২৩ এবং ২৯ এপ্রিল রাজ্যে ভোট, অন্তিম লগ্নে ডিএ ঘোষণার সঙ্গে পুরোহিত ও মুয়াজ্জেনদের ভাতাবৃদ্ধি

১৫ মার্চ, ২০২৬: রাজ্যে ভোটের দিন ঘোষণা হয়ে গেল। দু’দফায় ভোট হবে বঙ্গে। প্রথম দফার ভোট হবে ২৩ এপ্রিল (১৫২ আসন)। দ্বিতীয় দফার ভোট হবে ২৯ এপ্রিল (১৪২ আসন)। ভোটের ফল ঘোষণা হবে ৪ মে গণনা। রবিবার দিল্লির বিজ্ঞান ভবন থেকে ভোট ঘোষণা করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। ভোটঘোষণার পর সোমবারেই রাজ্যের সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর।
অসমে এক দফায় ভোট। কেরালায় এক দফায় ভোট। পুদুচেরিতেও এক দফায় ভোট। তিন জায়গাতেই ৯ এপ্রিল ভোট, ৪ মে গণনা। তামিলনাড়ুতে ২৩ এপ্রিল এক দফায় ভোট। গণনা ৪ মে। কমিশন জানিয়েছে, ২.১৯ লক্ষের বেশি পোলিং স্টেশন থাকবে পাঁচটি ভোটমুখী রাজ্যে। ২৫ লক্ষের বেশি কমিশনের আধিকারিক থাকবেন। ১৭ কোটি ৪০ লক্ষ ভোটার পাঁচ রাজ্যে। এখনও পর্যন্ত ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ ভোটার পশ্চিমবঙ্গে। পরে সাপ্লিমেন্টারি তালিকাও যুক্ত হবে। পাঁচ রাজ্যে মোট বিধানসভা আসন ৮২৪। ১০০ শতাংশ বুথেই ওয়েবকাস্টিং হবে। প্রতি ২ ঘণ্টা অন্তর ভোটদানের হার ঘোষণা হবে। ফেক নিউজ যাতে না ছড়ানো হয়, সতর্ক করল কমিশন। এই ঘোষণার সঙ্গেই জারি হয়েছে, মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট (MCC)। যা জারি হওয়ায় সরকারও কোনও নীতিগত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে পারবে না। ভোট ঘোষণার মুহূর্ত থেকে প্রশাসন নির্বাচন কমিশনের অধীনে চলে গেল।
দুই দফায় পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনে বিধানসভা নির্বাচন। প্রথম দফায় ১৬ এবং দ্বিতীয় দফায় ৭টি জেলায় নির্বাচন রয়েছে। প্রথম দফায় উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহল ভোট। ১৬ জেলায় প্রথম দফায় ভোট। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, মালদহ, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মুর্শিদাবাদ, দুই মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, বীরভূম। দ্বিতীয় দফায় ৭ জেলায় ভোট। কলকাতা, দুই পরগনা, হাওড়া, হুগলি, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান। প্রথম দফায় ১৫২ আসনে ভোট। গেজেট নোটিফিকেশনের দিন ৩০.০৩.২০২৬। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ০৬.০৪.২০২৬। মনোনয়ন স্ক্রুটিনি ০৭.০৪.২০২৬। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ০৯.০৪.২০২৬। ভোট হবে ২৩ এপ্রিল। দ্বিতীয় দফায় ১৪২ আসনের গেজেট নোটিফিকেশন ০২.০৪.২০২৬। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ০৯.০৪.২৬। মনোনয়ন স্ক্রুটিনি ১০.০৪.২০২৬। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন: ১৩.০৪.২০২৬। ভোটের দিন ২৯ এপ্রিল।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০০১ সালেই শুধু এক দফায় ভোট হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে এর আগে কখনও দুই দফায় ভোট হয়নি। বস্তুত, ২৫ বছর পর এত কম দফায় বিধানসভা ভোট হচ্ছে এ রাজ্যে। ২০২১ সালে কোভিড পরিস্থিতিতে আট দফায় ভোট হয়েছিল রাজ্যে।
পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনের প্রক্রিয়া এখনও শেষ হয়নি। কয়েক লক্ষ নাম এখনও বিবেচনাধীন হিসাবে রয়েছে। এখনও অতিরিক্ত কোনও তালিকা প্রকাশিত হয়নি। কমিশন সূত্রে খবর, ভোটঘোষণার পরেও প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত যত ‘বিবেচনাধীন’ নামের নিষ্পত্তি হবে, সেই সমস্ত নাম ভোটার তালিকায় থাকবে এবং তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, ‘বিবেচনাধীন’ যাঁদের নাম এই তালিকা থেকে বাদ পড়ছে, তাঁরা বিচার বিভাগের বিশেষ ট্রাইবুনালে আবেদন জানাতে পারবেন। যদিও সেই পদ্ধতি নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা যে কোনও নির্বাচনের প্রাথমিক শর্ত। ঝুলে থাকা ভোটার তালিকা নিয়ে ভোট হতে পারে না। সে ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে সুপ্রিম কোর্টকেই। ভোটঘোষণার পরেই বিষয়টি ফের আদালতে উঠতে পারে।
এদিকে ভোটঘোষণার সময় বিলক্ষণ জেনেই তার ঘন্টাখানেক আগে মুখ্যমন্ত্রী নাটকীয় ভাবে পরপর দু’টি ঘোষণা করেন। প্রথমটি হল রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য বকেয়া ডিএ (মহার্ঘভাতা) মেটানো। দ্বিতীয়টি পুরোহিত ও মুয়াজ্জিনদের ভাতাবৃদ্ধি। সন্দেহ নেই, আসন্ন বিধানসভা ভোটের দিকে নজর রেখেই প্রশাসক মমতার ওই সিদ্ধান্ত। রবিবার দুপুর ২টো ৪০ মিনিটে এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করে মমতা জানান, পশ্চিমবঙ্গে পুরোহিত এবং মোয়াজ্জিনদের মাসিক ভাতা ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। তার ২৫ মিনিট পরে দুপুর ৩টে ০৫মিনিটে এক্স হ্যান্ডলে আরও একটি পোস্ট করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকারি কর্মীদের পুরনো বকেয়া মহার্ঘভাতা দেওয়া শুরু হচ্ছে। তাঁরা রোপা-২০০৯ অনুযায়ী বকেয়া ডিএ ২০২৬ সালের মার্চ থেকেই পেতে শুরু করবেন।’









Comments