পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলায় ফেরাতে নতুন প্রকল্প ‘শ্রমশ্রী’ ঘোষণা
- The Conveyor
- Aug 18
- 2 min read

কলকাতা, ১৮ অগস্ট, ২০২৫: ভিন রাজ্যে থাকা পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলায় ফেরাতে নতুন প্রকল্প ‘শ্রমশ্রী’ ঘোষণা রাজ্যের। সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে এ কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য একটি পোর্টাল তৈরি হবে। তার নাম ‘শ্রমশ্রী’। সেখানে নাম নথিভুক্ত করলে পরিচয়পত্র পাবেন পরিযায়ী শ্রমিকেরা।
মুখ্যমন্ত্রী সোমবার বলেন, ‘‘বাংলায় যে ২২ লক্ষ ৪০ হাজার শ্রমিক বাইরে আছেন, তাঁরা সকলে ‘শ্রমশ্রী’র সুবিধা পাবেন। যাঁরা নাম নথিভুক্ত করেননি, তাঁরা নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘গত কয়েক দিনের মধ্যে যাঁরা রাজ্যে ফিরে এসেছেন, তাঁদের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। ‘শ্রমশ্রী’ পোর্টালে নাম তুললে তাঁদের একটা আইকার্ড দিয়ে দেওয়া হবে। এর ফলে রাজ্য সরকারের সুযোগসুবিধা পাবে।’’ রাজ্যে ফিরে যতদিন না তাঁরা কাজ পাচ্ছেন, ততদিন তাঁদের মাসে ৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। শ্রম দফতর থেকে প্রতি মাসে ৫০০০ টাকা, খাদ্য সাথী কার্ড দেওয়া হবে। যতদিন না পর্যন্ত কাজ পাবেন, ততদিন পর্যন্ত এই ভাতা চলবে। রেশন কার্ড, স্বাস্থ্যসাথী কার্ডও দেওয়া হবে তাঁদের।
ভিন রাজ্যে বাংলায় কথা বলে এই রাজ্যের শ্রমিকরা হেনস্থার মুখে পড়েছেন বলে অভিযোগ। সেই আবহেই এই নতুুন প্রকল্প আনলেন মমতা। এককালীন যাতায়াত-বাবদ ভাতা পাবেন তাঁরা। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যে ফিরিয়ে এনে স্বাবলম্বী করানোর লক্ষ্যেই এই প্রকল্প। ফিরে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রয়োজনে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, অন্য কোনও কাজে নিয়োগ করা হবে। শ্রম দফতর এই প্রকল্পের নোডাল ডিপার্টমেন্ট হবে।
কিন্তু রাজ্য সরকারের ‘কর্মসাথী’ নামের একটি পোর্টাল রয়েছে। সেটিও পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য নির্দিষ্ট। ‘কর্মসাথী’র সঙ্গে নতুন ‘শ্রমশ্রী’র ফারাক ঠিক কি, প্রকল্পে ঠিক কি রয়েছে, সে সম্পর্কে সোমবার বিকেল পর্যন্তও শ্রম দফতরের প্রথম সারির আধিকারিকেরা ওয়াকিবহাল নন। তবে চারদিকে বিভিন্ন ব্যাপারে এই যে ভাতার প্রচলন, তাতে করে আদৌ কী রাজ্যের নাগরিকদের আদপেই লাভ হচ্ছে, নাকি পুরোটাই ভোট টানার একটা কৌশল? ক'দিন বাদে এই ভাতাও আবার বন্ধ হয়ে যাবে না তো? রাজ্যে কী এত শ্রমিকদের কাজ দেবার মত আদৌ কোনও কাজ রয়েছে? নাকি কোনওমতে ভাতের জোগাড় করতেই হিমশিম খেতে হবে তাদের? সময় বলবে।













Comments