পড়ুয়াদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দিনভর উত্তেজনা রাঁচিতে, তীব্র সমালোচনা রাহুল গান্ধীর

জেপিএসসি এবং জেএসএসসি পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে সিবিআই তদন্তের দাবিতে সোমবার সকালে বিধানসভা অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন ছাত্ররা। ওই মিছিল ঠেকাতে জলকামান চালায় পুলিশ। লাঠিচার্জও হয়। ছোড়া হয় কাঁদানে গ্যাসও। এরই মধ্যে ব্যারিকেড ভেঙে বিধানসভার কাছাকাছি পৌঁছে যান আন্দোলনকারীরা। সেই থেকে বিধানসভা ভবনের বাইরে অবস্থান বিক্ষোভ করছিলেন তাঁরা। বিক্ষোভ-আন্দোলনের জেরে এ দিনের মতো মুলতুবি হয়ে যায় ঝাড়খণ্ড বিধানসভার অধিবেশন। মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে আটক হয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি আদিত্য সাহু এবং প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বাবুলাল মারান্ডি। ফলে ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঝাড়খণ্ডে রাজনৈতিক চাপও তুঙ্গে। মিছিলের আগে থেকেই রাঁচিতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছিল। প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় এবং ১,৫০০-র বেশি RAF, আইআরবি, জেলা পুলিশ ও কিউআরটি কর্মী মোতায়েন করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ব্যারিকেডের পাশাপাশি কাঁটাতারের বেড়াও ছিল।
দ্বিতীয় দফার লাঠিচার্জের পরে ফের সরকারকে নিশানা করেছেন আন্দোলনকারীরা। সোমবার ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের জন্মদিন। সে প্রসঙ্গ টেনে এক আন্দোলনকারী বলেন, “তিনি (হেমন্ত) জন্মদিনের অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ত। আর আমাদের এখানে ফেলে রেখেছেন। আমরা বৃষ্টিতে ভিজছি, এখানেই শুকোচ্ছি। তার উপরে লাঠিচার্জও হল। কী দারুণ এক উপহার পেলাম।” মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন এর আগে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের বার্তা দিয়েছেন। পাশাপাশি, বিজেপির পক্ষ থেকেও মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে এই ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখানো হয়। আবার রবিবার লাগাতার দুর্নীতির অভিযোগের মুখে পড়ে জেপিএসসি-র তিন সদস্য পদত্যাগ করেন। গত ২২ জুলাই পদত্যাগ করেছিলেন কমিশনের চেয়ারপার্সন এল খিয়াংতেও।
আন্দোলনের অন্যতম মুখ দেবেন্দ্রনাথ মাহাতোর অভিযোগ, পড়ুয়াদের আটকাতে যে ভাবে কাঁটাতারের ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছিল, তার দরকার ছিল না। তাঁর প্রশ্ন, ‘এটা কি পাকিস্তান, বাংলাদেশ বা চিনের সীমান্ত? নাকি অনুপ্রবেশকারী আটকাচ্ছে? এরা তো ছাত্র!’ তাঁর বক্তব্য, সরকারের সঙ্গে সংঘাত নয়, তাঁরা তাঁদের দাবির স্বীকৃতি চান।
এদিকে সোমবার এক্স হ্যান্ডেলে এক পোস্টে রাহুল গান্ধী স্পষ্ট জানান, 'ঝাড়খণ্ডে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের ওপর বলপ্রয়োগ করা ভুল। ছাত্রছাত্রীদের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে এবং একমাত্র আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান বেরিয়ে আসতে পারে।' তিনি ঝাড়খণ্ড সরকারকে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের বক্তব্য শুনে তাঁদের সমস্যার দ্রুত সমাধান করার আহ্বান জানান।









Comments