top of page

পরিবেশ নিয়ে এই মুহূর্তে সচেতন না হলে ঘনিয়ে আসছে বিপদ- জানাচ্ছে নেচার পত্রিকার গবেষণা


কলকাতা, ৫ জুন: প্রতি বছর ৫ জুন ধুমধাম করে পালিত হয় বিশ্ব পরিবেশ দিবস। পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গার পাশাপাশি ভারতেও এ নিয়ে যথেষ্ট আলোচনাসভা, বিভিন্ন জায়গায় সেমিনার প্রভৃতি হয়। কিন্তু সত্যিকারের কাজের কাজ হচ্ছে কতটা, তা কী আমরা ভেবে দেখেছি? সম্প্রতি নেচার পত্রিকায় একটি লেখা বেরিয়েছে, যা নিয়ে আলোড়ন পড়ে গেছে। পৃথিবীর আটটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে ওই গবেষণা করা হয়। তাতেই আগামী দিনের সম্ভাব্য বিপদ সম্পর্কে সাবধান করলেন গবেষকরা।

আগামী দিনে পৃথিবী বাসযোগ্য থাকবে কি না, তা নির্ভর করছে আটটি গুরুত্বপূর্ণ দিকের উপর। এদের বলা হচ্ছে 'আর্থ সিস্টেম বাউন্ডারি' বা বিশ্ব ব্যবস্থার সীমানা। এগুলি লঙ্ঘন করলে বিপদের আশঙ্কা জোরালো হয়। কিন্তু এগুলি লংঘিত হচ্ছে- এমনই ইঙ্গিত দিচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। প্রাণীদের বেঁচে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ আটটি ব্যবস্থার যে তালিকা তা হল - জলবায়ু পরিবর্তন, ওজোন স্তরের ক্ষয়, পরিবেশে অ্যারোসল দূষকের উপাদান বৃদ্ধি, সমুদ্রের জলের অ্যাসিডিক হয়ে যাওয়া, জৈব ভূরাসায়নিকের পরিমাণ বৃদ্ধি (এর মধ্যে দুটি প্রধান রাসায়নিক নাইট্রোজেন ও ফসফরাসকে ধরা হচ্ছে), পরিষ্কার জলের ব্যবহার, মাটির ক্ষয়, জীববৈচিত্রের ক্ষয়, নতুন ধরনের জীবের উৎপত্তি। বেশ কিছু বিষয়ের উপর নির্ভর করে এই বিষয়গুলির প্রতিটির মাপ।

শিল্প বিপ্লবের আগের তুলনায় পৃথিবীর স্বাভাবিক উষ্ণতা বর্তমানে অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। বিজ্ঞানীদের কথায়, পৃথিবীর গড় উষ্ণতা এক ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বৃদ্ধি নিরাপদ এবং ন্যায্য। কিন্তু দেখা গিয়েছে, গড় উষ্ণতা দেড় ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বেড়ে গিয়েছে। ওই গবেষণা পত্রের দাবি, মোট আটটির মধ্যে সাতটি বিষয়েই মানুষ সীমানা লঙ্ঘন করে গিয়েছে। ক্ষয় হচ্ছে ওজোন স্তরের। ওজোন স্তরে গর্ত তৈরি হয়েছে। এর ফলে সূর্যের ক্ষতিকারক ইউভি রশ্মি পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে প্রবেশ করছে। আবার বর্জ্য পদার্থ সঠিকভাবে নিষ্কাশন না হওয়ায় জল ও মাটির দূষণ দিন দিন বেড়ে চলেছে। বেড়ে চলেছে গ্রিন হাউস গ্যাসের মাত্রা। যা বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ। সব মিলিয়ে সাতটি সীমানা লঙ্ঘনের ফলে মানুষের জীবনযাপনেও অনেকটা প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এই মুহূর্তে এনিয়ে সচেতন না হলে অচিরেই বড় বিপদ ঘনিয়ে আসতে পারে বলে সাবধান করছেন গবেষকরা।

এদিকে এবারের বিশ্ব পরিবেশ দিবসের থিম হল "BeatPlasticPollution." ১৯৭৩ সালে শুরু হওয়া বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালনের এ বছর ৫০ তম বর্ষপূর্তি উদযাপন হচ্ছে। ইকো-ফ্রেন্ডলি সমস্ত জিনিসের ব্যবহার করে পরিবেশকে সবুজ এবং পরিষ্কার রাখার অঙ্গীকার করতে বলা হচ্ছে এই ৫০ তম বর্ষ পূর্তিতে।


Top Stories

bottom of page