তৃণমূলের ২১ জুলাই সভার পাল্টা বিজেপির উত্তরকন্যা ঘেরাও- বাঙালি দিনভর পেল মুচমুচে খবর
- The Conveyor
- Jul 21
- 3 min read

কলকাতা, ২১ জুলাই, ২০২৫: যেমনটি ভাবা হয়েছিল, তেমনটাই হল। ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে আগামী বিধানসভা ভোটের দামামা বাজিয়েই দিলেন তৃণমূলের সর্বময় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ১৮ তারিখ দুর্গাপুরে সভা করতে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দাবি করেছিলেন, বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলেই আসল পরিবর্তন হবে৷ দুর্নীতি থেকে শুরু করে শিল্পের অভাব, বিভিন্ন ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছিলেন মোদি। এদিন একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে নাম না করেই প্রধানমন্ত্রীকে জবাব দিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাল্টা প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার অভিযোগে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী।
যুব কংগ্রেস নেত্রী হিসেবে ১৯৯৩- তে রাজপথে নেমে সচিত্র ভোটার কার্ডের দাবিতে লড়াই করেছিলেন। এবার তিনিই ৩২ বছর পরে ফের একুশের মঞ্চ থেকে মুখ খুললেন নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে। এ বার তাঁর নিশানায় সরাসরি নির্বাচন কমিশন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রবিবার ধর্মতলার সভা থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বাংলার একজনের নামও যদি ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে, তাহলে রাজপথে নামবে তৃণমূল। তিনি বলেন, দরকার হলে দিল্লিতে গিয়ে কমিশনের দফতর ঘেরাও হবে। তাঁর হুঁশিয়ারি, বাংলার স্বার্থে প্রয়োজনে কেন্দ্রকেরও চ্যালেঞ্জ জানাবে তৃণমূল। বিজেপির দাবি, বাংলায় নাকি ১৭ লক্ষ রোহিঙ্গা বসবাস করছে। অনুপ্রবেশ নিয়ে তাঁর প্রশ্ন, যেখানে রাষ্ট্রসংঘই বলছে, গোটা বিশ্বে রোহিঙ্গার সংখ্যা ১০ লক্ষের আশপাশে, সেখানে একমাত্র বাংলাতেই ১৭ লক্ষ রোহিঙ্গা নাকি বসবাস করছেন। এটা কীভাবে সম্ভব? বলেন, অনুপ্রবেশ যদি হয়, তাহলে সীমান্ত কে পাহারা দিচ্ছে? বিএসএফ, যারা কেন্দ্রীয় সরকারের অধীন। তাহলে দায় তো পড়ছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপর, রাজ্য সরকারের নয়।
এদিকে সোমবার মমতার স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে ফের আরও একটা নতুন স্লোগান শুনতে পেল বাংলা। ধর্মতলার শহিদ স্মরণ মঞ্চ থেকে নতুন স্লোগানে বিরোধীদের বার্তা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়— ‘জব্দ হবে, স্তব্ধ হবে’, ‘আমাদের দর্শন, তোমাদের বিসর্জন’। শুধু মমতা কেন, চমক ছিল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যেও। ধর্মতলার মঞ্চ থেকে অভিষেক ডাক দিলেন, ‘২০২১ এর আগে বলেছিলাম খেলা হবে, এ বার বলছি, পদ্মফুল উপড়ে ফেলা হবে’। অভিষেকের মুখে যখন এই আহ্বান, দর্শক আসন থেকে তখন হাততালির ঝড় উঠেছে। অনেক কর্মীকেই এ দিন নতুন স্লোগান দিতে দিতে সভাস্থল ছাড়তে দেখা গিয়েছে।
তবু কী কোথাও প্রশ্ন রয়েই গেল? আজকের তৃণমূলের ২১ জুলাইয়ের সমাবেশের পরিপ্রেক্ষিততে শিলিগুড়িতে বিজেপির উত্তরকন্যা ঘেরাও অভিযান সংঘটিত হল। শিলিগুড়িতে উত্তরকন্যা অভিযান থেকে পাল্টা শুভেন্দু বললেন, ‘ওঁরা সরাসরি নির্বাচন কমিশন, ভারতীয় সংবিধানকে আক্রমণ করছে। ওঁদের দলের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করে দেওয়া উচিত।’ সোমবার উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিজেপি কর্মী সমর্থকরা শিলিগুড়ি তিনবাতি মোড়ে এসে জমায়েত হন। সেখান থেকে মিছিল করে দলটি এসে পৌঁছয় ফুলবাড়ি চুনাভাটি ফুটবল মাঠে। মিছিলকে কেন্দ্র করে ছিল কড়া পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সকাল থেকে শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি জাতীয় সড়ক থেকে উত্তরকন্যায় ঢোকার রাস্তায় ব্যারিকেড করে দেয় পুলিশ। তিনবাতি মোড়, উত্তরকন্যা এলাকা ও সভাস্থল পুলিশের বড় বাহিনী মোতায়েন করে ঘিরে রাখা হয়।
সোমবার বিকেলে দিল্লিতে এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিচ্ছে তৃণমূল। ওদের আমরা তাড়াবই। অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গে তৃণমূলকে আক্রমণ শানান তিনি। বলেন, ‘যারা একসময় এদেশ ছেড়ে ওদেশে চলে গিয়েছিলেন তারা আবার ফিরে আসছেন। যারা এই দেশটাকে দার ইল হর্ব বলতেন, নাপাক বলতেন, যারা ওপারে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার করে আবার এখানে এসে ঢুকছেন, আমরা তাদের চিহ্নিত করতে চাই। তাদের ফেরত পাঠাতে চাই। ওপারে সংখ্যালঘুরা আক্রান্ত হচ্ছেন আর পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি সীমান্তবর্তী জেলায় সংখ্যালঘুরা উৎসব পালন করছে!’
রাজনৈতিকভাবে আজ উত্তরবঙ্গ তথা দক্ষিণবঙ্গ সরগরম হলেও আজকের হিরো কিন্তু কলকাতা পুলিশ, বলতেই হবে। শহরের রাস্তার স্বাভাবিক ছন্দ ধরে রাখার দায়িত্ব ছিল কলকাতা পুলিশের কাঁধে। আর সেই দায়িত্ব কলকাতা পুলিশ যথাযথভাবেই পালন করেছে। তা দেখে সন্তুষ্ট কলকাতা হাইকোর্ট। আর তার জন্য এজলাসে বসেই পুলিশের প্রশংসা করলেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। তাঁর মন্তব্য, ‘রাস্তা খুব সুন্দর মেনটেন হয়েছে।’ মিছিলের ভিড় থাকুক বা জনসভার, কলকাতা পুলিশ দেখাল, তারা শহর সচল রাখতে পারে। তৃণমূলের সমাবেশের কারণে নিত্যযাত্রীদের যাতে ভোগান্তির মুখে না-পড়তে হয়, পুলিশকে তা নিশ্চিত করতে বলেছিল কলকাতা হাই কোর্ট। বেলা ১১টার পর দেখা গেল, হাই কোর্টের সেই ‘পরীক্ষা’য় সসম্মানে পাশ করেছে কলকাতা পুলিশ। বস্তুত, সভা শুরু হওয়ার আগের মতোই সভা ভাঙার পরেও কলকাতা, বিশেষত মধ্য কলকাতায় যানজট নজরে পড়েনি। রাস্তায় প্রচুর পরিমাণে পুলিশ সকাল থেকেই ছিল। অনেকে বলছেন, পরোক্ষে হলেও অন্তত তিনটি বিষয়ে কলকাতা পুলিশ সুবিধা পেয়েছে। প্রথমত, তৃণমূলের সমাবেশের জন্য রাস্তায় সাধারণ যানবাহন অনেক কম ছিল। অনেকে রাস্তায় বেরিয়ে যানবাহন পাননি। বাস, অটো ছিলনা বললেই চলে। প্রাইভেট কারের সংখ্যাও ছিল অন্যান্য দিনের তুলনায় কম। খুব সহজে মেলেনি অ্যাপ ক্যাবও।













Comments