তহবিল তছরুপ- তৃণমূলের প্রায় ৪৪০ কোটি টাকার বেশি গচ্ছিত থাকা একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করল ইডি
- The Conveyor
- 4 days ago
- 2 min read

কলকাতা, ৮ জুলাই, ২০২৬: তৃণমূলের প্রায় ৪৪০ কোটি টাকার বেশি গচ্ছিত থাকা একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। দলের অ্যাকাউন্ট থেকে ‘কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন’ চার্টার বিমান সংস্থাকে কপ্টার এবং বিমান কেনার জন্য কোটি কোটি টাকা ট্রান্সফার করেছিল তৃণমূল। তার পর সেই কপ্টার এবং বিমানই ‘ভাড়া’ নিয়ে টাকা দিয়েছিল তারা। এই নিয়ে তৃণমূলের তরফে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, বিমান পরিবহণ সংক্রান্ত সংস্থা কেয়ারওয়েল গ্রুপ অব কোম্পানিজ-কে ঘিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত চলছে। তদন্তে উঠে এসেছে, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে তৃণমূল-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি থেকে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন ইন্ডিয়া প্রাইভেট লিমিটেড এবং সংশ্লিষ্ট একটি সংস্থার অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। তদন্তের সূত্রে জানা গিয়েছে, সেই টাকা দিয়েই কেনা হয় কপ্টার, বিমান যা ‘ভাড়া’ দেওয়া হয়েছিল তৃণমূলকেই। সূত্রের খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো ভিভিআইপি-দের বিমান ভাড়া দিত এই সংস্থাটি। মঙ্গলবার তাদের দফতরেই তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই চার্টার বিমান সংস্থা ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ৮২.৯৬ কোটি টাকা নতুন তৈরি এক সংস্থাকে ট্রান্সফার করা হয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ, হেলিকপ্টার কেনার অর্থের একটি অংশ বিদেশি উৎস থেকে এলেও অধিকাংশ অর্থই এসেছে তৃণমূল-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, বিমান ও হেলিকপ্টার কেনার পর সেগুলি আবার তৃণমূলকেই লিজ দেওয়া হয়েছিল কি না। অভিযোগ, পরে ওই উড়ানযান ব্যবহারের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থও প্রদান করা হয়েছে।
গত ১৮ জুন বিধাননগর সাইবার থানায় অভিযোগ দায়ের করেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক বিধায়ক। তাঁর অভিযোগ, বড় ধরনের সাইবার প্রতারণার টাকা কিছু ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করেছে। তার মধ্যে তৃণমূলের কিছু ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন তিনি। তার পরেই পুলিশ এফআইআর দায়ের করে। অপরদিকে দলের অভ্যন্তরীণ টানাপড়েনের কথা উল্লেখ করে তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ় করার আবেদন জানিয়েছিলেন প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস। পরে এই মামলার তদন্ত শুরু করে ইডি।









Comments