নগেন্দ্র রায় ওরফে অনন্ত মহারাজের ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান কেড়ে নিল রাজ্য সরকার

কলকাতা, ১৩ অগস্ট, ২০২৬: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের ফলে রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ নগেন্দ্র রায় ওরফে অনন্ত মহারাজের ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান কেড়ে নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বৃহস্পতিবারই নবান্ন থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে এ কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনন্ত আর নিজেকে ‘বঙ্গবিভূষণ’ বলতে পারবেন না। তৃণমূল আমলে বঙ্গ বিভূষণ সম্মান পেয়েছিলেন অনন্ত মহারাজ। ২০২৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি, নগেন্দ্র রায় ওরফে অনন্ত মহারাজকে বঙ্গ বিভূষণ সম্মান দিয়েছিল তৃণমূল সরকার।
সম্প্রতি অনন্ত মহারাজ যেভাবে নেতাজি সম্পর্কে একের পর এক কুরুচিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে পদক্ষেপ করল রাজ্যের বিজেপি সরকার। এদিন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য এবং সংস্কৃতি দফতরের তরফে জারি করা নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ‘রাজ্য ও তার জনগণের প্রতি তাঁর বিশিষ্ট ও অনুকরণীয় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মান প্রদান করা হয়েছিল। এবং যেহেতু, সম্মানটি প্রদানের পরবর্তী সময়ে এমন কিছু ঘটনা ও পরিস্থিতি প্রকাশ্যে এসেছে/সরকারের নজরে এসেছে, যা সরকারের বিবেচনায় এতটাই গুরুতর ও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ যে, শ্রী নগেন্দ্র রায় ওরফে অনন্ত মহারাজকে এই সম্মান প্রদান অব্যাহত রাখা উচিত কিনা এবং এই সম্মান বজায় রাখা সম্মানের মর্যাদা, মর্যাদাসম্পন্ন প্রকৃতি ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।’ নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, ‘যেহেতু, ওই বিবেচনার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, শ্রী নগেন্দ্র রায় ওরফে অনন্ত মহারাজের ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান বহাল রাখা এই সম্মানের মর্যাদা, মর্যাদাসম্পন্ন প্রকৃতি ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়; অতএব, পশ্চিমবঙ্গ সরকার এতদ্বারা ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে শ্রী নগেন্দ্র রায় ওরফে অনন্ত মহারাজকে প্রদান করা ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মান অবিলম্বে প্রত্যাহার ও বাতিল করছে।’ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এর পর থেকে ‘বঙ্গবিভূষণ’ হিসেবে কোনও সুযোগসুবিধা তিনি আর পাবেন না। সংশ্লিষ্ট তালিকা থেকে তাঁর নাম মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কর্তৃপক্ষকে।

গ্রেটার কোচবিহার আন্দোলনের নেতা অনন্ত মহারাজ। সম্প্রতি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছিলেন তিনি। নেতাজির তৈরি আজাদ হিন্দ ফৌজকে নিয়েও মন্তব্য করেছিলেন তিনি। তার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় অনন্ত মহারাজের অনুরাগীদের একাংশ নানা অপমানজনক মন্তব্য ও মিম পোস্ট করতে থাকেন। নেতাজিকে নিয়ে নানা কটূক্তিও করা হয়। তা নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছিলেন বিজেপিরই একাংশ। অনন্ত দাবি করেন, ভারতের স্বাধীনতায় নেতাজির কোনও ভূমিকা ছিল না। এমনকি, আজাদ হিন্দ ফৌজের অপব্যবহার করেছিলেন নেতাজি, দাবি অনন্তের। এর পরেই বিতর্কের আগুনে ঘি পড়ে।
বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নবান্ন থেকে একটি সাংবাদিক বৈঠক করে জানান, নেতাজিকে নিয়ে কুমন্তব্য করলে কাউকে রেয়াত করা হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর উত্তর দিনাজপুরে বৃহস্পতিবার এক যুবককে গ্রেফতারও করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে নেতাজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্টের অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে নিজের অবস্থানে অনড় রাজ্যসভার বিজেপি সাংসদ অনন্ত মহারাজ। তাঁর দাবি, 'যে সময়ের কথা বলেছি, তখন আমার জন্ম হয়নি। আমি নেতাজিকে অপমান করিনি। কাউকে গালাগালও করিনি। নিজের মুখ থেকে কোনও মিথ্যা কথা বা মনগড়া রূপকথা বানিয়ে বলিনি। কারও নামে বদনামও করিনি। যেটা ইতিহাসের পাতায় রয়েছে, সেটাই সাধারণ মানুষকে বলেছি। শুধুমাত্র ঐতিহাসিক কিছু তথ্য সামনে তুলে ধরেছি। আমি অন্যায় করে থাকলে আইনি শাস্তি দেওয়া যেতেই পারে।'
রাজ্যের মানুষ চাইছে এই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হোক। দেখা যাক, কতদূর কি হয়।









Comments