হট্টগোলের মধ্যে বিরোধীদের তুমুল আপত্তি সত্ত্বেও সংসদে পেশ হয়ে গেল তিনটি বিল
- The Conveyor
- Aug 20
- 2 min read

২০ অগস্ট, ২০২৫: বিরোধীদের তুমুল আপত্তির মধ্যেই সংসদে পেশ হয়ে গেল তিনটি বিল। ১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিল বুধবার পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেই সঙ্গে পেশ করা হয়েছে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সরকার (সংশোধনী) বিল, জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন (সংশোধনী) বিল। বিরোধীদের বিক্ষোভের জেরে লোকসভার অধিবেশন মুলতুবি হয়ে গিয়েছে। হট্টগোলের মাঝে বিরোধী সাংসদেরা বিলের কাগজ ছিঁড়ে শাহের দিকে ছুঁড়ে মারলেন।
বুধবার সংসদের নিম্নকক্ষে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ওই বিলগুলি মূলত সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে আনা। বিল পেশের সঙ্গে সঙ্গে তুমুল হট্টগোল শুরু করে কংগ্রেস-সহ গোটা বিরোধী শিবির। ওয়েলে নেমে স্লোগান দিতে থাকেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদরা। তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়রা অমিত শাহর দিকে বিলের কপি ছুঁড়ে দেন। বিরোধীদের বিক্ষোভের মাঝে প্রথমে বেলা ৩টে পর্যন্ত এবং পরে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মুলতুবি হয়ে যায় সংসদের নিম্নকক্ষের অধিবেশন ৷
১৩০তম সংবিধান সংশোধনী বিল অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, কোনও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, রাজ্যের মন্ত্রী কিংবা কোনও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মন্ত্রী যদি গুরুতর অপরাধের অভিযোগে টানা ৩০ দিনের জন্য হেফাজতে থাকেন, তবে ৩১তম দিন থেকে তিনি মন্ত্রিত্ব হারাবেন। পাঁচ বছর বা তার বেশি জেল হতে পারে, এমন অপরাধগুলিকে ‘গুরুতর’ হিসাবে ধরা হবে।
এই বিলের মাধ্যমে বিরোধীদের কণ্ঠস্বর দমিয়ে রাখার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে অবিজেপি রাজনৈতিক দলগুলি। সম্প্রতি বিজেপি বিরোধী বিভিন্ন দলের নেতাদের গ্রেফতারির ঘটনা ঘটেছে। দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীওয়াল, ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকে অতীতে গ্রেফতার হতে দেখা গিয়েছে। এই বিল আইনে পরিণত হলে তা বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। বিরোধীদের অভিযোগ, এই বিলগুলি খুব তাড়াহুড়ো করে পেশ করা হয়েছে ৷ এই অভিযোগ অবশ্য অস্বীকার করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহ ৷
বিলগুলি পর্যালোচনার জন্য রাজ্যসভা ও লোকসভা- দুই কক্ষের যৌথ সংসদীয় কমিটিতে পাঠানো হবে ৷ কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্যরা এই বিলগুলি খতিয়ে দেখার সুযোগ পাবেন এবং পরামর্শ দিতে পারবেন ৷ আগামী শীতকালীন সংসদীয় অধিবেশনে রিপোর্ট পেশ করবে জেপিসি বা যৌথ সংসদীয় কমিটি ৷ বিলটি আজ যৌথ সংসদীয় কমিটিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
একটি বিষয় রূঢ় হলেও সত্যি, যে সত্যিকারের অপরাধী হলে কোনও জনপ্রতিনিধির ক্ষমতায় ফেরত আসা উচিত নয়, কিন্তু পাশাপাশি এও ঠিক, বিরোধী দলগুলিকে সবক শেখাতে সরকারে আসীন দল যে কোনও সময়ে মিথ্যা অপরাধে জেলে ঢুকিয়ে তাদের ক্ষমতা কেড়ে নিতে পারেন। কাজেই সমস্ত দিক পর্যালোচনা করে তবেই যে কোনও বিল আইনে রূপান্তরিত হওয়া উচিত।













Comments