দু'দিনের সফরে নয়াদিল্লি এসে পৌঁছলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন
- The Conveyor
- Dec 4, 2025
- 2 min read

৪ ডিসেম্বর, ২০২৫: বৃহস্পতিবারই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ভারতে এলেন ২৩তম বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বার্ষিক সম্মলনে যোগ দিতে। এই সফরে নয়াদিল্লি-মস্কো সম্পর্কের নতুন রূপরেখা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। এদিন সন্ধ্যায় তিনি নয়া দিল্লিতে বিমান থেকে নামলেন। ২০২১ সালে শেষ ভারতে এসেছিলেন পুতিন। দীর্ঘ ৪ বছর পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে ফের ভারতে এলেন তিনি। আর এই বছরই রয়েছে ভারত-রাশিয়া কৌশলগত অংশীদারিত্বের ২৫তম বার্ষিকী। সেই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে দুই দেশের ২৩তম দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ সম্মেলনও।
পালান এয়ারপোর্টে প্রোটোকল ভেঙে তাঁকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বিমান থেকে নেমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আলিঙ্গন করলেন রুশ প্রেসিডেন্ট। এয়ারপোর্টে একই গাড়িতে সওয়ার হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। প্রসঙ্গত SCO সামিটেও পুতিনের গাড়িতে একসঙ্গে ভ্রমণ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারি বাসভবনে হবে দুই নেতার ব্যক্তিগত নৈশভোজ। সেই সময় প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং পুতিন আঞ্চলিক ও বিশ্বের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করার সুযোগ পাবেন। গত বছর প্রধানমন্ত্রী মোদীর মস্কো সফরের সময় পুতিনও তাঁকে ব্যক্তিগত ডিনারে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, তারই প্রতিদান হিসেবে এই কর্মসূচি রাখা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পুতিনের মধ্যে বৈঠকের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, মার্কিন শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞা। বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনে হবে দুই নেতার ব্যক্তিগত নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং পুতিন আঞ্চলিক ও বিশ্বের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করবেন এমনই জানা যাচ্ছে। শুক্রবার সকালে পুতিনকে রাষ্ট্রপতি ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হবে ত্রিপক্ষীয় গার্ড অফ অনার প্রদানের মাধ্যমে। এরপর তিনি রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধির স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা জানাবেন। আর তারপরই হায়দরাবাদ হাউসে শুরু হবে ২৩তম ভারত-রাশিয়া দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ সম্মেলন। প্রধানমন্ত্রী মোদী ও রুশ প্রেসিডেন্টের এই বৈঠকে কোনও বড় ধরনের ঘোষণা বা চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, ও জ্বালানি-সহ গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলি দুই রাষ্ট্রনেতার আলোচনায় উঠে আসবে বলেই খবর। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে ভারতীয় কর্মীদের রাশিয়ায় কাজের সুযোগ বাড়াতে বিশেষ চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। এছাড়াও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার অংশ হিসেবে লজিস্টিক সাপোর্ট চুক্তিও হতে পারে। বাণিজ্য ক্ষেত্রে নতুন সহযোগিতা-বিশেষ করে ওষুধ, কৃষি, খাদ্যপণ্য ও ভোক্তা সামগ্রী রপ্তানি বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হবে।

ভারত ও রাশিয়া বাণিজ্য ঘাটতি পূরণের জন্য কাজ করছে। নয়াদিল্লি সামুদ্রিক পণ্য, আলু, বেদানা, প্রক্রিয়াজাত খাবার, ভোগ্যপণ্য এবং ওষুধের রফতানি বৃদ্ধির উপর জোর দিচ্ছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার সারের উপর ভীষণভাবে নির্ভরশীল ভারত। বছরে প্রায় ৩০ থেকে ৫০ লক্ষ টন আমদানি করা হয়। এ ক্ষেত্রে পারস্পরিক সমঝোতা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে কথা হবে উভয়ের মধ্যে। তবে দুই রাষ্ট্রনেতার বৈঠকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে চলেছে প্রতিরক্ষা। আরও উন্নত পর্যায়ের ব্রহ্মোস নিয়ে কথা বলতে পারেন তাঁরা। সেই সঙ্গে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০-এর বাকি দু’টি রেজিমেন্ট সরবরাহের বিষয়ে স্পষ্টতা চাইবে ভারত। শুক্রবার মধ্যাহ্নভোজের পর পুতিন অংশ নেবেন ইন্ডিয়া–রাশিয়া বিজনেস ফোরামের অনুষ্ঠানে। এখানে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য পুনরুজ্জীবিত করা নিয়ে আলোচনা হবে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি মুর্মু পুতিনের সম্মানে বিশেষ নৈশভোজ আয়োজন করবেন। একই দিনে তিনি ভারতে রুশ রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারক নতুন ভারত চ্যানেল উদ্বোধন করবেন। রুশ প্রেসিডেন্টের সফর প্রায় ২৮ ঘণ্টা চলবে। শুক্রবার রাত ৯টায় তাঁর ভারতে সফরের সমাপ্তি ঘটবে।
অপরদিকে ভারত সফরে আসার আগেই ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রুশ সংবাদ সংস্থা ‘তাস’কে দেওয়া এক বিবৃতিতে পুতিন জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে তাঁর ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।













Comments