বিধান মার্কেটের জট কাটল, সাতদিনের মধ্যে ধর্মতলায় শুরু হয়ে যাবে পার্পল লাইনের কাজ

কলকাতা, ২৪ অগস্ট, ২০২৬: সাতদিনের মধ্যে ধর্মতলায় শুরু হয়ে যাবে কলকাতা মেট্রোর কাজ। ধর্মতলার বিধানচন্দ্র রায় মার্কেট (যা বিধান মার্কেট নামেই সমধিক পরিচিত) এলাকায় মেট্রো প্রকল্পের কাজ শুরু করার অনুমতি দিল কলকাতা হাই কোর্ট। তবে সেখানকার দোকানদারদের আবেদনকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। মেট্রোর কাজ চলবে, কিন্তু ব্যবসায়ীদের 'ঠিকানা' হারাতে হবে না। সাতদিনের মধ্যে বি সিরায় মার্কেট খালি করতে হবে। ১৯৫৪ সালের মার্কেট, ৩২১ স্টলকে কাজ চলাকালীন পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করবে মেট্রো কর্তৃপক্ষ। বিকল্প জায়গায় স্টলগুলি সরলে, সেখানে জল, শৌচাগার, বিদ্যুৎ, নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলির বন্দোবস্ত করতে হবে।
সোমবার বিচারপতি পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়ের বেঞ্চ জানিয়েছে যে, আপাতত ওই এলাকা থেকে অস্থায়ী ভাবে দোকানদারদের অন্যত্র সরানো যাবে। তবে মেট্রো প্রকল্পের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা রেল বিকাশ নিগম লিমিটেডকে (আরভিএনএল) লিখিত ভাবে জানাতে হবে যে, কাজ শেষে ওই দোকানদারদের পুরানো জায়গায় ফিরিয়ে আনা হবে। এছাড়াও বিকল্প জায়গায় কীভাবে, কোথায় কোন স্টল বসবে তার লে-আউট দিতে হবে। এর আগে ধর্মতলার বিধান মার্কেটের দোকানদারেরা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, ১৯৫৪ সালে প্রতিরক্ষা দফতরের জমিতে ওই মার্কেট তৈরি হয়। ৩২১ স্টল বিশিষ্ট বর্তমানে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পাইকারি বাজার। লিখিত প্রতিশ্রুতি ছাড়া তারা অন্য কোথাও যেতে রাজি নন। তাঁদের হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী ফিরদৌস শামিম এবং গোপা বিশ্বাস।
প্রসঙ্গত জোকা-এসপ্লানেড মেট্রো সম্প্রসারণের কাজে বাধা হয়ে রয়েছে বি সি রায় বা বিধান মার্কেট। ধর্মতলায় স্টেশন তৈরি করতে গেলে এই মার্কেটকে অন্যত্র সরাতে হবে। অথচ সেই অনুমতি দেয়নি সেনা। ফলে এই মেট্রো রুট এসপ্লানেড পর্যন্ত হওয়া নিয়েই সংশয় তৈরি হয়েছিল। পরে সেই মার্কেট সরাতে বিকল্প প্রস্তাব দেয় কেএমআরসিএল। ময়দান মার্কেটটিকে যথাস্থানে রেখে দুধারে অস্থায়ী পাঁচিল দিয়ে ঘিরে তৈরি হবে স্টেশন। মার্কেটের দুপাশে তৈরি হবে স্টেশন। কাজ শেষ হলে পাঁচিলটি ভেঙে দেওয়া হবে। হাইকোর্টের এদিনের নির্দেশে এক দিকে যেমন মেট্রো প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার রাস্তা খুলল, তেমনই অন্য দিকে ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের বিষয়টিও সুরক্ষিত করার চেষ্টা করা হল।









Comments