তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার ৬ দিনের ইডি হেফাজত
- The Conveyor
- Aug 25, 2025
- 3 min read

কলকাতা, ২৫ অগস্ট, ২০২৫: সোমবার বিকেলে তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার ৬ দিনের ইডি হেফাজত মঞ্জুর করল ব্যাঙ্কশাল আদালত। এবার ইডির হাতে গ্রেফতার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা। ২০২৩ সালে সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন তিনি। এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রায় মিনিট পনেরোর ছোটাছুটি, কাদা মাখামাখির পর অবশেষে রণে ভঙ্গ দেন বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা।
আগের বার সিবিআই যখন তাঁর বাড়িতে হানা দিয়েছিল, তখন পুকুরে মোবাইল ছুড়ে ফেলেছিলেন। সেই মোবাইল অবশ্য উদ্ধার হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ একবছরেরও বেশি সময় জেলে ছিলেন তিনি। আর আজ ইডি তাঁর বাড়িতে হানা দিতেই নাকি নর্দমায় ছুড়ে ফেলেন মোবাইল ফোন। শুধু তাই নয়, হাফপ্যান্ট পরিহিত অবস্থাতেই ছুটে পালানোরও নাকি চেষ্টা করেছিলেন তৃণমূল বিধায়ক। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা তাঁকে ধরে ফেলেন।
এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের সক্রিয় হয়েছে ইডি। আজ সকাল সকাল কলকাতা, মুর্শিদাবাদ, বীরভূমের একাধিক জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালান ইডির আধিকারিকরা। জানা গিয়েছে, তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা এবং তাঁর পিসির বাড়িতে হানা দিয়েছেন তদন্তকারীরা। এর আগে এসএসসি নিয়োগ মামলায় জীবনকৃষ্ণ গ্রেফতার হয়েছিলেন। আপাতত সেই মামলায় তিনি জামিনে মুক্ত। গত আড়াই বছরে এই নিয়ে দু’বার তাঁকে দৌড়তে দেখল গোটা রাজ্য। দু’বারই কেন্দ্রীয় সংস্থার তাড়া খেয়ে। বছর দুয়েক আগে তিনি সিবিআইকে দেখে পর পর দু’টি মোবাইল অবলীলায় পুকুরে ফেলে দিয়েছিলেন। এ বার পকেট থেকে বার করে মোবাইল ছুড়়ে দিলেন নর্দমায়। নিখুঁত লক্ষ্য। অনেকে অবশ্য বলছেন, এ বার ফোন ফেলেননি জীবনকৃষ্ণ। বরং দৌড়তে গিয়ে কাদায় এমন হোঁচট খেয়েছেন যে, পকেট থেকে ছিটকে মোবাইল নিজেই গিয়ে পড়েছে নর্দমায়!
ছুটোছুটি দেখতে আট-সকালেও রাস্তার দু’পাশে লোকজন জড়ো হয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু ‘তামাশা’ বেশি ক্ষণ স্থায়ী হল না। কাদায় হোঁচট খেয়েই রণে ভঙ্গ দিতে হল বিধায়ককে। পিছন থেকে এত ক্ষণ হয়তো মারধরের হুমকি আসছিল। পড়ে গিয়ে কাতর আর্তি করে উঠলেন জীবনকৃষ্ণ, ‘‘মারবেন না, আমাকে মারবেন না।’’ এদিকে দু’টি মোবাইলের পাসওয়ার্ড ইডিকে বলতে চাননি জীবনকৃষ্ণ। নিজেও ফোন খুলে দিতে চাননি। ফোন দু’টি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ১২টা ৩৫ মিনিট নাগাদ ইডি জীবনকৃষ্ণকে গ্রেফতার করে গাড়িতে তোলে।
এদিকে সাঁইথিয়ার তৃণমূল কাউন্সিলর তথা জীবনকৃষ্ণের পিসির এই নিয়োগ দুর্নীতির সঙ্গে কী যোগ, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে সেখানে ইডি নাকি তল্লাশি চালাচ্ছে। মায়া সাহার বাড়ির সামনে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে এই তল্লাশি অভিযান সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত মায়া বা জীবকৃষ্ণ ঘনিষ্ঠের কারও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
বিকেলে জীবনকৃষ্ণ সাহাকে নিয়ে আসা হয়েছে বিধাননগর সাব ডিভিশন হাসপাতালে। শারীরিক পরীক্ষার জন্যেই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে ৪৬ লক্ষ টাকা তুলেছেন বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা। আদালতে এমনটাই দাবি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের। সন্ধ্যায় তাঁকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হয়। তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায় ইডি। দীর্ঘ শুনানি শেষে ধৃত তৃণমূল বিধায়কের ছয়দিনের ইডি হেফাজত মঞ্জুর করে ব্যাঙ্কশাল আদালত। তবে এদিন জামিনের জন্য আবেদন জানাননি জীবনকৃষ্ণ। তবে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন জানান। কিন্তু আদালত সেই দাবি খারিজ করে দেয়। আইনজীবী মারফৎ ইডি আদালতে জানায়, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে বাজার থেকে মোট ৪৬ লক্ষ টাকা তুলেছেন বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক। যার মধ্যে বিধায়কের স্ত্রীয়ের অ্যাকাউন্টে গিয়েছে ২৬ লক্ষ টাকা এবং বাকি ২০ লক্ষ টাকা বাবার অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছিলেন। প্রসঙ্গত এদিন অ্যাকাউন্টে মোটা অঙ্কের লেনদেন নিয়ে ধৃত বিধায়কের স্ত্রীকেও জেরা করে ইডি। শুধুমাত্র বেতন থেকে এই লেনদেন সম্ভব? এই বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে তদন্তকারীদের জানান। এমনকী জীবনকৃষ্ণের বাবার অ্যাকাউন্টে বিপুল অঙ্কের লেনদেন নিয়েও জেরা হয় বলে ইডি সূত্রে খবর। আগামী শনিবার ফের তাঁকে তোলা হবে ব্যাঙ্কশাল আদালতে।
শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়ে বলেন, ‘‘জীবনকৃষ্ণ সাহা ছিল পার্থ চ্যাটার্জি..কালীঘাটের কাকু, মানিক ভট্টাচার্যের অন্যতম বড় এজেন্ট। বীরভূম আর মুর্শিদাবাদের তালিকা ধরে টাকা তোলা, টাকা পৌঁছে দেওয়া এবং টাকার একটা অংশ রাখা, এই কাজ জীবনকৃষ্ণ সাহা করতেন।’’
এদিকে তাঁর "গ্রেপ্তারির নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন" খোদ বিধায়ক। সোমবার বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে শারীরিক পরীক্ষার পর বেরনোর সময় এমনই দাবি করেন তিনি।













Comments