top of page

বিধানসভায় ২১ জুলাই যুব কংগ্রেসের মহাকরণ অভিযান ও পুলিশের গুলিচালনা সংক্রান্ত রিপোর্ট পেশ, অভিযুক্ত মণীশ গুপ্তকে মন্ত্রী!

কলকাতা, ২০ জুলাই, ২০২৬: সোমবার বিধানসভায় ১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই যুব কংগ্রেসের মহাকরণ অভিযান ও পুলিশের গুলিচালনা সংক্রান্ত সুশান্ত চট্টোপাধ্যায় কমিশনের রিপোর্ট পেশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্পিকার রথীন্দ্র বসুর অনুমতি নিয়ে বিধানসভার সচিবালয়ের কাছে রিপোর্টটির প্রতিলিপি হস্তান্তর করেন তিনি। ঠিক কী রয়েছে সেই রিপোর্টে, কার নির্দেশে সে দিন গুলি চালানো হয়েছিল- বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন তিনি। এমনকী, কেন সেই রিপোর্ট বিগত সরকার প্রকাশ্যে আনেননি, সেই সম্বন্ধেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

রিপোর্ট পেশের সময় মুখ্যমন্ত্রী নাম না করে বিশেষ করে নিশানা করেন তৃণমূল কংগ্রেসের (কালীঘাট) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেন। সেই রেশ ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, একুশে জুলাইয়ের শহিদ ও আহতদের পরিবার চাইলে নতুন করে এফআইআর দায়ের করতে পারে। এমনকী কমিশন যে আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিল, সেটা চেয়েও আবেদন করতে পারে পরিবার। তিনি অভিযোগ করেন, ‘‘২১ জুলাইয়ের আবেগ ও শহিদদের রক্তকে ব্যবহার করে অনেকেই নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও রাজনৈতিক আখের গুছিয়েছেন, কিন্তু শহিদ পরিবারগুলি আজ চরম উপেক্ষিত।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘তৎকালীন ঘটনায় কমিশন রিপোর্ট জমা দেওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘ দিন তা বিধানসভার টেবিলে এনে সাধারণ মানুষের সামনে সত্য তুলে ধরা হয়নি।’’ গণতন্ত্রের মন্দির হিসেবে বিধানসভাতেই এই রিপোর্ট পেশ করা যুক্তিযুক্ত বলে তিনি জানান।

রিপোর্টে কমিশন মোট ৪৪ জনকে তলব করার কথা উল্লেখ করেছে বলে জানান শুভেন্দু। তলবপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রয়াত বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, মণীশ গুপ্ত, এন কৃষ্ণমূর্তি, তুষারকান্তি তালুকদার, বিমান বসু, সোমেন্দ্রনাথ মিত্র, প্রদীপ ভট্টাচার্য, মদন মিত্র, সৌগত রায়-সহ তৎকালীন প্রথম সারির রাজনৈতিক নেতারা ছিলেন। তবে শুভেন্দু অভিযোগ করেন, ‘‘তৎকালীন আন্দোলনকারী মূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কমিশন ডাকার প্রয়োজনই মনে করেনি।’’ তিনি দাবি করেছেন, সবথেকে বড় সাক্ষী মমতাকেই কমিশনের মুখোমুখি হতে হয়নি। মমতাই হয়তো বলে দিয়েছিলেন যে তাঁকে যেন ডাকা না হয়। মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় বলেন, ‘তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর স্বরাষ্ট্রসচিব মণীশ গুপ্তর নির্দেশে গুলি চালানো হয়েছিল বিক্ষোভকারীদের উপরে।’ ওই ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত মণীশ গুপ্তকে মন্ত্রীও করেছিলেন মমতা। এমনকী, সেই ঘটনার তদন্ত করার জন্য বহু নথি পূর্বতন সরকার কমিশনের হাতে তুলে দেয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তৎকালীন বিদ্যুৎমন্ত্রী বা প্রশাসনিক শীর্ষ পদস্থ কর্তাদের বাঁচাতে ফাইল ও নথি গায়েব করা হয়েছে। কমিশন স্পষ্ট ভাবে জানিয়েছে, মহাকরণ থেকে বহু দূরে (মেয়ো রোড, রেড রোড, ডোরিনা ক্রসিং, এসপ্ল্যানেড) অবস্থানরত জনতার উপর গুলিচালনা সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়, উস্কানিবিহীন ও অযৌক্তিক ছিল।

২১ জুলাইয়ের ঘটনায় নিহত পরিবারকে ২৫ লক্ষ এবং আহতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকার সুপারিশ করা হয়েছিল। সেই সুপারিশ পূর্বতন সরকার মানেনি বলেও দাবি করা হয়। নিহতদের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা ও আহতদের পরিবারকে ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় জানান, নিহত বা আহতদের পরিবার চাইলে বর্তমান রাজ্য সরকার মুখ্যমন্ত্রী রিলিফ ফান্ড থেকে তাঁদের বাকি ক্ষতিপূরণ দেবে।

২১ জুলাইয়ের রিপোর্ট ছাড়াও তাঁর কাছে আমপানের ক্যাগ রিপোর্ট এবং কোভিডকালীন মেডিক্যাল সরঞ্জাম কেনার দুর্নীতি সংক্রান্ত একাধিক চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট হাতে এসেছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। আগামী দিনে বিধানসভার টেবিলেই সেই সমস্ত নথি জনসমক্ষে আনা হবে বলে তিনি ঘোষণা করেন।



 
 
 

Comments

Rated 0 out of 5 stars.
No ratings yet

Add a rating

Top Stories

প্রতিদিনের খবর এবং বিভিন্ন ফিচার ভিত্তিক লেখা, যেখানে খবরের সত্যতা তথা লেখনীর উৎকৃষ্টতা প্রাধান্য পায়। ফিচার ছাড়াও যে কোনও রকম লেখনী শুধুমাত্র উৎকৃষ্টতার নিরিখে গুরুত্ব পাবে এই সাইটে

Thanks for subscribing!

  • Whatsapp
  • Youtube
  • Instagram
  • Facebook
  • Twitter

The Conveyor

bottom of page