ভিক্টোরিয়া স্টেশনে 'দুর্গা' উঠে এল পাতাল থেকে
- The Conveyor
- Jul 10
- 2 min read

কলকাতা, ১০ জুলাই, ২০২৬: দুর্গম পথ পেরিয়ে যোগাযোগ সুগম করার কাজ করে 'দুর্গা' উঠে এল পাতাল থেকে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ খিদিরপুর থেকে ভিক্টোরিয়া স্টেশন পর্যন্ত সুড়ঙ্গ খননের কাজ শেষ হল। ঠিক এক বছরের মাথায় প্রায় ১.৭ কিলোমিটার সুড়ঙ্গ খননের কাজ শেষ করল এই টানেল বোরিং মেশিনটি (টিবিএম)। অর্থাৎ জোকা-বিবাদী বাগ মেট্রো প্রকল্পের কাজ আরও এক ধাপ এগোল। গত বছরের এই দিনেই (১০ জুলাই) খিদিরপুর থেকে মাটির নীচে সুড়ঙ্গ খোঁড়ার কাজ শুরু হয়।
প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত সকলকে অভিনন্দন জানান মেট্রো রেলের জেনারেল ম্যানেজার প্রেমসাগর গুপ্ত। তিনি বলেন, ‘সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিয়ে রেখে সুড়ঙ্গ খোঁড়ার কাজ হচ্ছে। শহরে যান চলাচলে কোনও প্রভাব যাতে না পড়ে, সেই দিকেও খেয়াল রাখা হয়েছিল।’ এই সাফল্যকে দলগত কাজ এবং প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের নিরলস পরিশ্রমের ফসল বলে জানিয়েছেন মেট্রো কর্তৃপক্ষ। এখন মোমিনপুরে বাকি থাকা একটি এলিভেটেড স্টেশন এবং মাঝেরহাট থেকে এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ খোঁড়ার কাজ চলছে বলে জানিয়েছে মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ।
মেট্রোর ‘পার্পল’ লাইন। জোকা থেকে শুরু হয়ে ঠাকুরপুকুর, শখেরবাজার, বেহালা চৌরাস্তা, বেহালা বাজার, তারাতলা, মাঝেরহাট পর্যন্ত মাটির উপর দিয়ে চলছে মেট্রো। মোমিনপুরে চলছে কাজ। এখান থেকেই মেট্রোর ধীরে ধীরে পাতাল প্রবেশ। বর্তমানে জোকা থেকে মাঝেরহাট পর্যন্ত মেট্রো ছুটছে। তবে তারাতলা থেকে পার্ক স্ট্রিট পর্যন্ত এই মেট্রো পথের কাজ বার বার নানা কারণে আটকে ছিল। কখনও জমির সমস্যা, কখনও আবার গাছ কাটা নিয়ে আপত্তি। বিষয়টি শীর্ষ আদালত পর্যন্ত গড়ায়। গত বছর সেই জট কাটার পর মেট্রোর কাজে গতি আসে। ‘দুর্গা’ ছাড়াও ‘দিব্যা’ নামে আরও একটি বোরিং মেশিন রয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ওই মেশিন দিয়ে খনন কাজ হবে। পরের ধাপে ভিক্টোরিয়া থেকে পার্ক স্ট্রিট পর্যন্ত সুড়ঙ্গ খনন করবে ‘দিব্যা’। এই মেট্রোর দ্বিতীয় পর্বের কাজ হল, ময়দান এলাকায় ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের পাশ দিয়ে পার্ক স্ট্রিট ছুঁয়ে এসপ্ল্যানেড পর্যন্ত সুড়ঙ্গ নির্মাণ।
জোকা-বিবাদী বাগ মেট্রোর পাঁচ কিলোমিটার সুড়ঙ্গপথে চারটি স্টেশন তৈরি হওয়ার কথা। সেই চারটি স্টেশন হল: খিদিরপুর, ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল, পার্ক স্ট্রিট এবং এসপ্ল্যানেড। এক বছরে শহরে বদলে গিয়েছে অনেক কিছু। হয়েছে রাজনৈতিক পালাবদলও, কিন্তু নীচে নিঃশব্দে কাজ করে গিয়েছে দুর্গা। তিনশো বছরের পুরনো এই শহরের বুক চিরে সুড়ঙ্গ খোঁড়ার কাজটা একেবারেই সহজ ছিল না। মাটির গভীরে একাধিক উচ্চ-চাপের জলস্তর আছে। প্রবল জলের চাপে সুড়ঙ্গের কাঠামো ভেঙে পড়ার আশঙ্কা ছিল। মাটির উপরিভাগ অত্যন্ত নরম, দুর্বল এবং পলিসমৃদ্ধ। সুড়ঙ্গ খোঁড়ার সময় বাইরের কাদা-মাটি বা বালি যাতে মেশিনে ঢুকে ধস না নামাতে পারে, তার জন্য বাড়তি সতর্কতা নিতে হয়েছে। পুরনো ও জরাজীর্ণ ভবন, ব্যস্ত রাস্তার নিচ দিয়ে কাজ করতে হয়েছে।
মেট্রো রেলের জেনারেল ম্যানেজার বলেছেন, "অগাস্টের শেষে এই কাজ শেষ হয়ে যাবে। আমরা ডিসেম্বর ২০২৯-এর টার্গেট নিয়ে এগোচ্ছি। রাজ্য সরকার এবং স্থানীয় প্রশাসন এখন ফুল সাপোর্ট করছে।" আজকের ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকলেন মেট্রোরেলের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নেপালের কনসাল জেনারেল, কলকাতা পুরসভার কমিশনার, হাওড়ার পুলিশ কমিশনার-সহ অনেকে।









Comments