ছাত্র বিক্ষোভের আঁচ ধীরে ধীরে সারা দেশে, আগামীকাল এসএফআই শহরে মিছিল করবে, সিজেপি-র তরফেও বিক্ষোভ মিছিলের অনুমতি চাওয়া হয়েছে
- The Conveyor
- Jul 23
- 2 min read

কলকাতা, ২৩ জুলাই, ২০২৬: দিল্লির ছাত্র বিক্ষোভের আঁচ ধীরে ধীরে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। কলকাতাতেও নিট-কাণ্ডে বিক্ষোভ কর্মসূচির প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআই শুক্রবার শহরে মিছিল করবে। দেশ জুড়ে ছাত্র ধর্মঘটেরও ডাক দিয়েছে তারা। এ ছাড়া, সিজেপি-র তরফে শুক্রবার কলকাতায় বিক্ষোভ কর্মসূচির অনুমতি চেয়ে পুলিশকে ইমেল পাঠানো হয়েছে বলে খবর।
এই বিষয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে অবস্থান স্পষ্ট করল রাজ্য বিজেপি। তাপস ছাড়াও সাংবাদিক বৈঠকে ছিলেন বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার, মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক বিমলশঙ্কর নন্দ এবং যুব মোর্চার রাজ্য সাধারণ সম্পাদক আশিস বিশ্বাস। প্রশ্নফাঁসের বিষয়ে সরকারের ‘বিচ্যুতি’ মেনে নিয়েছেন তাঁরা। তবে তাঁদের বক্তব্য, সরকার প্রশ্নফাঁস নিয়ে কঠোর পদক্ষেপ করেছে। তাপসের কথায়, ‘‘প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের পরে ভারত সরকার যে রকম কঠোর পদক্ষেপ করেছে, তা আগে কখনও দেখিনি। তা সত্ত্বেও অশান্তির চেষ্টা হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার অন্য কিছু জায়গায় যে রকম পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল, এখানেও তেমনই করার চেষ্টা হচ্ছে। বিদেশ থেকে টাকা ঢুকছে। পশ্চিমবঙ্গে এমন কোনও ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা হলে আমরা ঘটতে দেব না। পুলিশ, প্রশাসন সতর্ক আছে।’’
উল্লেখ্য, প্রশ্নফাঁস নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে মুখ খুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্বয়ং। জানিয়েছেন, এই ঘটনায় অভিযুক্তদের শাস্তি নিশ্চিত করতে ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠন করা হবে। তিনি সেই সঙ্গেই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, 'যারা দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না।' শুক্রবার কলকাতায় সিজেপি এবং এসএফআই-এর বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রসঙ্গে তাপস বলেন, ‘‘কেউ চাইলে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করতেই পারে। কিন্তু সেখান থেকে অশান্তির চেষ্টা করা হলে সরকার যা করার করবে।’’ এই বিষয়ে বলতে গেলে, অবশ্যই আন্দোলন সব সময় শান্তিপূর্ণ হওয়া উচিত। তাতে যেন অহেতুক আইন ভাঙা বা উত্তেজনামূলক আচরণ না থাকে সেটাই বাঞ্ছনীয়।
গত ২০ জুলাই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে ‘সংসদ চলো’ অভিযান করেছিলেন ছাত্র-যুবরা। সেই মিছিলে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে পড়ুয়াদের উপর নির্মম ভাবে লাঠিচার্জ এবং কাঁদানে গ্যাস ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ‘পুলিশি দমনপীড়নের’ প্রতিবাদে এ বার সরব হলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের একাংশ। শীর্ষ আদালত চত্বরে সম্মিলিত ভাবে সংবিধানের প্রস্তাবনা পাঠ করেন তাঁরা। গাওয়া হয় জাতীয় সঙ্গীতও। ঘটনাচক্রে, বুধবার রাতেও যন্তর মন্তরে পড়ুয়াদের পুলিশ পিটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে আইনজীবীরা ছাত্রছাত্রীদের প্রতিবাদের সময়ে পুলিশি হামলার প্রমাণ হিসেবে ভিডিয়ো দেখাতে চাইলে প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, ‘আমরা ভিডিয়োতে আগ্রহী নই। আমাদের ওই সব দেখার সময়ও নেই।’ প্রধান বিচারপতি আইনজীবীদের বলেন, ‘আমাদের ও আপনাদের সময় নষ্ট করবেন না। আপনাদের সময় আমাদের থেকেও মূল্যবান।’ প্রধান বিচারপতির আলটপকা মন্তব্য মোটেই শোভন নয়। দেশের নতুন প্রজন্মের প্রতি এমন অবহেলা দেশের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির পক্ষে নিজের পদেরই অবমাননা বলে মনে হয়।
অন্যদিকে যন্তর মন্তরের প্রতিবাদের জায়গা থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো দিল্লির অ্য়াডিশনাল ডিসিপি (উত্তর-পূর্ব) সন্দীপ লাম্বাকে। জানা গেছে, ককরোচ জনতা পার্টির সোমবারের 'চলো সংসদ' অভিযানের সময়ে ওই পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারী এক মহিলাকে চড় মারার অভিযোগ ওঠে। সেই ভিডিও ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। সূত্রের খবর, সেই ঘটনার জেরেই দিল্লি, আন্দামান ও নিকোবর আইল্যান্ড পুলিশ সার্ভিসের অফিসার সন্দীপ লাম্বাকে বিক্ষোভস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।









Comments