খবরে তৃণমূল- ২১ জুলাই আলাদা আলাদা করে সকলকেই সভা করার অনুমতি, শিবির পাল্টালেন মদন
- The Conveyor
- Jul 15
- 2 min read

কলকাতা, ১৫ জুলাই, ২০২৬: বর্তমানে তৃণমূল দলটি বিভক্ত হয়ে গিয়েছে। একদিকে রয়েছেন দলের প্রতিষ্ঠাতা নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীরা৷ অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়কদের দল৷ আবার, বিদ্রোহী সাংসদরা বিভক্ত হয়ে গিয়ে তৈরি হয়েছে NCPI, যার নেতৃত্বে রয়েছেন কাকালী ঘোষ দস্তিদার৷ এবারে কালীঘাট অর্থাৎ আদি তৃণমূল এবং ঋতব্রত নির্মিত নব্য তৃণমূল রাজ্যে ২১ জুলাইয়ের সভা নিয়ে যথেষ্ট চাপান-উতোরে রয়েছে। ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে কেউই ২১ জুলাইয়ের সভা করতে পারবেনা দিয়েছে পুলিশ। ঋতপন্থীরা ২১ জুলাই পালন করতে চলেছেন ধর্মতলায়। পুলিশের পক্ষ থেকে অনুমতিও মিলেছে। অপরদিকে কালীঘাট তৃণমূলকে ২১ জুলাই কর্মসূচির জন্য স্থান নির্দিষ্ট করে দিল কলকাতা হাই কোর্ট। এই দ্বন্দ্বের সুযোগে কংগ্রেস নেমে পড়েছে ময়দানে। সেই ২১ জুলাইয়ে মারা গিয়েছিলেন তৎকালীন কংগ্রেসের লোকজন, ফলে কংগ্রেসের একটা অধিকার থেকেই যায়। তাই তারাও এবারে শহীদদের স্মরণ করবে। শহিদ মিনারে করবেন তাঁরা ২১ জুলাইয়ের সভা।
প্রশ্ন উঠছে, মমতাত্যাগী বিদ্রোহী সাংসদদেরকে কী সভায় আমন্ত্রণ জানাবেন ঋতপন্থী বিদ্রোহী বিধায়করা? বুধবারের বৈঠক থেকে নব্য তৃণমূল, জানিয়ে দিল বিদ্রোহী সাংসদরা আলাদা দল। ঋতপন্থী তৃণমূলের বার্তা, ‘‘NCPI ও এআইটিসি আলাদা দল। ফলে সাংসদদের ২১ জুলাইয়ের সভায় ডাকা হবে না’’৷ এখন তাঁরা অর্থাৎ সেই বিক্ষুব্ধ সাংসদেরা কিভাবে এই সভায় নিজেদের সামিল করেন, সেটা দেখার বিষয়।
অন্যদিকে আদি তৃণমূলীদের বুধবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানান, অনধিক তিন হাজার লোক নিয়ে ওই কর্মসূচি পালন করা যাবে। বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনে এক দিকের রাস্তা ব্যবহার করে কর্মসূচি করতে পারবে কালীঘাট তৃণমূল। অন্য দিকের রাস্তা দিয়ে গাড়ি চলাচল করবে। আদালত জানিয়েছে, দুপুর ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টে পর্যন্ত করা যাবে ওই কর্মসূচি। এছাড়াও কালীঘাট তৃণমূলকে ১৮ জুলাই বিকেল ৪টের মধ্যে ২০ জন স্বেচ্ছাসেবকের নাম পুলিশের কাছে জমা দিতে হবে। অন্য দিকের রাস্তা দিয়ে যান চলাচল নিশ্চিত করবেন ওই স্বেচ্ছাসেবকেরা।
এদিকে ২১ জুলাইয়ের সমাবেশ সফল করতে ছ’টি জেলার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বধীন তৃণমূল শিবির। সেই উদ্দেশ্যে বুধবার শুরু হয়েছে সাংগঠনিক প্রস্তুতি। কলকাতা উত্তর, কলকাতা দক্ষিণ, নদিয়া, হাওড়া, হুগলি এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা— এই ছয় জেলার নেতাদের উপর বিশেষ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে বলে ঋতব্রত গোষ্ঠীর একটি সূত্র জানিয়েছে। একটি মামলার শুনানিতে রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, মেয়ো রোডে গাঁধী মূর্তির পাদদেশে ঋতব্রত শিবিরের ২১ জুলাই কর্মসূচির জন্য ৭০০-৮০০ জনের জমায়েতের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য সরকার বুধবার হাইকোর্টে জানিয়েছে, ২১ জুলাই শহিদ মিনারে কংগ্রেসের কর্মসূচিতে ১০ হাজারের অনুমতি নেওয়া হয়েছে।
এত কিছুর মাঝে বুধবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া সমস্ত পদ ছেড়ে ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিলেন মদন মিত্রও। শিবির বদলে মদন মিত্র বলেন, ‘তৃণমূলে ছিলাম, তৃণমূলেই রইলাম। শুধু ও ঘর থেকে এ ঘরে এলাম। ও ঘরে সুখের পালঙ্ক ছিল, এ ঘরে খাটিয়া আছে।’ সম্প্রতি কালীঘাট তৃণমূলের তরফে মদন মিত্রকে রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক, হকার ইউনিয়নের সভাপতি, দমদম-ব্যারাকপুর জেলা সভাপতি করা হয়। এ দিন তিনটি পদই ছেড়েছেন তিনি। বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা শুরুর দিন থেকেই বলেছি, এ লড়াই আধিপত্যবাদ কায়েম করার চেষ্টার বিরুদ্ধে কালেক্টিভের লড়াই। আমরা একটা কালেক্টিভ, সেটাই আমাদের পরিচয়। মদন মিত্রের মতো বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, দীর্ঘদিনের বিধায়ক, প্রাক্তন মন্ত্রী এই কালেক্টিভে যুক্ত হওয়ায় আমাদের কালেক্টিভ আরও শক্তিশালী হলো।’









Comments