাচ্ছেন অ্যামাজন কর্তা জেফ বেজোস। ২০২১-এর ২০ জুলাই স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় পশ্চিম টেক্সাসের মরুভূমির ‘লঞ্চ সাইট ১’ থেকে চার জন যাত্রী-সহ উৎক্ষেপিত হবে ‘নিউ শেপার্ড’। তাঁদেরই এক জন হবেন জেফ নিজে। সেই স্বপ্নের উড়ানের অংশীদার হতে চলেছেন এক ভারতীয় মহিলা। সঞ্জল গবান্ডে।

অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফের জন্য নিজের হাতে মহাকাশযান বানিয়ে দিয়েছেন তিনি। সঞ্জল স্বপ্ন দেখেছিলেন মহাকাশযান বানানোর। ৩০ বছরের এই ইঞ্জিনিয়ারের জন্ম মহারাষ্ট্রের কল্যাণের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে। বাবা মু্ম্বই কল্যাণ-দম্ভিবলি পুরসভায় কাজ করতেন। মা এমটিএনএল-এর অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। মুম্বইয়ের স্কুলেই পড়াশোনা সঞ্জলের। তার পর মুম্বই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন। ২০১১ সালে স্নাতকোত্তরের জন্য তিনি আমেরিকায় উড়ে যান। আমেরিকার মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়েই স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এর পর তিনি নাসায় কাজের জন্য আবেদন করেন। কিন্তু নাগরিকত্ব সংক্রান্ত কিছু সমস্যার জন্য নাসায় চাকরি করা হয়ে ওঠেনি। দমে যাননি সঞ্জল। মেরিন এবং রেসিং কার সংস্থার জন্য কাজ শুরু করেন তিনি। তখন তিনি টয়োটায় কাজ করতেন। টয়েটোয় থাকাকালীন তিনি পাইলটের প্রশিক্ষণও নিতে শুরু করেছিলেন। সপ্তাহে ছুটির দিনে প্রশিক্ষণ নিতেন। ২০১৬ সালে পাইলটের লাইসেন্সও পেয়ে যান।


কিন্তু এত কিছুর মধ্যেও মহাকাশযানের স্বপ্ন দেখা ছাড়েননি সঞ্জল। সেই স্বপ্ন বাস্তব রূপও পেল। অ্যামাজন প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের মহাকাশযান দলের সদস্য হলেন তিনি। জেফের সংস্থা ‘ব্লু অরিজিন’ এই রকেট বানিয়েছে। রকেটটি বানানোর জন্য বাছাই করা দক্ষ ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়োগ করেছেন জেফ। ওই দলেরই একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হলেন সঞ্জল। রকেটের ইঞ্জিন বানানোর দায়িত্ব ছিল তাঁরই উপর।

মহাকাশে মানুষের থাকার জন্য ‘স্পেস কলোনি’ বানানোর উদ্দেশ্যেই ২০০০ সালে ‘ব্লু অরিজিন’ সংস্থার সূচনা করেন জেফ। মহাকাশ পর্যটন-সহ বহু পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। আপাতত প্রচুর ওজন সমেত মহাকাশে যেতে পারে, ‘নিউ গ্লেন’ নামে এমন এক রকেট বানানো হচ্ছে সংস্থাটিতে। অ্যাপলো ১১-র চাঁদে অবতরণের ৫২তম বছরকে সম্মান জানাতেই এই দিনটি বেছে নিয়েছেন জেফ। এখনও অবধি কোনও যাত্রী ছাড়া অন্তত ১৫টি উৎক্ষেপণ সফল হয়েছে স্বয়ংক্রিয় ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য এই যানের। জেফের সহযাত্রী হচ্ছেন ৮২ বছর বয়সি মহিলা বিমানচালক ওয়ালি ফাঙ্ক। সব ঠিক থাকলে তিনিই হবেন প্রবীণতম মহাকাশচারী। এছাড়াও অলিভার ডিমেন নামে এক ডাচ কিশোর হবেন সর্বকনিষ্ঠ মহাকাশযাত্রী। ১৮ বছরের অলিভার নেদারল্যান্ডসের এক ধনকুবেরের ছেলে। আর এক সহযাত্রী হিসেবে থাকছেন জেফের ভাই মার্ক। ‘নিউ শেপার্ড’ ১০০ কিলোমিটার উচ্চতায় মহাকাশ ও পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্যবর্তী কারম্যান লাইনে কিছু ক্ষণ অবস্থান করবে। পৃথিবীর কক্ষ পথ ছাড়িয়ে মহাকাশে ঘুরে বেড়ানোর জেফের স্বপ্ন পূরণ হওয়ার অপেক্ষা মাত্র।


Carousel imageCarousel imageCarousel imageCarousel image

Written By

Swarnali Goswami

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্ট দেখার পর সরকারের পদত্যাগ করা উচিত বললেন শুভেন্দু অধিকারী

বৃহস্পতিবার আচমকা গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার সভাপতির পদ ও মোর্চার সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করলেন বিনয় তামাং


শালবনীর গোয়ালডিহিতে 'শিশু আলয়' নামে একটি মডেল অঙ্গনওয়াড়ির শুভ উদ্বোধন করলেন জেলাশাসক

বিজেপি কর্মীর বাড়িতে দুষ্কৃতীদের বোমাবাজি ব্যারাকপুরে

পেট্রোলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে চন্দ্রকোনারোড শহরে প্রতিবাদ মিছিল ব্লক তৃণমূলের ST সেলের

ভাটপাড়া পুরসভার মধ্যে গুলি কাণ্ডে ধৃত যুবক

পুরসভা কম্পাউন্ডে গুলি, ক্ষোভে পদত্যাগ ভাটপাড়ার পুর প্রশাসকের

পেলাগেড়িয়াতে দুর্ঘটনার কবলে মাল বোঝাই কন্টেনার,হতাহতের কোনো খবর নেই

ভারতীয় জনতা পার্টি শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলার তরফে একাধিক দাবি নিয়ে স্মারকলিপি

নিমতায় এক মাঝবয়সীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে ধৃত রিহ্যাব সেন্টারের দুইজন


এক ব্যবসায়ীর উদ্যোগে বেলাকোবার নাবালিকাকে বাড়ি ফেরানো গেল

নিজস্ব সংবাদদাতা

দার্জিলিং


রাজ্যে বিধিনিষেধ চলবে ৩০ জুলাই পর্যন্ত। চলবে না লোকাল ট্রেন, তবে মেট্রো চলবে আংশিকভাবে

১৫ জুলাই শেষ হচ্ছে আগের ঘোষণা করা বিধিনিষেধ। তবে ফের ৩০ জুলাই পর্যন্ত রাজ্যে বিধিনিষেধ বহাল থাকল। আপাতত বন্ধই থাকছে লোকাল ট্রেন। আন্তঃরাজ্য ট্রেন চলাচলও বন্ধ থাকবে। জেলায় কোভিড সংক্রমণের বিষয়টি মাথায় রেখে সেই পথে না হাঁটার সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। তবে আংশিক খুলছে মেট্রো। ৫০% যাত্রী নিয়ে শনি ও রবিবার বাদে চালু হচ্ছে মেট্রো।

এছাড়া স্থানীয় এবং আন্তঃজেলা বাস, লঞ্চ, ট্যাক্সি, অ্যাপক্যাব, অটো ইত্যাদি পরিষেবা ৫০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে চালু থাকবে। জরুরি পরিষেবায় যুক্ত অফিস আগের মতোই খোলা থাকবে। প্রত্যক্ষ ভাবে ২৫ শতাংশ কর্মী নিয়ে চালু থাকবে সরকারি অফিসগুলি। টিকাকরণ হয়ে গিয়েছে এমন ৫০ শতাংশ লোক নিয়ে চালু রাখতে হবে বেসরকারি অফিস। টিকা নিয়েছেন এমন ব্যক্তিরাই প্রাতঃভ্রমণে পার্কে যেতে পারবেন সকাল ছ'টা থেকে ন'টার মধ্যে। ৫০ শতাংশ আসন নিয়ে খোলা থাকবে রেস্তোরাঁ। সকাল ছ'টা থেকে দশটা আবার বিকেল চারটে থেকে আটটা অবধি ৫০ শতাংশ লোক নিয়ে চালু রাখা যাবে জিম। ব্যাঙ্ক খোলা থাকবে সকাল দশটা থেকে দুপুর তিনটে পর্যন্ত। ই-কমার্সের হোম ডেলিভারি চালু থাকবে। বিধি মেনে খুলতে হবে দোকান বাজার। স্বাভাবিক ভাবে দোকান খুলে রাত ন'টা পর্যন্ত চালু রাখা যাবে। সিনেমা হল স্পা সুইমিংপুল বন্ধ থাকবে। জাতীয়, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী প্রতিযোগীরা যেখানে প্রশিক্ষণ নেন বা প্র্যাকটিস করেন, তাঁরা সকাল ছ'টা থেকে সকাল দশটা পর্যন্ত সুইমিংপুল ব্যবহার করতে পারবেন। সমস্ত স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধই থাকছে এই পর্বে। সমস্ত ধরনের রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান বন্ধ থাকছে। করা যাবে না কোনওরকম জমায়েত। ৫০ শতাংশ উপস্থিতি নিয়ে বিয়ের অনুষ্ঠান করা যাবে, শেষকৃত্যে যোগ দিতে পারবেন ২০ জন। ৫০ শতাংশ উপস্থিতি নিয়ে শুটিং চলবে।

মঙ্গলবার রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের বুলেটিন সূত্রে জানা যাচ্ছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলায় করোনায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৬৩ জন। একদিনে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১৭ জনের। রাজ্যে সুস্থতার হার ৯৭.৮৮ শতাংশ। একদিনে বাংলায় সুস্থ হয়েছেন ১১৮৬ জন। এই মুহূর্তে রাজ্যে অ্যাক্টিভ কেসের সংখ্যা ১৪ হাজার ১৯১। বাংলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১৫ লাখ ১৩ হাজার ৮৭৭। মোট সুস্থ হয়েছেন ১৪ লাখ ৮১ হাজার ৭৪২। মোট মৃতের সংখ্যা ১৭ হাজার ৯৪৪।



Written By

Swarnali Goswami

দার্জিলিঙের ম্যালে কবি ভানুভক্ত আচার্য -র ২০৭ তম জন্মজয়ন্তী উদযাপন

নিজস্ব সংবাদদাতা

দার্জিলিং

কেশিয়াড়িতে সুগন্ধী ধান ও কৃষিজ সামগ্রী বিতরণ শিবির

নিজস্ব সংবাদদাতা

পশ্চিম মেদিনীপুর

টিটাগড় জুটমিল এবং পানিহাটি শিল্পাঞ্চলের কোভিড টিকাকরণ কর্মসূচী

নিজস্ব সংবাদদাতা

ব্যারাকপুর

সোদপুরে স্টেশন রোডে বন্ধ থাকা তুলোর গোডাউনে বিধ্বংসী আগুন

পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কেশপুরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত দফতরের প্রতি মন্ত্রী শিউলি সাহা


পেট্রোপণ্যের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি, তারই প্রতিবাদে রাজ্য তৃণমূলের নির্দেশ অনুসারে রাজ্য জুড়ে চলছে প্রতিবাদ বিক্ষোভ কর্মসূচি।

সেই মতই রবিবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুর বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক তথা রাজ্যের পঞ্চায়েত দফতরের প্রতিমন্ত্রী শিউলি সাহার নেতৃত্বে কেশপুরে তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে পেট্রোলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের তুঘলকি শাসনের বিরুদ্ধে এবং পেট্রোল ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের মুল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে তৃণমূলের কর্মী ও সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিন প্রতীকী প্রতিবাদ হিসাবে রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী শিউলি সাহা কাঠের উনুনে জাল দিয়ে ভাত রান্না করেন মহিলা তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের সাথে। তারপর অবস্থান বিক্ষোভ কর্মসূচি তে অংশগ্রহণ করেন।

সেই সঙ্গে কেশপুর ব্লকের ১১ নং অঞ্চলের কলাগ্রামে নরেন্দ্র মোদীর কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়।

কুশপুতলে আগুন দেন ১১ নম্বর অঞ্চলের তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি কাজী শাহাদাত। রাজ্যের পঞ্চায়েত দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী শিউলি সাহা বলেন পেট্রোল ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির ফলে প্রতিদিন জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। যার ফলে অসহায় অবস্থার মধ্যে দিন কাটাতে হচ্ছে সাধারন মানুষদের। কিন্তু কেন্দ্রের বিজেপি সরকার পেট্রোল-ডিজেলের দাম কমাতে ব্যর্থ। তাই প্রতিদিন পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ছে।তা সত্ত্বেও কেন্দ্রের বিজেপি সরকার নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে ।তাই তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে রবিবার কেশপুরে পেট্রল ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়

এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেনরাজের প্রতি মন্ত্রী শিউলি সাহা ছাড়াও তৃণমূল কংগ্রেসের কেশপুর ব্লক এর সভাপতি উত্তমানন্দ ত্রিপাঠী, জেলা নেতৃত্ব চিত্ত রঞ্জন গরাই, সেখ হবিবুর রহমান সহ দলের অন্যান্য নেতৃত্বরা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

পশ্চিম মেদিনীপুর

সন্মার্গ ফাউন্ডেশন তাদের পুরস্কার প্রদান উৎসবের ১৬ তম পর্বে কিছুটা পরিবর্তন করে 'রাম অবতার গুপ্ত প্রোৎসাহন ২০২১' নামে প্রকাশিত হতে চলেছে


১৯৪৬ সালে প্রতিষ্ঠিত কলকাতা কেন্দ্রীক হিন্দি 'দৈনিক সন্মার্গ' পূর্ব ভারতের একটি প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান। স্বাধিকার এবং মানবতার ওপর ভিত্তি করে এই প্রতিষ্ঠানের সৃষ্টি করেছিলেন 'স্বামী করপতরি জি মহারাজ'। বাংলার ২৩টি রাজ্যের কোনায় কোনায় ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি এই দৈনিক বর্তমানে পাটনা, ভুবনেশ্বর, কলকাতা এবং রাঁচি থেকে প্রকাশিত হয় এবং প্রিন্ট মিডিয়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি ডিজিটাল মিডিয়াতেও সমান প্রতিষ্ঠিত।

'সন্মার্গ রিলিফ ফান্ড কলকাতা', যা বর্তমানে 'সন্মার্গ ফাউন্ডেশন' নামে খ্যাত, তা গড়ে ওঠে ২০০১ সালে। হিন্দি ভাষায় শিক্ষাদান, সামগ্রিকভাবে সকলের জন্য শিক্ষা প্রদানের উদ্দেশ্যে গড়ে ওঠে এই প্রতিষ্ঠান। হিন্দি সাহিত্যে উৎকর্ষতার পুরস্কার হিসেবে তথা এই বিষয় নিয়ে এগিয়ে যাবার জন্য পড়ুয়াদের 'প্রতিভা পুরস্কার' প্রদান শুরু হয় ২০০৬ সালে। পরে প্রয়াত সম্পাদক শ্রী রাম অবতার গুপ্তের নামে এই পুরস্কারটির নামকরণ করা হয় 'রাম অবতার গুপ্ত প্রতিভা পুরস্কার' নামে। সংস্থাটি সমাজের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন রকম অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। বিগত দেড় দশক ধরে এই পুরস্কার হিন্দি ভাষাকে অনন্য সম্মান প্রদান করেছে এবং হিন্দি ভাষা নিয়ে ছাত্রদের উচ্চস্তরীয় পড়াশোনা করতে, বৃত্তি প্রদান করেছে তথা ছাত্র, শিক্ষক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিন্দি ভাষাকে মান্যতা দেওয়ার ক্ষেত্রে এক অনন্য ভূমিকা নিয়েছে।

এই বছর ১৬তম পুরস্কার প্রদান উৎসব বর্ষের মুহূর্তে 'রাম অবতার গুপ্ত প্রতিভা পুরস্কার', 'রাম অবতার গুপ্ত প্রোৎসাহন পুরস্কার' নামে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছে। এছাড়াও এই বছর 'গুরু প্রণাম' নামে নতুন একটি পুরস্কারের শুরু হতে চলেছে, হিন্দি ভাষায় শিক্ষা প্রদানকারী শিক্ষকদের পুরস্কৃত করার লক্ষ্যে এবং এ বিষয়ে উত্তরবঙ্গে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

সন্মার্গ এন্ড ট্রাস্টি তথা সন্মার্গ ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর শ্রীমতি রুচিকা গুপ্তা জানান, "এই পুরস্কারের যোগ্যতার মানদন্ড অতিমারির কারণে একটু পাল্টানো হয়েছে, কিন্তু তা সত্ত্বেও প্রচুর আবেদন এসেছে সারা দেশ থেকে, যার কারনে আমরা সত্যিই আপ্লুত। ২০০৬-০৭ সালে যেখানে হিন্দিতে সর্বোচ্চ নম্বর আসত ৯০-৯২, সেখানে বর্তমানে পড়ুয়ারা ফুল মার্কস পাচ্ছে। এটি একটি যথেষ্ট সম্ভাবনাময় দিক হিন্দি সাহিত্যের ক্ষেত্রে। এই পুরস্কার হিন্দিতে আরও বেশি নম্বর তোলার জন্য সকলকে উৎসাহিত করছে। এই অতিমারির আবহে অনুষ্ঠানের কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু মূল ব্যাপার একই থাকছে এবং এই বছর থেকে 'রাম অবতার গুপ্ত প্রোৎসাহন' নামে পুরস্কারটির প্রচার করা হবে"।


Written By

Swarnali Goswami

এবছর তিস্তা নদী ভয়ানক রূপ নিয়েছে, জলস্তর বাড়ছে প্রতি ঘন্টায়

আমাদের দেশ অনেকটাই নদীমাতৃক আর নদীকে ঘিরেই জীবন যাপন করে বহু মানুষ। জীবিকার অঙ্গ হিসেবে নদী তীরে বসবাসকারীদের নানা কাজ করতে দেখা যায়। আবার এই নদীই জীবন কেড়ে নেয়় তার ভয়াল রুদ্র রূপের কবলে পড়লে| সিকিম থেকে উৎপওি হয়েছে তিস্তা নদী যা অনেক জায়গা দিয়ে বয়ে বাংলাদেশের গিয়ে পড়েছে| শিলিগুড়ি থেকে কালীঝোড়া হয়ে সেবককে পিছনে ফেলে সিকিম যাওয়ার রাস্তায় পড়ে তিস্তা নদী গভীর খাতে বয়ে যাওয়া নদীর রূপ ভয়ঙ্কর হয় পাহাড়ে ভারী বৃষ্টি হলে| বহু বছর ধরে এই নদীর দু ধারে বসতি গড়ে উঠেছে। সিকিম থেকে বয়ে যাওয়া নদীর উপড় বাঁধ দিয়ে গড়ে উঠেছে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র ভারত সরকারের উদ্যোগে বেশ কয়েক বছর পর জলবিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয় তখন থেকে এই এলাকাবাসীরা নানা অসুবিধার মধ্যে পড়েন। জীবিকার অধিকার কেড়ে নেয় সরকারী কিছু অবাস্তব পরিকল্পনা যার পেছনে রাজ্য ও কেন্দ্রের সরকার সমানভাবে দায়ী। আজও বহু মানুষ জমির পাট্টা পায় নি| প্রতিবছর জলস্তর বাড়ার ফলে ঘর বাড়ী ভেসে যায় সরকার তাদের অন্য জায়গায় জমির ব্যবস্থা করেনি তাই তাদের সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয় | জলবিৎদ্যুৎ প্রকল্পের জন্যে কালীঝোড়ায় ধ্বস নামে একটু বৃষ্টি হলেই বলে অভিযোগ|

এক নাগাড়ে বৃষ্টিপাতের জন্যে তিস্তা নদীর জলস্তর বাড়ার ফলে তিস্তা নদীর তীরে বসবাস করে এমন একটি পরিবার তাদের অন্য জায়গায় চলে যেতে হয়েছে | বিশেষ করে সিকিমে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের জন্যে বুধবার থেকে তিস্তা নদীর জলস্তর হঠাৎ বেড়ে যায় আজ বৃহস্পতিবার সকালে তিস্তা নদীর জলস্তর বিপদ সীমা অতিক্রম করে তিস্তার নদীর দু পাশে বসবাসকারীরা আতঙ্কিত হয়ে ওঠে। ঘরে বসবাসকারী পরিবারের সদস্যরা আগেই ঘর ছেড়ে নিরাপদ জায়গায় চলে যাওয়াতে জীবন হানি হয়নি তবে ঘরের সমস্ত অসবাবপত্র নদীর জলে ভেসে যায়, পরিবারের সদস্যরা নিজেদের আত্মীয়দের বাড়িতে আশ্রয় নেয়| উল্লেখ্য ত্রিবেনীতে কোভিড হাসপাতালের রাস্তায় জল চলে আসে। এবছর তিস্তা নদী ভয়ানক রূপ নিয়েছে, জলস্তর বাড়ছে প্রতি ঘন্টায়|



নিজস্ব সংবাদদাতা

দার্জিলিং


We are The Common People এবং Gunj এর খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হলো শ্যামবাজারে


করোনা ভাইরাস এর কারনে দিন আনা খেটে খাওয়া মানুষগুলো কাজ হারিয়ে চরম অসহায় জীবন যাপন করতে বাধ্য হয়েছে। এই মহামারীর প্রকোপে কর্মহীন অসহায় পরিবারের মাঝে মানবিক সহায়তা কার্যক্রম "রাহাত " কর্মসূচীর মাধ্যমে রেশন পৌঁছে দিয়ে পাশে দাঁড়ানোর প্রয়াস করলো We are The Common People এবং Gunj .করোনার সময়কালে, অভাবীদের খাদ্যশস্য সরবরাহের কাজ করে চলছে গুঞ্জ এবং We are The Common People। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (৬ জুলাই) এবং শুক্রবার (৯ জুলাই)কলকাতা পুরসভার ৮ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে খাদ্যসহায়তা বিতরণ করা হয়, পাশাপাশি পথ শিশুদের হাতে বিশেষ ভাবে তুলে দেওয়া হয় মাস্ক, জুস এবং কেক।

Carousel imageCarousel image

সংগঠন দুটির তরফ থেকে We are The Common People এর সাধারণ সম্পাদক শুভজিৎ দত্তগুপ্ত বলেন "যেহেতু মহামারীটি প্রান্তিক মানুষকে সবচেয়ে বেশি আঘাত করেছে তাই "রাহাত " কর্মসূচী তাদের পাশে দাঁড়ানোর একটি প্রয়াস, যার মধ্যে সামিল শহরের প্রান্তিক শ্রেণীর মানুষেরাও। রাজ্যে নির্বাচন পরবতী সময় হওয়া লকডাউনে এর আগেও 'রাহাত' কর্মসূচীর অধীনে আমরা ও 'গুঞ্জ' এই খাদ্য সামগ্রী বন্টনের কাজ করেছি। 'গুঞ্জ' এর সমর্থন ছাড়া এত বড় আকারে কাজ করা ছাত্র -যুব কেন্দ্রিক সংগঠন 'We are The Common People' এর পক্ষে সম্ভব হতো না। 'গুঞ্জ' সারাদেশে ব্যাপক ভাবে যে ত্রাণকার্য চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, এই কর্মসূচী তারই একটা অংশমাত্র। এই কর্মসূচীর পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিশেষ ভাবে ধন্যবাদ প্রাপ্য গুঞ্জ টীমের ইফতেকার আহমদ, অর্পিতা মল্লিক, সুরেন্দ্র সিং এবং সৌম্যদীপ চ্যাটার্জী। যাদের সহযোগীতা ছাড়া এত বড় পরিকল্পনা গ্রহণ সম্ভব ছিলোনা।


By

Subhajit Duttagupta

অবৈধ বালি পাচার রুখতে পশ্চিম মেদিনীপুরের ৫টি স্থানে নাকা চেকিং, বসল সিসি ক্যামেরা, গ্রেফতার ২৩ জন


অবৈধ বালি পাচার রুখতে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ৫টি এলাকায় নাকা চেকিং এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পুলিশ সুপার দীনেশ কুমার জানান, কয়েকটি এলাকায় সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। ওই সব এলাকায় সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে। শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত অবৈধ বালি খাদানের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ২৩ জনকে। আটক করা হয়েছে বালি তোলার যন্ত্র, দুটি জেসিবি মেশিন, বালি বোঝাই ৩৪ টি গাড়ি। এছাড়াও গড়বেতা সহ বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে বালি মজুত করার জন্য ২৬ টি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে। রাজ্যের জল সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী ডাক্তার মানস ভুঁইয়া পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন নদীগর্ভ থেকে বেআইনিভাবে বালি তোলা বন্ধ করার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন। মন্ত্রী ডাক্তার মানস ভূঁইয়ার নির্দেশের পরেই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। তাই শনিবার রাত থেকেই বেআইনি বালি খাদান এর বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান শুরু করেছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশ। যার ফলে বেশীরভাগ অবৈধ বালি খাদানগুলিতে রবিবার সকাল থেকে বেআইনিভাবে যারা নদী থেকে বালি তুলে বিক্রি করতো সেই বালি মাফিয়াদের দেখতে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন এই অভিযান যদি নিয়মিত চলে তাহলে অবৈধভাবে নদী থেকে বালি তোলা বন্ধ হবে। তা না হলে ফের আবার বালি তোলার কাজ চালু হয়ে যাবে। তাই পুলিশ প্রশাসনের কাছে ওই এলাকা গুলির বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিয়মিত পুলিশি অভিযান চালানো হোক বেআইনি বালি খাদান গুলির বিরুদ্ধে|

নিজস্ব সংবাদদাতা,

পশ্চিম মেদিনীপুর

বেলঘড়িয়ার বিভা মোড়ে তৃণমূলের কার্যালয়ে ঢুকে দুষ্কৃতী হামলা, জখম ২

শনিবার রাতে তৃণমূলের কার্যালয়ে ঢুকে দুষ্কৃতী হামলা। হামলায় জখম দুই তৃণমূল কর্মী। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে বেলঘড়িয়া থানার কামারহাটি পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বিভা মোড় এলাকায়। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী খবর, ওইদিন রাতে কয়েকজন গল্প করছিলেন দলীয় কার্যালয়ে বসে। পাঁচটি মোটর বাইকে চেপে একদল দুষ্কৃতী আচমকা সেখানে হানা দেয়। অভিযোগ, মানস বর্ধন নামে এক কর্মীকে পার্টি অফিস থেকে টেনে বাইরে বের করার চেষ্টা করে দুষ্কৃতীরা। সেইসময় দুষ্কৃতীদের বাধা দেয় শুভ গায়েন। দুষ্কৃতীরা বাধা পেয়ে শুভর মাথায় পিস্তলের বাট দিয়ে আঘাত করে। এরপর দুষ্কৃতীরা পাঁচ রাউন্ড গুলি চালায় বলে অভিযোগ। গুলিবিদ্ধ হয়ে মানস বর্ধন কলকাতার বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে আসেন বিধায়ক মদন মিত্র। তাঁর অভিযোগ, পার্টির মধ্যে দালালদের ঢুকিয়ে দিচ্ছে বিজেপি। আর সেই দালালগুলোকে পয়সা খাইয়ে তাদের দিয়ে মস্তানি করানো হচ্ছে। প্রতি রাতে তৃণমূলের লোকজন এলাকা পাহারা দেবে বলে জানান মদন মিত্র। যদিও বিজেপির দাবি, তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে তোলাবাজি ও সিন্ডিকেটের ভাগ-বাটোয়া নিয়ে গন্ডগোলের জেরেই এই ঘটনা। পুলিশ তদন্তে নেমে রফিক আলি, তন্ময় বোস, বিপ্র মন্ডল-সহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। আজ সকালে এলাকায় মানুষ দৈনন্দিন কাজে বেরোলেও এলাকা কিন্তু থমথমে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

ব্যারাকপুর

আমির খান ও কিরণ রাও নিজেদের ডিভোর্স ঘোষণা করলেন

ডিভোর্স ঘোষণা করলেন আমির খান ও কিরণ রাও। শনিবার সকালেই একটি যৌথ স্টেটমেন্টে আমির ও কিরণ জানান, তাঁদের ডিভোর্স হয়ে গিয়েছে। গত বেশ কিছুদিন ধরে তাঁরা প্ল্যান্ড সেপারেশনে ছিলেন বলে জানান তাঁরা। জীবনে নতুন পথ চলা শুরু করার খবর ফ্যানদের জানাতেই এই ঘোষণা। সারোগেসির মাধ্যমে হওয়া একমাত্র সন্তান আজাদ-এর কো-পেরেন্টিংয়ের দায়িত্ব যে তাঁরা একসঙ্গে পালন করবেন সে কথাও স্পষ্ট জানিয়ে দেন। তাঁরা জানিয়েছেন, ‘আমরা বিচ্ছেদের পরিকল্পনা বেশ কিছু সময় আগেই করে ফেলেছিলাম, এখন আমরা বিষয়টা জনসমক্ষে আনতে স্বচ্ছন্দবোধ করছি। আমরা আলাদা থাকলেও আমরা কিন্তু একই পরিবারের অংশ, সেভাবেই আমরা জীবনটা ভাগ করে নেব। আমরা আমাদের সন্তান আজাদের প্রতি সমর্পিত, যাঁকে একসঙ্গেই আমরা বড় করব’।





Written By

Swarnali Goswami

২,৩,৪ জুলাই চলছে ভার্চুয়াল আমেরিকা বঙ্গ সম্মেলন (NABC 21)

Carousel imageCarousel imageCarousel image

আমেরিকায় শুরু হল ৪১ তম বঙ্গ সম্মেলন। যার পোশাকি নাম 'গ্লোবাল কনফারেন্স ২০২১'। চলবে ২ থেকে ৪ জুলাই। এবারে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্ল্যাটফর্মে হচ্ছে 'নর্থ আমেরিকান বেঙ্গলি কনফারেন্স' (এন এ বি সি) গ্লোবাল ২০২১। প্রতিবছরই মার্কিন দেশে চাঁদের হাট বসে এই বিশ্ব বঙ্গ সম্মেলনকে ঘিরে।

তবে স্বাভাবিকভাবেই অতিমারীর কারনে গত বছর থেকে ছবিটা একটু বদলেছে। হাট বসছে ঠিকই, কিন্তু ল্যাপটপ, ডেস্কটপ, স্মার্ট টিভি অথবা মুঠোফোনের পরিসরে। পরিসর ছোট হলেও তার ব্যাপ্তি কিন্তু পৌঁছে যাচ্ছে বহুদূর। ভৌগোলিক সীমারেখা টপকে যোজন দূরের বাঙালি আত্মাকে ছুঁয়ে যাচ্ছে এই 'গ্লোবাল' কনফারেন্স। গত এক বছরের পরিশ্রমে তৈরি হয়েছে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি প্ল্যাটফর্ম। https://nabcglobal.org/ওয়েবসাইটে গিয়ে রেজিস্টার করে, ক্লিক করলেই ঘুরে বেড়ানোর সুবর্ণ সুযোগ এক্সপো জোন থেকে নানা অডিটোরিয়ামে। থ্রিডি ফরম্যাটের অডিটোরিয়ামের এক ঘর থেকে অন্য ঘরে যেতে যেতে ভার্চুয়াল ও রিয়েলিটি কোথাও যেন মিলেমিশে যাবে।

প্রায় চল্লিশ ঘণ্টার অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ অমিত কুমার সন্ধ্যা। থাকছেন শ্রীকান্ত আচার্য্য, শুভমিতা, উষা উথ্থুপ, রাঘব, উজ্জ্বয়িনী, ক্যাকটাস, অন্বেষা, দুর্নিবার, মনোজ মুরলি নায়ার -সহ বাংলার একদল শিল্পী ও কলাকুশলীরা। সারেগামাপা খ্যাত নবীন শিল্পীরাও থাকছেন গান নিয়ে। পরিচিত মুখ বাংলা পডকাস্টের পিয়া রায় থাকছেন অনুষ্ঠান সাজানোর দায়িত্বে। প্রতিদিনই থাকছে চলচ্চিত্রের প্রদর্শনী!

Written By

Swarnali Goswami

তাপপ্রবাহ এবং দাবানলে নাভিশ্বাস কানাডার। মৃত অন্তত ৫০০


গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বাধিক মৃত্যু হয়েছে কানাডায় ৷ ভ্যাঙ্কুভারের পাশাপাশি লিটন, ব্রিটিশ কলাম্বিয়া-সহ একাধিক জায়গার তাপমাত্রা উঠেছে ৪৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপপ্রবাহে কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়া প্রদেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ৪৮৬ ৷ গত কয়েকদিনে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহে মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে কানাডায় ৷ সরকারি সূত্রে এই হিসেব হলেও আসলে মৃতের সংখ্যা আরও বেশি বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা ৷

ব্রিটিশ কলম্বিয়া প্রদেশে তাপমাত্রা প্রায় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে ৷ অধিক তাপমাত্রার কারণেই ব্রিটিশ কলম্বিয়ার বেশ কয়েকটি অঞ্চলে প্রায় ১০০রও বেশি দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে বলে প্রশাসন সূত্রের খবর। আগামী কয়েকদিনও তাপমাত্রায় কোনও হেরফের হবে না বলেই জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা৷ এই প্রচণ্ড গরমে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়বে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে ৷ ব্রিটিশ কলম্বিয়ায় এই মুহূর্তে কোভিড-১৯ এর জায়গায় দাবানল এমার্জেন্সির জায়গা দখল করে নিয়েছে।

Written By

Swarnali Goswami


বিশেষ ভ্রাম্যমাণ ট্রেনে রেল কর্মীদের চলছে করোনার টিকাকরন

পূর্ব রেলওয়ের তরফে বিশেষ ভ্রাম্যমাণ ট্রেনে চলছে করোনার টিকাকরন। মূলতঃ রেল কর্মচারীদের এই টিকা দেওয়া হচ্ছে। শিয়ালদহ মেইন শাখার গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে দাঁড়াচ্ছে ভ্রাম্যমাণ 'আরোগ্য' নামে বিশেষ ট্রেন। তারপর ওই ট্রেনের কামরায় চলছে টিকাকরনের ক্যাম্প। শুক্রবার নৈহাটি স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ' আরোগ্য' নামক বিশেষ ট্রেনের কামরায় ১৫০ জন রেল কর্মচারীকে করোনার টিকা দেওয়া হয়। টিকা দেওয়ার পর রেল কর্মীদের ৩০ মিনিট পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। "এর আগে রাণাঘাটে টিকাকরণ সম্পন্ন হয়েছে। এর পরে এই ট্রেন যাবে কৃষ্ণপুর, বারাসাত, সোনারপুর। এই ট্রেন তার পর যাবে বিভিন্ন কার শেডে, যেখানে যেখানে রেলের কর্মচারীরা রয়েছে, তাদের সঙ্গে যদি বাইরের কেউ এখানে টিকা নিতে চান, তাও সম্ভব যদি পরিচয়পত্র তারা সঙ্গে আনেন" - জানালেন বিআরসিং হাসপাতালের অ্যাডিশনাল চিফ মেডিকেল সুপারভাইজার পার্থ বাবু।

Carousel imageCarousel imageCarousel imageCarousel image

নিজস্ব সংবাদদাতা

ব্যারাকপুর



ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের জন্য মাথার চুল উৎসর্গ করলেন সঙ্গীতা


বর্তমান সময়ে যেখানে প্রত্যেকে চূড়ান্ত স্বার্থপরতার নিদর্শন দিয়ে জীবন কাটাচ্ছে, সেখানে দাঁড়িয়ে যেন টাটকা বাতাস বয়ে আনল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। সকলেই শুনলে হয়তো বলবে এটা হয় নাকি,মেয়েটা হয়তো পাগল, নয়তো মাথা খারাপ। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি! এভাবেই জার্নালিজমের স্নাতোকোত্তরের ছাত্রী পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল থানার রত্নেশ্বর বাটী গ্রামের বাসিন্দা সঙ্গীতা ঘোড়ই নিজের কোমর ছুঁই ছুঁই চুল দান করলেন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের জন্য।

জানা গিয়েছে গত বুধবার নিজের সমস্ত চুল দান করলেন বছর বাইশের সঙ্গীতা। সঙ্গীতা জানালেন, তার বাবা তাকে সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে বলেছেন। বাবার কথাতেই অনুপ্রাণিত হয়ে নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়ে সঙ্গীতা কখনও তার সামর্থ্য অনুযায়ী ফুটপাথবাসীদের তুলে দিয়েছেন খাবার, কখনও বা তুলে দিয়েছেন কম্বল। আর এবার দান করলেন পুরো মাথার চুল।


তবে এভাবে মুন্ডিত মস্তক হয়ে সমাজে বেরোনো একজন নারীর পক্ষে খুব কঠিন, তবুও সঙ্গিতা তা সম্ভব করে দেখাল। গ্রামের সকলে হাসাহাসি করলেও সঙ্গীতা জানিয়েছেন, তাকে দেখে যদি আর পাঁচটা মেয়ে চুল দান করে ক্যান্সার রোগীদের পাশে দাঁড়ায় তবেই তার চুল দানের সার্থকতা। তবে সঙ্গীতার এই ধরনের সহানুভূতি দেখে যথেষ্ট আপ্লুত হয়েছে ব্লক প্রশাসন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সমাজসেবীর মানুষেরা।




Carousel imageCarousel imageCarousel imageCarousel image

নিজস্ব সংবাদদাতা

পশ্চিম মেদিনীপুর

ব্লকের অর্থলগ্নি সংস্থাগুলো থেকে নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে কেশিয়াড়িতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলোচনা

ব্লকের অর্থলগ্নি সংস্থাগুলো থেকে যাতে কেউ প্রতারিত না হন সেই বিষয়ে এবং তাদের নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে আলোচনা করল পুলিশ প্রশাসন। বৃহস্পতিবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশিয়াড়ির রবীন্দ্রভবনে কেশিয়াড়ী থানার পুলিশ, ব্লকের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক, গ্রাহক সেবা কেন্দ্র, পেট্রোল পাম্প এবং জুয়েলারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসে। তাদের নিরাপত্তা বিষয়ে খোঁজ নেয় পুলিশ। একই সঙ্গে তাদের নির্দেশ দেওয়া হয় যেন কেউ এই সব অর্থলগ্নি সংস্থাগুলি থেকে প্রতারিত না হয়। অনেক গ্রাহক সেবা কেন্দ্র থেকে টাকা জমা এবং তোলার বিষয়ে বিভিন্ন অসঙ্গতির অভিযোগ আসে। সেগুলি যাতে না হয় তাই নিয়ে আলোচনা করে এদিন পুলিশ। শুধু তাই নয়, ব্যাঙ্ক ও গ্রাহক সেবা কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা বিষয়ে খোঁজ নেয় পুলিশ এবং সংস্থাগুলিকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়। গ্রাহকদের আরও সচেতন থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।




নিজস্ব প্রতিনিধি

পশ্চিম মেদিনীপুর





ডেবরা ব্লকের লোয়াদা ব্রিজ সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়ার অনুমতি দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী হুমায়ুন কবীর


বৃহস্পতিবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ডেবরা ব্লকের লোয়াদা ব্রিজ পরিদর্শন করেন রাজ্যের মন্ত্রী হুমায়ুন কবীর। ওই ব্রিজ পরিদর্শনের পর ব্রিজটি জনগণের জন্য খুলে দেওয়ার অনুমতি দিলেন ডেবরার বিধায়ক তথা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কারিগরী শিক্ষা দফতরের স্বাধীন দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত মন্ত্রী ড: হুমায়ুন কবীর। উল্লেখ্য, বাম রাজত্ব কাল থেকেই অসম্পূর্ণ হয়ে দীর্ঘদিন পড়েছিল এই ব্রিজ। যাতায়াতের সমস্যায় পড়তে হত বহু মানুষকে। অবশেষে মন্ত্রী হুমায়ুন কবীর এর চেষ্টায় লোয়াদা ব্রিজ টি চালু হওয়ায় খুশি এলাকার বাসিন্দারা।

লোয়াদা ব্রিজটি বৃহস্পতিবার থেকে জনগণের জন্য খুলে দেওয়া হয়। এবার থেকে এই ব্রিজ দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে ছোট গাড়ি ও বাইক। ব্রিজে নিরাপত্তার জন্য থাকবে পুলিশ।

এদিন ব্রিজ পরিদর্শন করার সময় মন্ত্রী হুমায়ুন কবীর এর সাথে উপস্থিত ছিলেন খড়গপুর মহকুমার মহকুমা শাসক আজমল হোসেন, ডেবরা থানার ওসি সহ স্থানীয় প্রশাসনের আধিকারিক গণ।





নিজস্ব প্রতিনিধি

পশ্চিম মেদিনীপুর

রাজ্যে চালু হয়ে গেল 'স্টুডেন্টস ক্রেডিট কার্ড'

বুধবার থেকেই রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের জন্য ‘স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড’ প্রকল্প চালু করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সকলের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিলেন, ‘‘ছাত্রছাত্রীদের জন্য চালু করা ‘স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড’ নিয়ে কোনও রকম জালিয়াতি যেন না হয়।’’ তিনি জানান, ‘স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড’ প্রকল্পে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হবে পড়ুয়াদের। দেশের এবং বিদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সেই ঋণের সাহায্যে পড়াশোনা এবং গবেষণা করা যাবে। কেনা যাবে শিক্ষার প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও।

দশম শ্রেণি থেকে শুরু করে স্নাতক এমনকি, প্রতিযোগিতা মূলক পরীক্ষার প্রশিক্ষণের জন্যও পড়ুয়ারা ঋণ পাবেন। গ্যারান্টার রাজ্য সরকার। ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত এই সুবিধা পাবেন ছাত্রছাত্রীরা। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঋণের টাকায় স্নাতক, স্নাতকোত্তর, পেশাভিত্তিক পাঠ্যক্রম, ডিপ্লোমা পাঠ্যক্রম, ডক্টরাল এবং পোস্ট ডক্টরাল স্তরে গবেষণার খরচ চালানো যাবে। কোর্স ফি, টিউশন ফি, ল্যাপটপ, কম্পিউটারের জন্যও ঋণ দেওয়া হবে এই কর্মসূচিতে। চাকরি পাওয়ার পর এক বছর সময় পাবেন পড়ুয়ারা ঋণশোধের পর্ব শুরু করার জন্য। ১৫ বছরের মধ্যে শোধ করতে হবে ঋণ।




Written by

Swarnali Goswami

আন্টার্কটিকা থেকে উধাও ১১ বর্গ কিলোমিটার এলাকার হ্রদ

আন্টার্কটিকা থেকে উধাও হয়ে গেল ১১ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে থাকা সুবিশাল একটি হ্রদ। উধাও হয়ে যাওয়া হ্রদটিতে থাকা জলের পরিমাণ ছিল ৬০ থেকে ৭৫ কোটি ঘন মিটার। উপগ্রহচিত্রে ধরা পড়া সেই উদ্বেগজনক খবর দিয়েছে একটি গবেষণাপত্র। যা প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান গবেষণা পত্রিকা ‘জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটার্স’-এ। সেই হ্রদের জল গিয়ে মিশে গেছে অ্যান্টার্কটিকা মহাসাগরে। বিশ্ব উষ্ণায়নের জেরেই এমনটা ঘটেছে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।



Written by

Swarnali Goswami