মহিলা মোর্চার রাজ্য সভাপতি পদ থেকে অপসারিত বিতর্কিত শর্বরী মুখোপাধ্যায়, এলেন অঞ্জনা বসু

কলকাতা, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়কে। তাঁর জায়গায় এলেন অঞ্জনা বসু। পুরভোটের আগে সংগঠনের খোলনলচে পুরো বদলে ফেলল রাজ্য বিজেপি। সর্বভারতীয় সভাপতি পশ্চিমবঙ্গে আসার দু’দিন আগেই রাজ্য বিজেপিতে বড়সড় রদবদল। সূত্রের খবর, মন্ত্রীদের সাংগঠনিক পদে রাখা হচ্ছে না। এক ব্যক্তি এক পদ- নীতি কার্যকর করতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। সাত সাংগঠনিক জেলায় বদলে দেওয়া হল সভাপতি।
যে সাতটি জেলায় শুক্রবার সভাপতি বদল করা হয়েছে, সেগুলি হল বনগাঁ, বারাসত, শ্রীরামপুর, আরামবাগ, মেদিনীপুর, বর্ধমান ও কাটোয়া। বনগাঁয় নতুন সভাপতি হয়েছেন নৃপেন বিশ্বাস। বারাসতের সভাপতি দীপঙ্কর চক্রবর্তী। শ্রীরামপুর ও আরামবাগে নতুন সভাপতি হলেন যথাক্রমে শশী সিংহ এবং প্রশান্ত দিগার। মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি করা হয়েছে সৌমেন তিওয়ারিকে। বর্ধমানের সভাপতি করা হয়েছে আশিস পালকে। কাটোয়ার সভাপতি হলেন মানিক রায়। যুব মোর্চার সভাপতির পদ থেকে ইন্দ্রনীল খাঁ-কে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আমতার বিধায়ক অমিত সামন্তকে। ওবিসি মোর্চার সভাপতি হলেন ধনঞ্জয় ঘোষ। এসসি মোর্চার সভাপতি বিশ্বজিৎ বিশ্বাস এবং মহিলা মোর্চার সভাপতি করা হল অঞ্জনা বসুকে। গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার দিল্লিতে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনের সঙ্গে বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্যরা। তারপরই আজ বঙ্গ বিজেপিতে এই সাংগঠনিক রদবদল করা হল। বিজেপি সূত্রে খবর, পুরভোটের আগে সংগঠনকে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তাই এই রদবদল করা হল। সংগঠন থেকে সরেছেন রাজ্যের সাত মন্ত্রী। তাঁরা একইসঙ্গে বিভিন্ন সাংগঠনিক পদেও ছিলেন। ‘এক ব্যক্তি, এক পদ নীতি’ কার্যকর করে সরানো হল তাঁদের।
জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়, অগ্নিমিত্রা পাল, তাপস রায়, দীপক বর্মন, নিশীথ প্রামাণিক, ইন্দ্রনীল খাঁ- এঁরা সকলেই মন্ত্রী। তাঁদের হাতে গুরুত্বপূর্ণ দফতর রয়েছে। বিজেপির দলীয় নীতি অনুযায়ী, একই ব্যক্তিকে একাধিক পদে রাখা যায় না। সেই কারণেই তাঁদের সাংগঠনিক পদ থেকে সরানো হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের খবর। কিন্তু এই যুক্তি খাটে না শর্বরী মুখোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে। তিনি যাদবপুরের বিধায়ক, কোনও দফতরের মন্ত্রী নন। তবুও তাঁকে সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দফতর থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই শর্বরীর অপসারণ নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। নিজের নির্বাচনীক্ষেত্র যাদবপুরে শর্বরীর কার্যকলাপ নিয়ে দলেরই একাংশ বার বার আপত্তি তুলছিল বলে বিজেপি সূত্রের খবর। তার জেরেই শর্বরীকে রাজ্য সম্পাদক পদ থেকে সরতে হল কি না, তা নিয়ে চলছে আলোচনা।









Comments