স্বাক্ষরিত হল বহু প্রতীক্ষিত 'ঐতিহাসিক ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি'
- The Conveyor
- Jul 24
- 2 min read

২৪ জুলাই, ২০২৫: বৃহস্পতিবার ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বহু প্রতীক্ষিত 'ঐতিহাসিক ভারত-ব্রিটেন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি' স্বাক্ষরিত হল। চুক্তি স্বাক্ষরের পরই দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী 'ইউকে-ইন্ডিয়া ভিশন ২০৩৫' নামে একটি নতুন কৌশলগত নথি প্রকাশ করেন, যা ভবিষ্যতের অংশীদারিত্বের রূপরেখা স্থির করবে। বৃহস্পতিবার লন্ডন থেকে যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে এই ঘোষণা করলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং ব্রিটেনের বাণিজ্যমন্ত্রী জোনাথন রেনল্ডস, দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
বছরে ৩,৪০০ কোটি ডলারের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের চুক্তি হয়েছে দু’দেশের মধ্যে। ব্রিটেন ২০২০ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে বেরিয়ে আসার পর এটিই কোনও দেশের সঙ্গে ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক চুক্তি। ২০৩০ সালের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ দ্বিগুণ হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বর্তমানে ২ দিনের সফরে ব্রিটেনে রয়েছেন। বৃহস্পতিবার লন্ডন থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন চেকার্সে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সে দেশের রাষ্ট্রপ্রধান কেয়ার স্টারমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন।বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তি, বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য ও অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়গুলিতে আলোচনা হয়। এই সময় ভারত-ব্রিটেনের মধ্যে ঐতিহাসিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। মোদীর এই সফরে দু'দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য এবং প্রযুক্তি ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের বিরাট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই চুক্তির ফলে ভারত থেকে রফতানি হওয়া প্রায় ৯৯ শতাংশ পণ্যই ব্রিটেনের বাজারে বিনাশুল্কে প্রবেশ করতে পারবে। অন্য দিকে ব্রিটেন থেকে ভারতে রফতানি করা বিভিন্ন পণ্যের উপর দফায় দফায় শুল্ক কমিয়ে আনা হবে।
ব্রিটেনের বাজারে ভারতের বেশ কিছু কৃষিজাত এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য আমদানির জন্য কোনও শুল্ক লাগবে না। নতুন চুক্তি অনুসারে, হলুদ, গোলমরিচ, এলাচের মতো কৃষিপণ্য এবং আমের শাঁস, আচার, ডালের মতো প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্যগুলি ব্রিটিশ বাজারে বিনা শুল্কে প্রবেশ করতে পারবে। পাশাপাশি ভারতীয় মৎস্যজীবীরাও উপকৃত হবেন। ভারতের চিংড়ি, টুনা মাছ-সহ বিভিন্ন সামুদ্রিক খাদ্যপণ্য বিনা শুল্কে ব্রিটেনের বাজারে আমদানি করা যাবে।
এই চুক্তির আওতায়, ব্রিটেন থেকে আমদানি করা পণ্যগুলির প্রায় ৯০ শতাংশের উপর থেকেই শুল্ক কমিয়ে দেবে ভারত। এর মধ্যে প্রায় ৬৪ শতাংশ পণ্যে তাৎক্ষণিক ভাবে শুল্কে ছাড় দেওয়া হবে। ব্রিটেন থেকে আমদানি করা স্কচ হুইস্কির এবং জিনের পাশাপাশি জাগুয়ার, ল্যান্ডরোভারের মতো গাড়ি, মেডিক্যাল যন্ত্র, প্রসাধনী, চকোলেট, নরম পানীয়ও সস্তা হবে। ব্রিটেন থেকে আমদানি করা বৈদ্যুতিন গাড়ির উপর বর্তমানে ১১০ শতাংশ শুল্ক দিতে হয়। সেটি কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হবে নতুন চুক্তিতে। ফলে বৈদ্যুতিন গাড়ির দামও কমতে পারে ভারতে। তবে স্থানীয়দের স্বার্থের কথা ভেবে আপেল, চিজ, দুগ্ধজাত পণ্য চুক্তির আওতায় আনেনি ভারত। এগুলি আমদানির ক্ষেত্রে কর ছাড় থাকছে না।
এছাড়াও চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য ভিসা ও কাজের নিয়ম শিথিল করা। এর ফলে প্রতিবছর ৬০,০০০-এরও বেশি আইটি পেশাদার উপকৃত হবেন বলে বাণিজ্য মন্ত্রক আশা করছে। ব্রিটেনে কর্মরত ভারতীয় পেশাদাররা তিন বছর পর্যন্ত সামাজিক নিরাপত্তা অবদান থেকে অব্যাহতি পাবেন। এর ফলে বার্ষিক চার হাজার কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।
পাশাপাশি ব্রিটেন ভারতীয় যোগ প্রশিক্ষক, রাঁধুনি, সঙ্গীতজ্ঞ এবং অন্যান্য চুক্তিভিত্তিক পরিষেবা প্রদানকারীদের জন্য অস্থায়ী প্রবেশাধিকার প্রদান করবে।পাশাপাশি ব্রিটেনের সংস্থাগুলিকে ভারতে ২০০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের অসংবেদনশীল ফেডারেল সরকারি ক্রয় টেন্ডারে দরপত্র জমা দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। এর ফলে প্রতি বছর প্রায় ৪.০৯ লক্ষ কোটি টাকার প্রায় ৪০ হাজার দরপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে ব্রিটেনের অনুমান।
তবে এই চুক্তি দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত হলেও, তা কার্যকর হতে এখনও কিছুটা সময় লাগবে। এটিতে অনুমোদন দিতে হবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভাকে। সেই সঙ্গে ব্রিটেনের পার্লামেন্টের ছাড়পত্রও লাগবে। তবেই চুক্তি কার্যকর হবে। মনে করা হচ্ছে দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্যচুক্তি সই হওয়ার পর থেকে তা কার্যকর হতে এক বছর সময় লাগবে।













Comments