ভূমিকম্পে সীমান্তের তিব্বত অংশে লেক ফেটে ফের হড়পা বানের আশঙ্কা! মৃতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়াল

২৮ অগস্ট, ২০২৬: ফের নেপালে বড় বিপদের আশঙ্কা। সীমান্তের তিব্বত অংশে ফের একটি লেক ফেটে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এতে নতুন করে দেশে হড়পা বানের আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় উদ্ধারকর্মী ও সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে এবং দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নেপাল। শুক্রবার দক্ষিণ-পশ্চিম চিনের সিচুয়ান প্রদেশের লংচ্যাং শহরে ৫.১ মাত্রার একটি জোরালো ভূমিকম্প (Earthquake) অনুভূত হয়। বেজিংয়ের স্থানীয় সময় অনুযায়ী, দুপুর ১টা ১৩ মিনিট নাগাদ ভূমিকম্প হয়।
সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০০ ছুঁইছুঁই। এখনও নিখোঁজ ১,৫০০ জনেরও বেশি মানুষ। নিখোঁজ ভারতীয়দের পরিবারের উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। শুক্রবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সবাল জানিয়েছেন, বিপর্যস্ত নেপালে এখনও ৩২০ জন ভারতীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। কাঠমান্ডু থেকে শুক্রবার দুপুরে ২১ জন ভারতীয় দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন। তাঁরা সকলেই তামিলনাড়ুর বাসিন্দা। অন্য দিকে, নেপালের পর্যটন মন্ত্রক জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টে পর্যন্ত ৮৫ জন ভারতীয়কে উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও শুক্রবার জয়সবাল জানিয়েছেন, ৯৬ জন ভারতীয় সীমান্ত পার করে চিন থেকে নিরাপদে নেপালে প্রবেশ করেছেন। তাঁরা মানস সরোবর যাত্রায় গিয়েছিলেন।
এদিকে, নতুন করে বন্যার ঝুঁকি থাকায় তিব্বতে উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে চিন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে উদ্ধৃত করে এ তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। চিন-নেপাল সীমান্তে ভূমিধসের পর বিপুল পরিমাণ কাদা ও ধ্বংসাবশেষ জমে একটি অবরুদ্ধ হ্রদের মতো জলাধার তৈরি হয়েছে। সেই অবরুদ্ধ হ্রদের জল এখন উপচে উদ্ধারকারী দলগুলোর যাওয়ার পথে থাকা এলাকায় প্রবাহিত হতে শুরু করেছে। এ কারণে সব উদ্ধারকারী দলকে নিজেদের অবস্থানে অপেক্ষা করতে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অভিযান বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
নেপালে শত শত মানুষ এখনও নিখোঁজ, তখন ভারত, চিন, আমেরিকা, ব্রিটেন-সহ একাধিক দেশ উদ্ধারকারী দল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু সেই প্রস্তাব গ্রহণ করল না কাঠমান্ডু। নেপাল সরকার জানিয়েছে, আপাতত দেশের নিজস্ব নিরাপত্তা বাহিনীই উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চালাতে সক্ষম। তবে বিদেশি আর্থিক ও মানবিক সাহায্য গ্রহণে তাদের আপত্তি নেই। বস্তুত বিপর্যয়ের পরে বিমানবন্দর, যাতায়াতের রাস্তা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা যখন প্রবল চাপের মুখে, তখন বিভিন্ন দেশের পৃথক উদ্ধারকারী দলকে একই সঙ্গে পরিচালনা করা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা কাঠমান্ডুর। নেপাল তাই একটি কেন্দ্রীয় কমান্ড কাঠামোর অধীনে নিজেদের সেনা, পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীকে দিয়ে উদ্ধার অভিযান চালাতে চাইছে। উল্লেখ্য, ভয়াবহ বিপর্যয়ের পরে প্রতিবেশী ভারত ও চিন, পাশাপাশি আমেরিকা, ব্রিটেন এবং বাংলাদেশ-সহ বিভিন্ন দেশ নেপালের পাশে দাঁড়ানোর প্রস্তাব দেয়।









Comments